একজন ব্যবসায়ী সুদমুক্ত বা সুদযুক্ত ঋণ নিয়ে ব্যবসা করলে তার দোকানে চাকরি করা কি বৈধ?
Halal and Haram · Hanafi
Question
Answer
বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
সংক্ষিপ্ত শরয়ী সিদ্ধান্ত:
লবণ, মুদি বা যেকোনো হালাল পণ্যসামগ্রীর দোকানে যদি পণ্য কেনাবেচা ও আপনার চাকরির দায়িত্ব মৌলিকভাবে হালাল হয়, তবে দোকানমালিক লোন নিয়ে ব্যবসা শুরু করে থাকলেও উক্ত দোকানে চাকরি করা এবং সেখান থেকে বেতন গ্রহণ করা শরীয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ জায়েয ও হালাল [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৫শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১০২; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৭শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৪৪; দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ২১৭]।
বিস্তারিত ফিকহী ব্যাখ্যা:
১. লোনের গুনাহ ও দায়-দায়িত্ব মালিকের ওপর:
দোকানমালিক যদি সুদী লোন বা নাজায়েয উপায়ে ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করে থাকেন, তবে সেই সুদী ঋণ গ্রহণ করার গোনাহ ও শরয়ী দায়-দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে ওই মালিকের ওপর বর্তাবে। কর্মচারীর ওপর তার কোনো গোনাহ বা দায় আসবে না [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৮শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩১৯]।
২. শ্রমের বিনিময় ও বেতনের হালালত্ব:
ইসলামি ফিকহে কর্মচারীর বেতন হলো তার দেওয়া হালাল শারীরিক বা মানসিক শ্রমের সরাসরি বিনিময় (ইজারা/আজরুল আমাল)। দোকানে যদি মদ, শূকর বা কোনো শরীয়ত নিষিদ্ধ হারাম বস্তু বিক্রি না হয়ে সাধারণ হালাল মালামাল কেনাবেচা হয় এবং আপনি সেখানে হালাল দায়িত্ব পালন করেন, তবে আপনার শ্রমের বিনিময়ে অর্জিত বেতন সম্পূর্ণ হালাল ও পবিত্র [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৭শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৪৪; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (৫ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৪৩]।
৩. ফিকহী মূলনীতি (ইবনে মাসউদ রাযি.-এর হাদীস/আসার):
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট জনৈক ব্যক্তি সুদী কারবারীর দেওয়া হাদিয়া বা দাওয়াত গ্রহণের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি ফিকহের একটি মৌলিক নীতি উপস্থাপন করে বলেন:
“তার অর্জিত উপার্জনের গুনাহ তার নিজের ওপর, আর তোমার পরিশ্রমের হালাল পাওনা/বিনিময় তোমার জন্য সম্পূর্ণ বৈধ ও আনন্দদায়ক।” [দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ২১৭; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৮শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩১৯]
৪. তাকওয়ার পরামর্শ:
শরীয়তের দৃষ্টিতে উক্ত দোকানে চাকরি করা ও বেতন নেওয়া জায়েয হলেও, যদি ভবিষ্যতে কোনো সম্পূর্ণ সুদমুক্ত ও নিছক সংশয়হীন পরিবেশে কাজের সুযোগ মেলে, তবে সেখানে স্থানান্তরিত হওয়া তাকওয়া ও আত্মিক প্রশান্তির জন্য উত্তম [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ২৯২]।
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
১. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৫শ খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ১০২: (অধ্যায়: বাব أحكام المساجد والبيوع — লোন বা সুদী ঋণের টাকায় পরিচালিত কারবারে কাজ করা ও বেতনের শরয়ী হুকুম) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৫শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১০২]।
২. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৭শ খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ১৪৪: (অধ্যায়: বাবুল ইস্তিজার আলাল মাআছি — মিশ্রিত বা ঋণগ্রস্ত মালিকের অধীনে বৈধ কাজের বিনিময়ে বেতন গ্রহণের বৈধতা) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৭শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৪৪]।
৩. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৮শ খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৩১৯: (অধ্যায়: বাবুল আকলি ওয়াশ শুরব — অন্যের সুদী/অপছন্দনীয় উপার্জনের দায় তার ওপর বর্তানো এবং কাজের বেতন হালাল হওয়ার ফতোয়া) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৮শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩১৯]।
৪. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (৫ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৩৪৩: (অধ্যায়: কিতাবুল কারাহিয়্যাহ, ২য় পরিচ্ছেদ: মেহমানদারী ও হাদিয়া — মালিকের ব্যবসার মূল পণ্য হালাল হলে তার থেকে বেতন বা হাদিয়া গ্রহণের বিধান) [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (৫ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৪৩]।
৫. দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ২১৭: (অধ্যায়: হারাম অর্থ-সম্পদ — সুদী কারবারীর দেওয়া খাদ্য/বেতন গ্রহণ সংক্রান্ত সাহাবীগণের আসারের ফিকহী রূপরেখা) [দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ২১৭]।
আল্লাহ সর্বজ্ঞ।