ওষুধের কারণে পিরিয়ড পরিবর্তন হয়ে ১০ দিনের বেশী রক্তস্রাব হলে করণীয় কি?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 6165
Questioner: F Rahman
Question Asked: 30 Sep 2026, 10:25 PM
Reviewed & Published: 30 Sep 2026, 11:57 PM
Views: 16
Tokens: 8,275
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ইজতেহাজার সংক্রান্ত সমস্যার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়ার গরমিলের কারণে আমার পিরিয়ড হতে দেরি হচ্ছে। পিরিয়ড হওয়ার সম্ভাব্য সময়ের মধ্যে কয়েক দফায় অল্প অল্প ঘোলাটে ও রঙিন স্রাব দেখা যায়। কিন্তু প্রথমদিকে স্রাবটিকে তেমন গুরুত্ব না দিয়ে স্বাভাবিক রক্ত আসার অপেক্ষা করি। পরবর্তীতে যখন দেখি স্রাবটি প্রতিনিয়ত আসছে, তখন সেটিকে লক্ষ্য করতে শুরু করি।এভাবে প্রায় ৭ দিন ধরে হলুদ, কমলা, কফি-রঙের মতো বিভিন্ন রঙের স্রাব আসে। এরপর প্রায় দেড় দিন স্বচ্ছ স্রাব দেখা যায়। তারপর আবার রক্ত আসতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে রক্তের পরিমাণ বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে রক্তপাত একদম স্বাভাবিক পিরিয়ডের মতো হয়ে যায়। এমনকি শারীরিক লক্ষণগুলোও স্বাভাবিক পিরিয়ডের মতো থাকে, যেমন—পিরিয়ডের ব্যথা ইত্যাদি।
এখন আমার জানার বিষয় হলো:
1. প্রথমে যে হলুদ, কমলা ও কফি-রঙের স্রাব প্রায় ৭ দিন ধরে এসেছিল, সেটিকে কি হায়েজ হিসেবে গণ্য করা হবে?
2. নাকি পরবর্তীতে যে রক্তপাত শুরু হয়েছে এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পিরিয়ডের মতো হয়েছে, সেটিকেই প্রকৃত হায়েজ হিসেবে গণ্য করা হবে?
যেহেতু ওষুধ খাওয়ার কারণে পিরিয়ডের সময় পরিবর্তিত হচ্ছে, তাই এ ক্ষেত্রে হানাফি মাজহাব অনুযায়ী হায়েজ ও ইস্তিহাজার সঠিক বিধান কী হবে?

Answer

ইস্তেহাজা ও হায়েজ সংক্রান্ত মাসআলার বিস্তারিত উত্তর

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম


১. প্রথম ৭ দিনের ঘোলাটে/রঙিন স্রাব কি হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে?

  • শরয়ী ফায়সালা: হ্যাঁ, প্রথমে যে হলুদ, কমলা, কফি/বাদামি ও ময়লা রঙের স্রাব প্রায় ৭ দিন ধরে এসেছিল, সেটিকে শরীয়তের দৃষ্টিতে আপনার এ মাসের প্রকৃত 'হায়েজ' (মাসিক) হিসেবে গণ্য করা হবে।
  • শরয়ী ব্যাখ্যা: ফিকহে হানাফীর সর্বসম্মত মূলনীতি অনুযায়ী, হায়েজের সম্ভাব্য দিনগুলোতে নির্গত যেকোনো রঙের স্রাব—তা লাল, হলুদ, কফি/বাদামি, কমলা, ময়লা বা ধূসর যে রঙেরই হোক না কেন—যতক্ষণ না তা পুরোপুরি সাদা বা স্বচ্ছ হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত তা হায়েজের রক্ত বলেই গণ্য হয়। যেহেতু আপনার বর্তমান হায়েজের অভ্যাস ছিল ৭ দিন এবং প্রারম্ভে ওই রঙের স্রাবটি টানা ৭ দিন ধরে এসেছিল, তাই ওই ১ম সপ্তাহের ৭ দিনেই আপনার এ মাসের হায়েজ পূর্ণ হয়ে গেছে।

২. পরবর্তীতে শুরু হওয়া তাজা রক্তপাত কি হায়েজ নাকি ইস্তিহাজা?

  • শরয়ী ফায়সালা: পরবর্তীতে যে রক্তপাত শুরু হয়েছে এবং তাজা লাল রক্তের মতো নির্গত হচ্ছে, তা শরীয়তের দৃষ্টিতে হায়েজ নয়; বরং তা 'ইস্তিহাজা' (অসুস্থতাজনিত রক্তপাত) হিসেবে গণ্য হবে।
  • শরয়ী ব্যাখ্যা: ১. ১০ দিনের সীমা অতিক্রম করা: হানাফী মাযহাবে হায়েজের সর্বোচ্চ মেয়াদ হলো ১০ দিন ও ১০ রাত। আপনার প্রথম দিনের ঘোলাটে স্রাব থেকে শুরু করে বর্তমান তাজা রক্তপাত পর্যন্ত মোট সময় হিসাব করলে তা ১০ দিনের সীমা পার হয়ে প্রায় ১৭-১৮ দিনে পৌঁছে গেছে। ফিকহের সর্বসম্মত নিয়ম হলো—রক্তপ্রবাহের মোট সময়কাল যখন ১০ দিন অতিক্রম করে যায়, তখন মহিলাকে তার পূর্বের অভ্যাসে (আদাতে) ফেরত নেওয়া হয়। যেহেতু আপনার আগের অভ্যাস ৭ দিন ছিল, তাই প্রথম ৭ দিন হায়েজ গণ্য হওয়ার পর পরবর্তী সব রক্তপাত ইস্তিহাজা বলে বিবেচিত হবে। ২. দুই হায়েজের মধ্যবর্তী পবিত্রতার শর্ত: ইসলামী শরীআতে একটি হায়েজ শেষ হয়ে পরবর্তী হায়েজ শুরু হতে হলে দুটি হায়েজের মাঝখানে কমপক্ষে ১৫ দিনের পূর্ণ পবিত্রতা (তুহর) থাকা আবশ্যক। প্রথম ৭ দিনের পর আপনার মাঝে মাত্র দেড় দিন স্বচ্ছ ছিল (১৫ দিন পার হয়নি)। তাই এই দ্বিতীয় রক্তপাতকে নতুন কোনো হায়েজ ধরার শরয়ী সুযোগ নেই।

৩. ওষুধ খাওয়ার কারণে পিরিয়ড ও সময় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে হানাফি মাজহাব অনুযায়ী সঠিক বিধান ও করণীয়:

  • অনতিবিলম্বে নামায শুরু করা: ১০ দিন পূর্ণ হওয়া বা রক্ত বন্ধ হওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে আজই গোসল বা ওযূ করে অনতিবিলম্বে নামায পড়া শুরু করা আপনার ওপর ফরয।
  • ছুটে যাওয়া নামাযের কাযা করা: দ্বিতীয়বারের তাজা রক্তকে হায়েজ মনে করে যে কয়দিন আপনি ভুলবশত নামায পড়েননি, সেই দিনগুলোর ফরয নামাযগুলোর কাযা আদায় করে নিন।
  • ইস্তিহাজা অবস্থায় নামাযের নিয়ম: ইস্তিহাজাকালী রক্তপ্রবাহের সময় একজন নারী শরয়ী 'মা'যূর' (ওজরগ্রস্ত) হিসেবে গণ্য হন। আপনার করণীয় হলো—প্রতিটি ফরয নামাযের ওয়াক্ত প্রবেশ করলে ওযূ করবেন এবং উক্ত ওযূ দিয়ে সেই ওয়াক্তের ফরয, সুন্নাত ও কাযা নামায পড়তে থাকবেন।

সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:

১. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ১৩৫: (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত, ৬ষ্ঠ পরিচ্ছেদ: মহিলাদের খাস রক্তসমূহের বিবরণ — হায়েজের বিভিন্ন রঙসমূহ (হলুদ, কফি, ময়লা ইত্যাদি) এবং হায়েজের সর্বোচ্চ ১০ দিনের মেয়াদ)।
  • পৃষ্ঠা: ১৩৮–১৩৯: (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত, ইস্তেহাজার বিবরণ — রক্ত ১০ দিন অতিক্রম করলে অভ্যাসে ফেরত যাওয়া, দুই হায়েজের মাঝে ১৫ দিন পবিত্রতা থাকার বাধ্যবাধকতা এবং ইস্তেহাজাওয়ালীর নামায ফরয হওয়া ও কাযা করার মাসআলা)।

২. নূরুল ঈযাহ:

  • পৃষ্ঠা: ৪৭: (পরিচ্ছেদ: হায়েজ ও ইস্তেহাজা — হায়েজের সর্বোচ্চ ১০ দিনের সময়সীমা, ইস্তেহাজার সংজ্ঞা ও মধ্যবর্তী ১৫ দিনের তুহর/পবিত্রতার ফতোয়া)।

৩. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ১৯৯–২০০: (অধ্যায়: বাবুল হায়েজ ওয়ানিফাস — রক্ত ১০ দিনের বেশি হলে পূর্বের অভ্যাস অনুযায়ী হিসাব করা এবং ইস্তেহাজার মাসআলা)।

৪. দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ৩৮৬–৩৮৭: (অধ্যায়: মা'যূর ও ইস্তেহাজাওয়ালীর নামায ও পবিত্রতার বিস্তারিত পদ্ধতি)।

আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.