স্বপ্নদোষের পর গোসলের পর মযী বা ওয়াদী বের হলে নামায হবে কি?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 6137
Questioner: M Rafiz Uddin
Question Asked: 30 Sep 2026, 07:22 AM
Reviewed & Published: 30 Sep 2026, 07:55 AM
Views: 35
Tokens: 5,386
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

গতকাল ফজরের নামায এরপর বাড়ি এসে খুব ঘুম আসলে, ঘুমিয়ে যায়। এই সময় স্বপ্নদোষ হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই পরিষ্কার করে ফরজ গোসোল করি। গোসলের পরেও মনে হলো হালকা কিছু বের হয়েছে, সেটা টিস্যু দিয়ে মুছে ফেলি। ৯টাই অফিস ছিলো তাই লুঙ্গি চেঞ্জ করে পাজামা-জুব্বা পড়ে অফিস চলে যায়। এভাবে যোহর হয়, আসর, মাগরিব হয়। বাড়ি এসে পাসের মসজিদে ইশাও পড়ি (এবার লুঙ্গি-জুব্বা পড়ে)। এরপর প্রসাব করতে গিয়ে দেখি কিছু একটা ঘণ/পাতলা আবরণ আমার লিংগের সামনের অংশে জমাট বেধে আছে, খুবই সামান্য - সুধু ছিদ্রটা বন্ধ এর মত অবস্থা। আমি স্বাভাবিক করে প্রসাব করে টিস্যু-পানি দিয়ে স্বাভাবিক ভাবে বের হয়ে আসি। ভাবলাম যদি নাপাকিও হয় তাহলে হইত ১ দিরহামের কম পরিমানই হইত হবে, তাই মনে হয় সমস্যা নাই, তাই এরপর সকালে ফজরের নামাজও পড়ি এভাবে।
১) এতে কি কোন সমস্যা হয়েছে?
২) এমন পরিস্থিতি আর না চাইলে স্থায়ী সমাধান কি?

Answer

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

প্রশ্নে উল্লেখিত বিষয়গুলোর বিধান নিম্নরূপ:

১) এতে কি কোনো সমস্যা হয়েছে?

** উত্তর:** এক্ষেত্রে জোহর আছর ইত্যাদি নামাজগুলি যদি আপনি উক্ত ফরজ গোসল দ্বারাই আদায় করেন অর্থাৎ এর মাঝে যদি অজু না করেন, তাহলে আপনার নামাজগুলি আদায় হবে না।

আর যদি অযু করে ওই নামাজগুলো আদায় করে থাকেন, তাহলে আপনার নামাজগুলো আদায় হয়ে যাবে।

২) এমন পরিস্থিতি আর না চাইলে স্থায়ী সমাধান কী?

স্থায়ী সমাধান হলো বিবাহ করা,নিয়মিত স্ত্রী সহবাস করা। তাহলে আর উক্ত সমস্যা হবেনা,ইনশাআল্লাহ।

ক. ঘুমের আগে প্রস্রাব করা

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"তোমাদের কেউ ঘুমানোর আগে প্রস্রাব করে নেবে, কারণ এতে স্বপ্নদোষের সম্ভাবনা কমে যায়।" — সুনানে আবু দাউদ (হাদীস নং ৩৭), সুনানে তিরমিযী (হাদীস নং ২৯৯)

খ. ঘুমানোর দুআ পড়া

  • আয়াতুল কুরসি পড়া
  • সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস পড়ে শরীরে ফুঁ দেওয়া
  • "বিসমিল্লাহি ওয়াদাআতু জানবী..." দুআ পড়া

গ. ডান কাত হয়ে ঘুমানো

রাসূল ﷺ বলেছেন:

"যখন তুমি ঘুমাতে যাও, তখন ডান কাত হয়ে শোবে।" — সহীহ বুখারী (হাদীস নং ২৪৭), সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ২৭১০)

ঘ. ফজরের পর ঘুম পরিহার করা

ফজরের পর ঘুমানো সুন্নাহ পরিপন্থী। রাসূল ﷺ ফজরের পর ঘুমাতেন না। এটি স্বপ্নদোষের একটি বড় কারণ।

ঙ. প্রস্রাবের পর ইস্তিনজা (পরিষ্কার) ভালোভাবে করা

প্রস্রাবের পর টিস্যু বা পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করুন, যাতে কোনো অবশিষ্ট না থাকে। এরপর লিংগের সামনের অংশে হালকা চাপ দিয়ে বাকি প্রস্রাব বের করে নিন।

চ. যদি বারবার মযী/ওয়াদী বের হয়

তাহলে এটি চিকিৎসাগত সমস্যা হতে পারে। হানাফি ফিকহে একে "সালসুল বাওল" বা "মযীর কসরত" বলা হয়। এমতাবস্থায়:

  • প্রত্যেক নামাযের জন্য নতুন অযু করুন
  • পবিত্র কাপড় পরিধান করুন
  • প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন

রেফারেন্স: ফাতাওয়া উসমানী (১/১৩৫), ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/২৩৫), বাহিশতী জেওর (পবিত্রতা অধ্যায়)।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.