৪ ভরি স্বর্ণ ও বিদেশি মুদ্রার যাকাতের বিধান।

Zakat and Charity · Hanafi

Question No: 6136
Questioner: Tahmina liza
Question Asked: 30 Sep 2026, 06:45 AM
Reviewed & Published: 30 Sep 2026, 08:09 AM
Views: 24
Tokens: 4,164
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
আমার কাছে ২৪ সালের এপ্রিল মাস থেকে ৪ ভরির মত স্বর্ণ আমার মালিকানায় আছে। কোনো ক্যাশ টাকাই আমার কাছে জমা ছিলো না। কিন্তু আমার কাছে কিছু বিদেশি মুদ্রা আছে, এই টাকাগুলোর কথা আমার খেয়াল ছিলো না। এখন আমি জানতে চাচ্ছি আমার উপর কি যাকাত কার্যকর হয়েছে? হলেও সেটা কত?

Answer

যাকাত সংক্রান্ত প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর

উত্তর (সংক্ষেপে):
আপনার উপর যাকাত ফরজ হয়েছে, এক্ষেত্রে বিগত ২ বছরের যাকাত এখন আপনাকে আদায় করতে হবে।

আপনার স্বর্ণ ও বিদেশি মুদ্রার মোট মূল্যের ভিত্তিতে হিসাব করতে হবে। এরপর মোট সম্পদের ২.৫% (৪০ ভাগের ১ ভাগ) যাকাত দিতে হবে।

এতে এক বছরের যাকাত আদায় হবে। এভাবে হিসাব করে আরো এক বছরের মোট ২ বছরের যাকাত আদায় করবেন।

বিস্তারিত আলোচনা

১. যাকাতের নিসাব (সীমা)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ مِنَ الْوَرِقِ صَدَقَةٌ، وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ ذَوْدٍ مِنَ الْإِبِلِ صَدَقَةٌ، وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوْسُقٍ مِنَ التَّمْرِ صَدَقَةٌ»
— সহীহ বুখারী, হাদীস ১৪৫৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৯৭৯

অন্য হাদীসে এসেছে:

«وَلَيْسَ فِي أَقَلَّ مِنْ عِشْرِينَ مِثْقَالًا مِنَ الذَّهَبِ شَيْءٌ»
— সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৫৭৩

ফিকহি ব্যাখ্যা:

  • স্বর্ণের নিসাব = ২০ মিছকাল (প্রায় ৮৭.৪৮ গ্রাম বা সাড়ে সাত ভরি)
  • রূপার নিসাব = ২০০ দিরহাম (প্রায় ৬১২.৩৬ গ্রাম বা সাড়ে ৫২ তোলা)
  • নগদ অর্থ, বিদেশি মুদ্রা, ব্যবসায়িক পণ্য — এগুলোকে স্বর্ণ বা রূপার মূল্যে হিসাব করে নিসাব পূর্ণ হলে যাকাত ফরজ হয়।

রেফারেন্স:

  • আল-হিদায়া (কিতাবুয যাকাত)
  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), খণ্ড ২, পৃ. ২৫৯
  • ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃ. ১৭৮
  • ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ১, পৃ. ৩০৫

২. আপনার ক্ষেত্রে হিসাব

আপনার কাছে আছে:

  1. ৪ ভরি স্বর্ণ — যা নিসাবের (সাড়ে সাত ভরি) চেয়ে কম।
  2. কিছু বিদেশি মুদ্রা — যা আপনি ভুলে গিয়েছিলেন।

গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা:
যাকাতের হিসাবে সব যাকাতযোগ্য সম্পদ একত্রিত করে নিসাব নির্ধারণ করতে হবে। আলাদা আলাদা করে নয়। অর্থাৎ, স্বর্ণ + বিদেশি মুদ্রার মূল্য + অন্যান্য নগদ সম্পদ — সব মিলিয়ে যদি রূপার নিসাব (৬১২.৩৬ গ্রাম রূপার মূল্য) পরিমাণ হয়, তাহলে যাকাত ফরজ হবে।

রেফারেন্স:

  • রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ২, পৃ. ২৬২
  • বাদায়েউস সানায়ে, খণ্ড ২, পৃ. ১৭
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড ১, পৃ. ১৭৯

হিসাবের পদ্ধতি:

  • ৪ ভরির বর্তমান বাজারমূল্য বের করুন।
  • বিদেশি মুদ্রাগুলোর বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি টাকায় মূল্য বের করুন।
  • মোট সম্পদের ২.৫% যাকাত দিতে হবে। অনাদায়ী বছর গুলোরও যাকায় আদায় করুন।

৩. ভুলে যাওয়া সম্পদের যাকাত

আপনি বিদেশি মুদ্রার কথা ভুলে গিয়েছিলেন — এতে যাকাত ফরজ হওয়া বা না হওয়ার বিধান পরিবর্তন হয় না। যাকাত হলো সম্পদের হক, তা আপনি স্মরণে রাখুন বা না রাখুন। তবে যাকাত আদায়ে অবহেলা করা গুনাহের বিষয়।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

«وَالَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلَا يُنفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَبَشِّرْهُم بِعَذَابٍ أَلِيمٍ»
— সূরা আত-তাওবা: ৩৪

রেফারেন্স:

  • মা‘আরিফুল কুরআন, খণ্ড ৪, পৃ. ৩৪৫
  • তাফসীরে ইবনে কাসীর, সূরা তাওবার ব্যাখ্যা

৪. যাকাতের হিসাব কীভাবে করবেন

ধাপ ১: যাকাতের বছর শুরু হওয়ার তারিখ নির্ধারণ করুন (আপনার ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে স্বর্ণ মালিকানায় আসার পর যখন নিসাব পূর্ণ হয়, সেদিন থেকে হিজরি বছর গণনা শুরু)।
ধাপ ২: বছর শেষে (চান্দ্র হিজরি বছর) আপনার কাছে থাকা সব যাকাতযোগ্য সম্পদের মূল্য বের করুন।
ধাপ ৩: মোট মূল্যের ২.৫% হিসাব করুন।
ধাপ ৪: সেই পরিমাণ যাকাত আদায় করুন।

উদাহরণ:
ধরা যাক, ৪ ভরি স্বর্ণের মূল্য = ৪,৮০,০০০ টাকা, বিদেশি মুদ্রার মূল্য = ৫০,০০০ টাকা। মোট = ৫,৩০,০০০ টাকা।
যাকাত = ৫,৩০,০০০ × ২.৫% = ১৩,২৫০ টাকা।


৫. বিদেশি মুদ্রার যাকাত

বিদেশি মুদ্রা (ডলার, রিয়াল, দিরহাম ইত্যাদি) যদি আপনি সঞ্চয় বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে রাখেন, তাহলে তা নগদ অর্থের মতোই যাকাতযোগ্য। যদি তা ব্যবহারের উদ্দেশ্যে (যেমন ভ্রমণের জন্য) রাখেন, তবে ফকিহদের মতভেদ আছে; তবে সতর্কতা হিসেবে যাকাত দেওয়াই উত্তম।

রেফারেন্স:

  • ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ১, পৃ. ৩১২
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ২, পৃ. ২৫
  • ফাতাওয়া মাহমুদিয়া, খণ্ড ৯, পৃ. ২৮৭

৬. অতীতের যাকাতের বিধান

যদি বিগত বছরগুলোতে আপনার উপর যাকাত ফরজ ছিল কিন্তু আপনি আদায় করেননি, তাহলে অতীতের যাকাতও আদায় করতে হবে (কাযা হিসেবে)। তবে যদি আপনি জানতেন না বা ভুলে গিয়েছিলেন, তবুও আদায় করা ফরজ।

রেফারেন্স:

  • রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ২, পৃ. ২৯৭
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড ১, পৃ. ১৮৭

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.