হায়েযের ৭ দিন পর আবার রক্ত আসলে কি করবেন?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 6135
Questioner: Ahammad Hossain
Question Asked: 30 Sep 2026, 05:32 AM
Reviewed & Published: 30 Sep 2026, 07:58 AM
Views: 12
Tokens: 4,055
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

হায়েযের ৭ দিন পর ১/ ১.৫ দিন স্বচ্ছ স্রাব থাকার পর আবার রক্ত দেখা দিলে, ওই রক্তটাও কি হায়েযের অংশ হিসেবে ধরা হবে? সেক্ষেত্রে কি ১০ দিন ১০ রাত পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা যাবে? নাকি নামাজ পড়তে হবে? (পূর্বে হায়েয এর অভ্যাস ১০ দিন ছিল বর্তমানে ৭ দিন)

Answer

হায়েযের ৭ দিন পর পুনরায় রক্ত দেখা দিলে করণীয়

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

একজন মহিলার পূর্বে হায়েযের অভ্যাস ছিল ১০ দিন। বর্তমানে তা কমে ৭ দিন হয়েছে। এখন ৭ দিন হায়েযের পর ১ থেকে ১.৫ দিন স্বচ্ছ স্রাব (তুহর) থাকার পর আবার রক্ত দেখা দিয়েছে। এই রক্ত কি হায়েযের অন্তর্ভুক্ত হবে? ১০ দিন ১০ রাত পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, নাকি নামাজ পড়তে হবে?

ফিকহি বিশ্লেষণ

মূলনীতি (হানাফি মাযহাব অনুযায়ী)

হানাফি মাযহাবের সুপ্রতিষ্ঠিত মূলনীতি হলো—

১. হায়েযের সর্বনিম্ন সময় ৩ দিন ৩ রাত এবং সর্বোচ্চ সময় ১০ দিন ১০ রাত। (রাতসহ হিসাব করতে হবে)

২. দুই হায়েযের মধ্যবর্তী পবিত্রতার (তুহর) সর্বনিম্ন সময় ১৫ দিন। তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে এর কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই; অল্প সময়ের পবিত্রতাও তুহর হিসেবে গণ্য হবে।

৩. যদি ১০ দিনের ভেতরেই রক্ত বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে পুরো সময়টাই হায়েয হিসেবে গণ্য হবে—এমনকি মাঝখানে কয়েকদিন স্রাব বন্ধ থাকলেও।

৪. যদি ১০ দিন অতিক্রম করে যায়, তাহলে পূর্বের অভ্যাস (আদত) অনুযায়ী হায়েয গণ্য হবে এবং অতিরিক্ত দিনগুলো ইস্তিহাযা (অসুস্থতার রক্ত) হিসেবে গণ্য হবে।

এই মাসআলার প্রয়োগ

প্রশ্নে উল্লেখ আছে—পূর্বে অভ্যাস ছিল ১০ দিন, বর্তমানে ৭ দিন। এখানে দুটি সম্ভাবনা রয়েছে:

সম্ভাবনা ১: যদি ৭ দিন পর স্বচ্ছ স্রাবের পর যে রক্ত এসেছে তা ১০ দিন ১০ রাতের ভেতরেই বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে পুরো ১০ দিনই হায়েয হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ, মাঝখানে ১-১.৫ দিন স্বচ্ছ স্রাব থাকা সত্ত্বেও পুরো সময়টাই হায়েযের হুকুমে থাকবে।

সম্ভাবনা ২: যদি ১০ দিন অতিক্রম করেও রক্ত চলতে থাকে, তাহলে পূর্বের অভ্যাস অনুযায়ী ১০ দিন হায়েয এবং ১০ দিন পরের রক্ত ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে ১০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর গোসল করে নামাজ পড়তে হবে।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.