আশা এনজিওতে কী চাকরি করা হারাম?
Halal and Haram · Hanafi
Question
Answer
আশা এনজিওতে চাকরি করা কি হারাম?
প্রশ্ন: আশা এনজিওতে (ASA - Association for Social Advancement) চাকরি করা কি হারাম?
উত্তর:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য, দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উপর।
মূলনীতি (উসূল)
ইসলামী শরীয়তের একটি মৌলিক নীতি হলো—যে প্রতিষ্ঠানের মূল কার্যক্রম বা আয়ের প্রধান উৎস হারাম, সেখানে চাকরি করাও হারাম। আর যদি প্রতিষ্ঠানের মূল কার্যক্রম হালাল হয় এবং হারাম কাজ শুধু আনুষঙ্গিক (incidental) হয়, তবে সেখানে চাকরি করা মূলত জায়েজ, তবে হারাম কাজে সরাসরি সহযোগিতা করা জায়েজ নয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ
"তোমরা নেক কাজ ও তাকওয়ায় পরস্পরকে সাহায্য করো, আর পাপ ও সীমালঙ্ঘনে পরস্পরকে সাহায্য করো না।" — (সূরা আল-মায়িদা: ২)
আশা এনজিও-এর ক্ষেত্রে বিশ্লেষণ
আশা (ASA) একটি মাইক্রোফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠান, যার মূল কার্যক্রম হলো সুদভিত্তিক ক্ষুদ্রঋণ (interest-based microcredit) প্রদান। এখানে কয়েকটি বিষয় লক্ষণীয়:
১. সুদ (রিবা) — সুস্পষ্ট হারাম
আশা এনজিও গ্রাহকদের কাছ থেকে সুদ/মুনাফা আদায় করে, যা কুরআন-হাদিসে সুস্পষ্টভাবে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا
"আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।" — (সূরা আল-বাকারা: ২৭৫)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ، وَقَالَ: هُمْ سَوَاءٌ
"রাসূলুল্লাহ ﷺ সুদ খাওয়ালে, সুদ খাওয়ানো ব্যক্তিকে, সুদের লেখককে এবং তার দুই সাক্ষীকে অভিশাপ করেছেন এবং বলেছেন: তারা সবাই সমান (অপরাধী)।" — (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১৫৯৮; সুনানে আবু দাউদ: ৩৩৩৩)
২. সুদি প্রতিষ্ঠানে চাকরির হুকুম
ফুকাহায়ে কেরামের সর্বসম্মত মত হলো—সুদি ব্যাংক বা সুদি প্রতিষ্ঠানে এমন পদে চাকরি করা, যেখানে সরাসরি সুদি লেনদেন, হিসাবরক্ষণ, দলিলপত্র তৈরি বা প্রচারে সহযোগিতা করতে হয়—তা হারাম।
আল্লামা ইবনে আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ উল্লেখ করেন:
"সুদি লেনদেনের সাক্ষী হওয়া, লেখা বা তার সহযোগিতা করা—সবই গুনাহ, কারণ এটি পাপের উপর সহযোগিতা।" — (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৫, পৃ. ১৬৬-১৬৭)
মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) «ফাতাওয়া উসমানি»-তে বলেন:
"সুদি ব্যাংকে চাকরি করা জায়েজ নয়, যদি না তা এমন বিভাগে হয় যার সুদি কার্যক্রমের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই (যেমন: নিরাপত্তা প্রহরী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, ক্যান্টিন ইত্যাদি)।" — (ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ৩, পৃ. ৪০৫-৪০৮)
৩. আশা এনজিও-এর সুনির্দিষ্ট অবস্থা
আশা এনজিও-এর মূল আয়ের উৎসই হলো সুদি ঋণ থেকে প্রাপ্ত মুনাফা। তাই:
- ঋণ বিতরণ, আদায়, হিসাবরক্ষণ, ঋণ অনুমোদন, গ্রাহক সংগ্রহ — এসব পদে চাকরি করা হারাম।
- প্রচার, বিপণন, শাখা ব্যবস্থাপনা — যেহেতু এসব সুদি কার্যক্রমকেই এগিয়ে নেয়, তাই এগুলোও হারাম।
- নিরাপত্তা প্রহরী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, ক্যান্টিন, ড্রাইভার — যদি সরাসরি সুদি লেনদেনে সহযোগিতা না হয়, তবে কিছু ফকিহ এটিকে জায়েজ বলেছেন; তবে সতর্কতামূলক (ইহতিয়াত) দৃষ্টিকোণ থেকে এটিও পরিহার করাই উত্তম।
আশরাফ আলী থানভী (রহ.) «বেহেশতী জেওর»-এ বলেন:
"সুদি কারবারে সহযোগিতা করা, সুদের হিসাব রাখা, সুদি দলিল লেখা—সবই নাজায়েজ।" — (বেহেশতী জেওর, সুদের বিবরণ অধ্যায়)
সিদ্ধান্ত
আশা এনজিওতে চাকরি করা—বিশেষত ঋণ, হিসাব, আদায়, ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি পদে—হারাম। কারণ এটি সরাসরি সুদি কার্যক্রমে সহযোগিতা, যা কুরআন-হাদিসে সুস্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ।
والله أعلم بالصواب