মাজুর ব্যক্তির হায়েজ ও ইস্তিহাযার বিধান।

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 6114
Questioner: Parul mimi
Question Asked: 29 Sep 2026, 04:24 PM
Reviewed & Published: 29 Sep 2026, 05:22 PM
Views: 24
Tokens: 3,093
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ
আমি একজন মাজুর ব্যক্তি সারা মাস রক্ত ক্ষরণ হয়,এক্ষেত্রে আমি কোন সময় হায়েজ ধরে নিবো, কিভাবে ইবাদত করবো,,

Answer

উত্তর: মাজুর ব্যক্তির নামাজ ও ইবাদতের বিধান

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

আপনি একজন মাজুর (অপারগ) ব্যক্তি, যিনি সারা মাস রক্তক্ষরণে আক্রান্ত (ইস্তিহাযা)। আপনি জানতে চেয়েছেন—কখন এটিকে হায়েজ (মাসিক) ধরবেন এবং কীভাবে ইবাদত করবেন।


জবাবঃ- পূর্বের মাসগুলোতে আপনার যে কয়দিন হায়েজ আসতো,এ মাসেও আপনি সে কয়দিন হায়েজ ধরবেন।

এরপর ১৫ দিন ইস্তিহাজা ধরবেন।

তারপর পুনরায় আবার পূর্বের মাস গুলোর অভ্যাস অনুপাতে হায়েজ ধরবেন।

এরপর আবার পুনরায় ১৫ দিন ইস্তিহাজা ধরবেন। এভাবে হিসাব চালিয়ে যাবেন।

উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি ইস্তিহাযায় আক্রান্ত মহিলাদের জন্য রক্তের রং দেখে হায়েজ নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন। — (মুয়াত্তা মালিক, হাদিস: ১৩০)

পদ্ধতি-৩ (কোনো পার্থক্য না থাকলে): হানাফি মাযহাবে ১০ দিন হায়েজ এবং বাকি ২০ দিন ইস্তিহাযা ধরবেন। এটাই ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর প্রসিদ্ধ মত।

★আপনার ইবাদতের নিয়ম

ক. নামাজ

  • হায়েজের দিনগুলোতে: নামাজ পড়বেন না, পরে কাজা করবেন না।
  • ইস্তিহাযার দিনগুলোতে: প্রত্যেক ওয়াক্তের জন্য অযু করে নামাজ পড়বেন।
  • এক ওয়াক্তের অযু দিয়ে পরবর্তী ওয়াক্তের নামাজ পড়া যাবে না (হানাফি মাযহাব)।
  • ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আগে অযু ভেঙে গেলে পুনরায় অযু করে নামাজ আদায় করবেন।

রেফারেন্স: রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৯৮; ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৩৫।

খ. কুরআন তিলাওয়াত

  • ইস্তিহাযার অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করা যাবে (স্পর্শ ছাড়া বা পবিত্র কাপড়/পাতায় স্পর্শ করে)।
  • হায়েজের দিনগুলোতে কুরআন স্পর্শ করা যাবে না, তবে মুখস্থ পড়া বা দোয়া-যিকির করা যাবে।

গ. রোজা

  • ইস্তিহাযার দিনে রোজা রাখবেন—রোজা সহিহ হবে।
  • হায়েজের দিনে রোজা আদায় করবেননা।

ঘ. অন্যান্য ইবাদত

  • যিকির, দোয়া, দরুদ, তাসবিহ: সবসময় করা যাবে।
  • মসজিদে প্রবেশ: ইস্তিহাযার অবস্থায় পবিত্র কাপড় ও অযু থাকলে মসজিদে প্রবেশ করা যাবে (হানাফি মাযহাব)।
  • স্বামীর সাথে সহবাস: ইস্তিহাযার দিনে সহবাস জায়েজ (হায়েজের দিনে নিষিদ্ধ)।

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.