মেয়েকে হাদিয়া দেওয়া স্বর্ণের যাকাত কার উপর ফরজ?
Zakat and Charity · Hanafi
Question
প্রশ্ন হল-
১. মেয়ে এখনও ছোট, ওকে যে গিফট টা আমি (স্বর্ণ) দিব, সেটার যাকাত কি আমাকে দিতে হবে? আমি হাদিয়া দিয়েছি, মালিকানা তো আমার থাকবে না।
২. ও যেহেতু ছোট ওর গিফটে পাওয়া জিনিস চাইলে আমি ইউজ করতে পারব কিনা স্বর্ন/রুপা।
Answer
প্রশ্নোত্তর: সন্তানকে হাদিয়া দেওয়া স্বর্ণ-রুপার যাকাত ও ব্যবহারের বিধান
উত্তর (হানাফি মাযহাব অনুযায়ী)
ভূমিকা
আপনার প্রশ্ন দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বাস্তবধর্মী। সংক্ষেপে বলতে গেলে—হাদিয়া দেওয়ার মাধ্যমে মালিকানা সন্তানের কাছে চলে যায়, তাই যাকাতের হিসাবও সন্তানের উপরই প্রযোজ্য হবে; আর নাবালেগ সন্তানের সম্পদ অভিভাবক নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবেন না। নিচে বিস্তারিত দলিলসহ আলোচনা করা হলো।
প্রথম প্রশ্ন: মেয়েকে দেওয়া স্বর্ণের হাদিয়ার যাকাত কার উপর?
মূলনীতি
হাদিয়া (হিবা) সম্পূর্ণ হওয়ার জন্য ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ) শর্ত। তবে নাবালেগ (অপ্রাপ্তবয়স্ক) সন্তানের ক্ষেত্রে তার পক্ষ থেকে অভিভাবক (ওয়ালি) কবুল করে নিলেই হিবা সম্পূর্ণ হয়ে যায় এবং মালিকানা সন্তানের কাছে স্থানান্তরিত হয়।
ফিকহি মূলনীতি: "الْهِبَةُ تَتِمُّ بِالْإِيجَابِ وَالْقَبُولِ، وَيَقْبَلُ الْوَالِي لِلصَّغِيرِ" — অর্থাৎ হিবা ইজাব ও কবুল দ্বারা সম্পূর্ণ হয়, আর নাবালেগের পক্ষ থেকে ওয়ালি কবুল করে।
দলিল: ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, নাবালেগের পক্ষ থেকে তার পিতা/দাদা কবুল করলে হিবা সহিহ হয়ে যায় এবং মালিকানা সন্তানের হয়ে যায়। (দেখুন: রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৫, কিতাবুল হিবা; আল-হিদায়া, কিতাবুল হিবা)
ফলাফল
১. হাদিয়া দেওয়ার সাথে সাথেই মালিকানা আপনার মেয়ের কাছে চলে যায় — আপনি আর সেই স্বর্ণের মালিক নন।
২. যাকাতের হিসাব: যাকাত ফরজ হয় সম্পদের মালিকের উপর। যেহেতু মালিকানা মেয়ের, তাই মেয়ে বালেগাহ হওয়ার পর থেকে উক্ত সম্পদের উপর জাকাত আবশ্যক হবে, তার আগে নয়।
★উল্লেখ্য আপনি যদি যাকাত দেওয়া থেকে বাঁচার লক্ষ্যে কৌশলের আশ্রয় স্বরুপ স্বর্ণটি আপনার সন্তানকে দিয়ে থাকেন, তাহলে এর দরুন আপনি মহান আল্লাহর কাছে গুনাহগার বলে সাব্যস্ত হবে।
দ্বিতীয় প্রশ্ন: মেয়ের গিফটের স্বর্ণ/রুপা আমি ব্যবহার করতে পারব কি?
মূলনীতি
নাবালেগ সন্তানের সম্পদ তার নিজের মালিকানা। পিতা/অভিভাবক শুধু সংরক্ষক (আমিন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন — মালিক হিসেবে নন। তাই সন্তানের সম্পদ নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করা জায়েজ নয়, যদি না তা সন্তানের স্বার্থে হয়।
কুরআনের নির্দেশনা: "وَلَا تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ" — "এতিমের সম্পদের নিকটবর্তী হয়ো না, তবে উত্তম পন্থায় (তার স্বার্থে)।" (সূরা আনআম: ১৫২)
হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "مَنْ وَلِيَ يَتِيمًا لَهُ مَالٌ فَلْيَتَّجِرْ لَهُ وَلَا يَتْرُكْهُ حَتَّى تَأْكُلَهُ الصَّدَقَةُ" — "যে ব্যক্তি সম্পদশালী এতিমের অভিভাবক হয়, সে যেন তার সম্পদে ব্যবসা করে, আর তা (যাকাতে) ক্ষয় হয়ে যাওয়ার মতো ফেলে না রাখে।" (তিরমিজি, হাদিস নং ৬৪১ — যদিও সনদের ব্যাপারে মতভেদ আছে, তবে ফকিহগণ এর মর্ম গ্রহণ করেছেন)
ফলাফল
মেয়ের গিফটের স্বর্ণ/রুপা আপনি নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবেন না — এটি আমানতের খিয়ানত হবে।