আউয়াল ওয়াক্ত বলতে কী বোঝায়?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 6066
Questioner: Shazeda
Question Asked: 28 Sep 2026, 01:01 PM
Reviewed & Published: 28 Sep 2026, 02:50 PM
Views: 30
Tokens: 4,448
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

‘আউয়াল ওয়াক্ত’ বলতে ঠিক কতটুকু সময়কে বোঝায়—এটা জানতে চাচ্ছিলাম। এটা কি শুধু স্বলাতের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পরপরই অল্প কিছু সময়কে বোঝায়, নাকি ওয়াক্তের শুরু থেকে নির্দিষ্ট একটি সময় পর্যন্ত আউয়াল ওয়াক্ত ধরা হয়?

যেমন, কোনো স্বলাতের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর যদি সঙ্গে সঙ্গে স্বলাত আদায় করা সম্ভব না হয়, তাহলে কতক্ষণ পর্যন্ত আদায় করলে সেটাকে ‘আউয়াল ওয়াক্তে’ আদায় করা বলা হবে? প্রতিটি স্বলাতের ক্ষেত্রে কি এর নির্দিষ্ট সময়সীমা আলাদা?

জাযাকুমুল্লাহু খয়রন

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

সংক্ষিপ্ত উত্তর:
‘আউয়াল ওয়াক্ত’ বা ‘প্রথম ওয়াক্ত’ বলতে শরীয়তে এমন কোনো নির্দিষ্ট মিনিট/ঘণ্টার সীমা নেই যে, এর ভেতরে পড়লে আউয়াল ওয়াক্ত আর পরে পড়লে আউয়াল ওয়াক্ত নয়। বরং সাধারণভাবে ওয়াক্তের প্রথম অংশকে ‘আউয়াল ওয়াক্ত’ বলা হয়, আর শেষ অংশকে ‘আখির ওয়াক্ত’ বলা হয়। কোন সালাতের ওয়াক্ত কত দীর্ঘ, তার উপর ভিত্তি করে প্রথম অংশের পরিমাণও ভিন্ন হয়। ফিকহের কিতাবগুলোতে সাধারণত ওয়াক্তকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: আউয়াল ওয়াক্ত ও আখির ওয়াক্ত; কখনো তিন ভাগেও ভাগ করা হয়: আউয়াল, আওসাত ও আখির। তবে প্রতিটির জন্য নির্দিষ্ট মিনিটের কোনো সীমা শরীয়তে বেঁধে দেওয়া হয়নি।


বিস্তারিত

১. ফজরের ওয়াক্ত:
ফজরের ওয়াক্ত সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত। এর প্রথম অংশ আউয়াল ওয়াক্ত। ফজরের ক্ষেত্রে আউয়াল ওয়াক্তে পড়া বেশি ফযীলতপূর্ণ; বিশেষত অন্ধকার থাকতে পড়া উত্তম। হাদিসে আছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ ফজর অন্ধকারে পড়তেন।
তবে ফজরের আউয়াল ওয়াক্তের নির্দিষ্ট সীমা যেমন “শুরু থেকে ২০ মিনিট” বা “৩০ মিনিট”—এমন কিছু নির্দিষ্ট করা হয়নি। সাধারণত ওয়াক্তের প্রথম তৃতীয়াংশ বা প্রথম অর্ধাংশকে আউয়াল ওয়াক্ত ধরা হয়। তবে এটা অনুমানভিত্তিক; শরীয়তের নির্দিষ্ট সীমা নয়।

২. যোহরের ওয়াক্ত:
যোহরের ওয়াক্ত সূর্য ঢলার পর থেকে আসরের ওয়াক্ত শুরু হওয়া পর্যন্ত। এর প্রথম অংশ আউয়াল ওয়াক্ত। যোহরের আউয়াল ওয়াক্তে পড়া উত্তম, বিশেষত গরমের দিনে বিলম্ব করা উত্তম—এটি ভিন্ন মাসআলা। কিন্তু আউয়াল ওয়াক্তের নির্দিষ্ট সীমা নেই।

৩. আসরের ওয়াক্ত:
আসরের ওয়াক্ত থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। এর প্রথম অংশ আউয়াল ওয়াক্ত। আসরের আউয়াল ওয়াক্তে পড়া উত্তম; বিনা ওজরে সূর্য হলুদ হওয়ার পর পর্যন্ত বিলম্ব করা মাকরূহ।

৪. মাগরিবের ওয়াক্ত:
মাগরিবের ওয়াক্ত সূর্যাস্তের পর থেকে শাফাক আহমার (লাল আভা) শেষ হওয়া পর্যন্ত। এর আউয়াল ওয়াক্ত খুবই সংক্ষিপ্ত। তাই মাগরিব আউয়াল ওয়াক্তে পড়া বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে নির্দিষ্ট মিনিটের সীমা নেই।

৫. ইশার ওয়াক্ত:
ইশার ওয়াক্ত শাফাক আহমার শেষ হওয়ার পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত। এর প্রথম অংশ আউয়াল ওয়াক্ত। ইশার আউয়াল ওয়াক্তে পড়া উত্তম; তবে এক-তৃতীয়াংশ রাত পর্যন্ত বিলম্ব করা মুস্তাহাব বলা হয়েছে কোনো কোনো বর্ণনায়। কিন্তু আউয়াল ওয়াক্তের নির্দিষ্ট সীমা নেই।


ফিকহি কিতাবের বক্তব্য

রাদ্দুল মুহতার-এ ইবনে আবিদীন শামী (রহ.) ওয়াক্তের ভাগ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, ওয়াক্তকে আউয়াল ও আখিরে ভাগ করা হয়। আউয়াল ওয়াক্তে পড়া উত্তম, তবে নির্দিষ্ট মিনিটের সীমা শরীয়তে নেই।
ফাতাওয়া আলমগিরি-তেও ওয়াক্তের প্রথম অংশকে আউয়াল ওয়াক্ত বলা হয়েছে; নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।
বাদায়েউস সানায়ে-তে বলা হয়েছে, প্রতিটি সালাতের ওয়াক্তের প্রথম অংশ আউয়াল ওয়াক্ত; শেষ অংশ আখির ওয়াক্ত।
মারাকিল ফালাহ ও নূরুল ইদাহ-তেও একই কথা।

ইমদাদুল ফাতাওয়া ও ফাতাওয়া উসমানি-তে বলা হয়েছে, আউয়াল ওয়াক্ত বলতে ওয়াক্তের প্রথম অংশকে বোঝায়; এর নির্দিষ্ট সীমা নেই। তবে কোনো কোনো সালাতের ক্ষেত্রে আউয়াল ওয়াক্তে পড়ার বিশেষ ফযীলত রয়েছে।


গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা

  • আউয়াল ওয়াক্তে পড়া কি ওয়াজিব?
    না, ওয়াজিব নয়। তবে উত্তম ও ফযীলতপূর্ণ। বিনা ওজরে আখির ওয়াক্ত পর্যন্ত বিলম্ব করা মাকরূহ।

  • কোন সালাতের আউয়াল ওয়াক্তে পড়া বেশি জরুরি?
    মাগরিব ও ফজর। কারণ এদের ওয়াক্ত সংক্ষিপ্ত এবং আখির ওয়াক্তে বিলম্ব করা মাকরূহ।

  • যদি জামাতে পড়া সম্ভব না হয়?
    জামাতের জন্য বিলম্ব করা যাবে, তবে ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আগে অবশ্যই পড়তে হবে। আউয়াল ওয়াক্তে জামাত না পেলে একা হলেও আউয়াল ওয়াক্তে পড়া উত্তম, যদি জামাতের আশা না থাকে।

  • প্রতিটি সালাতের আউয়াল ওয়াক্তের সীমা কি আলাদা?
    হ্যাঁ, প্রতিটি সালাতের ওয়াক্তের দৈর্ঘ্য আলাদা, তাই আউয়াল ওয়াক্তের পরিমাণও আলাদা। তবে নির্দিষ্ট মিনিটের সীমা শরীয়তে নেই।


সারসংক্ষেপ

‘আউয়াল ওয়াক্ত’ মানে ওয়াক্তের প্রথম অংশ। এটি কোনো নির্দিষ্ট মিনিট বা ঘণ্টার সীমা নয়। প্রতিটি সালাতের ওয়াক্তের প্রথম অংশকে আউয়াল ওয়াক্ত বলা হয়। আউয়াল ওয়াক্তে পড়া উত্তম ও ফযীলতপূর্ণ, তবে ওয়াজিব নয়। বিনা ওজরে আখির ওয়াক্ত পর্যন্ত বিলম্ব করা মাকরূহ। প্রতিটি সালাতের আউয়াল ওয়াক্তের পরিমাণ তার ওয়াক্তের দৈর্ঘ্যের উপর নির্ভর করে ভিন্ন হয়।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.