বিতর নামাজের তৃতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহার আয়াত ভুল হলে পুনরায় পড়া এবং সূরা ইখলাস আবার শুরু থেকে পড়া জায়েজ কি? নামাজ হবে কি? সিজদা সাহু ওয়াজিব হবে কি?
Salah-Prayer · Hanafi
Question
Answer
বিতর নামাজে সূরা ফাতিহার আয়াত পুনরাবৃত্তি ও সূরা ইখলাস পুনরায় শুরু করার বিধান
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
বিতর নামাজের তৃতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহা শেষ করে সূরা ইখলাস পড়া শুরু করেন। সূরা ইখলাসের ২ আয়াত পড়ার পর মনে পড়ে যে সূরা ফাতিহার শেষ আয়াত ভুল হয়েছে। তখন তিনি সেই আয়াতটি পুনরায় পড়েন এবং সূরা ইখলাস আবার শুরু থেকে পড়েন। জানতে চান—এতে নামাজ হবে কি?
উত্তর
হ্যাঁ, নামাজ হয়ে যাবে। ইনশাআল্লাহ নামাজ সহীহ হয়েছে। তবে কিছু বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন:
১. সূরা ফাতিহার আয়াত পুনরাবৃত্তি প্রসঙ্গে
সূরা ফাতিহা শেষ করার পর যদি সন্দেহ হয় যে কোনো আয়াত ভুল হয়েছে বা ছুটে গেছে, তাহলে সালাম ফিরানোর আগে সেই আয়াতটি পুনরায় পড়া জায়েজ। এতে সিজদা সাহু ওয়াজিব হবে না, কারণ এটি ওয়াসওয়াসা (শয়তানের কুমন্ত্রণা) বা সন্দেহের কারণে হয়েছে, এবং পুনরাবৃত্তি করার ফলে সূরা ফাতিহা পূর্ণ হয়ে গেছে।
ফাতাওয়া হিন্দিয়া গ্রন্থে উল্লেখ আছে: "যদি কেউ সূরা ফাতিহা পড়ার পর সন্দেহ করে যে কোনো আয়াত ছুটে গেছে, তাহলে সে তা পুনরায় পড়বে; এতে নামাজ নষ্ট হবে না।" (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১০৫)
২. সূরা ইখলাস পুনরায় শুরু করার বিধান
সূরা ফাতিহার আয়াত পুনরাবৃত্তি করার পর সূরা ইখলাস আবার শুরু থেকে পড়া জায়েজ। কারণ:
- সূরা ফাতিহার পর যে সূরা পড়া হয়, তা ফাতিহার পরে পড়তে হয়। যেহেতু ফাতিহার আয়াত পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে, সেহেতু সূরা ইখলাস পুনরায় শুরু থেকে পড়াই সঠিক।
- এতে নামাজের কোনো ক্ষতি হবে না এবং সিজদা সাহুও ওয়াজিব হবে না।
রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন শামী) গ্রন্থে আছে: "যদি কেউ সূরা ফাতিহার পর সূরা পড়া শুরু করে, তারপর মনে পড়ে যে ফাতিহার কোনো আয়াত ছুটে গেছে, তাহলে সে ফাতিহার সেই আয়াত পড়বে এবং সূরা পুনরায় শুরু করবে। এতে নামাজ সহীহ হবে।" (রাদ্দুল মুহতার, ১/৪৬০)
৩. সিজদা সাহু প্রসঙ্গে
এই অবস্থায় সিজদা সাহু ওয়াজিব নয়। কারণ:
- সিজদা সাহু ওয়াজিব হয় কোনো ওয়াজিব ছুটে গেলে বা বিলম্বে আদায় করলে।
- এখানে সূরা ফাতিহা পূর্ণ হয়েছে (পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে), এবং সূরা ইখলাসও পূর্ণ হয়েছে। কোনো ওয়াজিব ছুটে যায়নি।
- শুধু পুনরাবৃত্তি বা পুনরায় শুরু করার কারণে সিজদা সাহু ওয়াজিব হয় না।
মারাকিল ফালাহ গ্রন্থে আছে: "সিজদা সাহু ওয়াজিব হয় ওয়াজিব ছুটে গেলে বা বিলম্বে আদায় করলে; কিন্তু পুনরাবৃত্তি বা সংশোধনের কারণে ওয়াজিব হয় না।" (মারাকিল ফালাহ, পৃষ্ঠা ২৩০)
৪. ওয়াসওয়াসা থেকে সতর্কতা
যদি বারবার সন্দেহ হয় এবং বারবার আয়াত পুনরাবৃত্তি করতে হয়, তাহলে এটি ওয়াসওয়াসা। এমতাবস্থায়:
- সন্দেহ উপেক্ষা করে নামাজ চালিয়ে যাওয়া উচিত।
- বেশি সন্দেহ হলে সিজদা সাহু করে সালাম ফিরানো উত্তম।
- ওয়াসওয়াসায় পড়ে বারবার পুনরাবৃত্তি করলে নামাজ দীর্ঘায়িত হবে এবং শয়তান খুশি হবে।
ইমদাদুল ফাতাওয়া গ্রন্থে আছে: "ওয়াসওয়াসায় পড়ে বারবার আয়াত পুনরাবৃত্তি করা উচিত নয়; বরং সন্দেহ উপেক্ষা করে নামাজ চালিয়ে যাওয়া উচিত।" (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/২৩০)
সারসংক্ষেপ
| বিষয় | বিধান | |------|--------| | সূরা ফাতিহার আয়াত পুনরাবৃত্তি | জায়েজ, নামাজ সহীহ | | সূরা ইখলাস পুনরায় শুরু | জায়েজ, নামাজ সহীহ | | সিজদা সাহু | ওয়াজিব নয় | | বারবার সন্দেহ হলে | ওয়াসওয়াসা, উপেক্ষা করা উচিত |
উপসংহার: আপনার বর্ণিত পদ্ধতিতে নামাজ সহীহ হয়েছে। ইনশাআল্লাহ কোনো সমস্যা নেই। তবে ভবিষ্যতে ওয়াসওয়াসায় পড়ে বারবার পুনরাবৃত্তি করবেন না; সন্দেহ উপেক্ষা করে নামাজ চালিয়ে যাবেন।
আল্লাহ সর্বজ্ঞ।