নামাজের সূরা মেলানো, নবীজী ﷺ এর বংশধর, ছবি তোলা,পিরিয়ড সংক্রান্ত

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 5922
Questioner: Qurrata Ain
Question Asked: 24 Sep 2026, 10:58 PM
Reviewed & Published: 25 Sep 2026, 02:14 AM
Views: 9
Tokens: 6,729
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১. নামাজে সূরা নাস পড়লে কি সবসময়ই সূরা বাকারা মেলাতে হবে? শেষ রাকাতে সূরা নাস সূরা বাকারার সাথে না মিলিয়ে পড়া যাবে? ফরজ ও সুন্নত সলাতের প্রথম রাকাতে সূরা নাস পড়ে ফেললে পরের রাকাতগুলো পড়ার নিয়ম কি?
২. নবীজীﷺ এর যে বংশধররা বেঁচে আছেন তাদেরকে কি বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয় না? তাদের তালিকা কি আছে? সাধারন মানুষ আমরা তো তাদের চিনি না। নাকি চেনার গুরুত্ব নেই? আমরা দুরুদে ইবরাহিমে পরিবারবর্গ হিসেবে তাদের জন্য দুআ করি নাকি আলেমদের জন্য?
৩. পাখি, বিড়াল বা অন্য প্রাণীর (মানুষ ব্যতীত) ছবি তোলা বা ভিডিও করা কি জায়েজ নাকি নাজায়েজ?
৪. এক বোনের পিরিয়ডের স্বাভাবিক ডেট প্রতি মাসের ২৫-৩১ তারিখ। কিন্তু ইমার্জেন্সি পিল খাওয়ায় মাসের মাঝে ১০-১৫ তারিখে একবার মাসিক হয়। এর ১৪ দিন পর ১৫ তম দিনে ২৪তারিখে আবার স্বাভাবিক সময়ে মাসিক হয়েছে। তাহলে সে কি এখন নামাজ পড়বে? নামাজের বিধান কি হবে?

Answer

###উত্তর

১. ১ম প্রশ্নের উত্তর (নামাজে সূরা নাস তিলাওয়াত ও পরবর্তী রাকাতের বিধান):

  • সূরা নাস-এর পর সূরা বাকারা মেলানোর হুকুম:
    নামাজে সূরা নাস পড়ার পর সবসময় সূরা বাকারা মেলাতেই হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৭ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৯৪-৯৫; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৭৮]।
  • শেষ রাকাতে সূরা নাস পড়া:
    দুই বা চার রাকাত বিশিষ্ট যেকোনো নামাজের শেষ রাকাতে সূরা নাস পড়লে, এরপর আর অন্য কোনো সূরা (যেমন: সূরা বাকারা) মেলানোর প্রয়োজন নেই। কারণ শেষ রাকাতেই ফাতেহার পর সূরা মেলানোর তিলাওয়াত শেষ হয়ে যায় [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৭ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৯৪]।
  • প্রথম রাকাতে ভুলবশত সূরা নাস পড়ে ফেললে পরের রাকাতগুলোর নিয়ম:
    • ২য় রাকাতে করণীয়: যদি কেউ ফরজ বা সুন্নাত নামাজের ১ম রাকাতে ভুলবশত বা ইচ্ছায় সূরা নাস পড়ে ফেলে, তবে ২য় রাকাতেও সে পুনরায় সূরা নাস-ই তিলাওয়াত করবে [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৭ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৯৪-৯৫; রদ্দুল মুহতার (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৫৩২]।
    • ৪ রাকাত বিশিষ্ট নামাজে: চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজের ক্ষেত্রে ১ম রাকাতে সূরা নাস পড়লে ২য়, ৩য় ও ৪র্থ রাকাতেও সূরা নাস পড়া যাবে অথবা কুরআন তিলাওয়াতের খতমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাইলে পরবর্তী রাকাতে সূরা বাকারা থেকেও তিলাওয়াত করা জায়েয আছে [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৭ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৯৫]।

২. ২য় প্রশ্নের উত্তর (নবীজী ﷺ-এর বংশধরদের মর্যাদা, পরিচিতি ও দরূদে ইব্রাহিমের 'আল'):

  • আহলে বাইত বা সাদাতগণের মর্যাদা:
    রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বংশধরদের (আহলে বাইত ও সাদাত) সম্মান ও ভালোবাসা প্রদর্শন করা উম্মতের জন্য ওয়াজিব ও ঈমানের দাবি [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৩য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৩৫; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৪র্থ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৭৮]। তবে তাদের চেনার জন্য পৃথিবীতে সার্বজনীন কোনো লিখিত তালিকা নেই এবং সাধারণ মানুষের জন্য প্রত্যেক বংশধরকে চেনা বা খুঁজে বের করা ফরয বা ওয়াজিব নয় [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৮৯]।
  • দরূদে ইব্রাহিমের 'আলে মুহাম্মদ' (পরিবারবর্গ)-এর ব্যাখ্যা:
    দরূদে ইব্রাহিমে যে 'আলে মুহাম্মদ' বলা হয়, কিতাবুল ফিকহ ও মুহাদ্দিসগণের তাফসীর অনুযায়ী এর মূল অর্থ হলো—নবীজী ﷺ-এর পবিত্র আহলে বাইত, সন্তানাদি, বংশধর ও পবিত্র সহধর্মিনীগণ [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৩য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৩৫-১৩৬; রদ্দুল মুহতার (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৫১৩]। ব্যাপকভাবে এতে নবীজী ﷺ-এর উম্মতের সকল মুত্তাকী ও পরহেযগার অনুসারীও শামিল থাকেন। এটি কেবল আলেমদের জন্য খাস নয়, তবে আলেমে দ্বীনগণও মুত্তাকী অনুসারী হিসেবে এতে অন্তর্ভুক্ত হন [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৩য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৩৫]।

৩. ৩য় প্রশ্নের উত্তর (পাখি, বিড়াল বা অন্যান্য প্রাণীর ছবি ও ভিডিও করার বিধান):

  • স্থির ছবি (Photography):
    ফিকহে হানাফী অনুযায়ী প্রাণীর (মানুষ, পাখি, বিড়াল বা অন্য যেকোনো জানদার) ছবি বা প্রতিকৃতি তোলা ও তা প্রিন্ট করে সংরক্ষণ করা নাজায়েয ও হারাম [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৪৩১-৪৩২; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ২৭০-২৭২; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (৫ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৫৯]। হাদীসে প্রাণীর ছবি তৈরিকারীদের ওপর কঠোর শাস্তির হুশিয়ারি এসেছে (সহীহ বুখারী)।
  • ভিডিও বা ডিজিটাল চিত্র:
    ক্যামেরা বা মোবাইলের স্ক্রিনে ফুটে ওঠা ডিজিটাল ভিডিও চিত্র—যা প্রিন্ট বা স্থায়ী কাগজে রূপ নেয় না—তা শিক্ষণীয়, দ্বীনি বা সামাজিক প্রয়োজনে কোনো অশালীনতা মুক্ত থাকলে ক্ষেত্রবিশেষে আধুনিক ফকীহগণ ছাড় দিয়েছেন; তবে শখ করে বা অনর্থক প্রাণীর ভিডিও বানানো থেকে বিরত থাকাই পরহেযগারী [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৪৩২]।

৪. ৪র্থ প্রশ্নের উত্তর (ইমার্জেন্সি পিল খাওয়া বোনের অনিয়মিত পিরিয়ড ও সালাতের ফায়সালা):

  • শরয়ী হিসাব ও মাসআলা:
    ১. ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী দুই হায়েজের (মাসিকের) মধ্যবর্তী সময়ে সর্বনিম্ন ১৫ দিন পূর্ণ পবিত্র (তুহর) থাকা আবশ্যক [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১১২; নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ৪৭]।
    ২. উক্ত বোনের পিল খাওয়ার কারণে ১০-১৫ তারিখে রক্ত এসেছে, আর তার ১৪ দিন পর (অর্থাৎ ১৫তম দিনে/২৪ তারিখে) আবার রক্ত এসেছে। ১৫ দিনের পূর্বে যেই রক্ত আসবে, সেটা ইস্তেহাযা। আপনার প্রশ্নটি অতি সংক্ষিপ্ত হওয়ার কারণে আমরা বিস্তারিত উত্তর দিতে অপারগ। দয়াকরে এই প্রশ্নটিকে বিস্তারিত উল্লেখ করবেন।

সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:

১. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৭ম খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ৯৪–৯৫: (অধ্যায়: বাবুল কিরাআত — প্রথম রাকাতে ভুলবশত বা ইচ্ছায় সূরা নাস পড়লে পরবর্তী রাকাতে সূরা নাস বা অন্যান্য সূরা তিলাওয়াতের মাসআলা) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৭ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৯৪, ৯৫]।

২. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৩য় খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ১৩৫–১৩৬: (অধ্যায়: বাবুল বিদআতি ওয়ার রুসুম — দরূদ শরীফে 'আলে মুহাম্মদ' বলতে কারা উদ্দেশ্য এবং আহলে বাইতের স্থান) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৩য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৩৫, ১৩৬]।

৩. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ২৭০–২৭২: (অধ্যায়: বাবুস সূরাতি ওয়াল মালাহী — মানুষ ও পশু-পাখির স্থির ছবি তোলার নিষিদ্ধতার শরয়ী বিবরণ) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ২৭০, ২৭২]।

৪. দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ৪৩১–৪৩২: (অধ্যায়: মোবাইল ও আধুনিক প্রযুক্তি — প্রাণীর ছবি ও ক্যামেরার ফিকহী হুকুম) [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৪৩১, ৪৩২]।

৫. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ৭৮ & ১৬৮: (অধ্যায়: সালাত — কিরাআতের তারতীব ও সূরা নাস তিলাওয়াতের বিধান) [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৭৮, ১৬৮]।
  • পৃষ্ঠা: ১১২ & ১১৫: (অধ্যায়: তাহারাত, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ — হায়েজ, দুই হায়েজের মধ্যবর্তী তুহরের মেয়াদ এবং অভ্যাসে ফিরে যাওয়ার ফতোয়া) [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১১২, ১১৫]।

৬. নূরুল ঈযাহ:

  • পৃষ্ঠা: ৪৭: (পরিচ্ছেদ: হায়েজ ও ইস্তিহাযা — রক্তস্রাবের দিন গণনা ও সালাতের হুকুম) [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ৪৭]।

আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.