বিবাহের আগে মনে মনে তালাকের খেয়াল বা ওয়াসওয়াসা এলে কি বিবাহের পরে তালাক পতিত হবে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 5841
Questioner: Abdur Rahman
Question Asked: 23 Sep 2026, 12:50 AM
Reviewed & Published: 23 Sep 2026, 01:10 AM
Views: 27
Tokens: 4,551
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

জনাব আমি যখন কোন কথা বলি আথবা জিকির করি তখন আমার মনে মনে এটা আসে যে আমি বিবাহ করলে বউ তালাক এমনকি আমি এটা মনে মনে উদ্দেশ্য নিয়ে নিয় এখন আমার কি বিবাহের পরে তালাক হবে যাবে? আথচ আমি বিাবহ করি নাই।
আবার যদি আমি বিবাহের আগে কোন কথা বলে আথবা জিকির করে মনে মনে এটা উদ্দেশ্য নেই যে বিবাহ করলে বউ তালাক তাহলে কি বিবাহের পরে তালাক হবে যাবে?

Answer

বিবাহের আগে মনে মনে তালাকের নিয়ত/ওয়াসওয়াসার বিধান

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

প্রশ্নকারী বলেন: তিনি যখন কোনো কথা বলেন বা যিকির করেন, তখন মনে মনে এমন খেয়াল আসে যে "বিবাহ করলে স্ত্রী তালাক" — এমনকি কখনো কখনো তিনি এটা মনে মনে উদ্দেশ্য নিয়েও নেন। অথচ তিনি এখনো বিবাহ করেননি। জানতে চান — এতে কি বিবাহের পরে তালাক হয়ে যাবে?


সংক্ষিপ্ত উত্তর

না, বিবাহের আগে এ ধরনের নিয়ত বা মনে মনে তালাকের খেয়াল দ্বারা বিবাহের পরে তালাক পতিত হবে না। কারণ—

১. তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য বিবাহ (নিকাহ) থাকা শর্ত। নিকাহর আগে তালাকের কোনো অস্তিত্ব নেই; যে ব্যক্তি বিবাহিতই নন, তিনি তালাক দিতে পারেন না।

২. শুধু মনে মনে খেয়াল বা ওয়াসওয়াসা (শয়তানির কুমন্ত্রণা) দ্বারা তালাক পতিত হয় না — যতক্ষণ না মুখে উচ্চারণ করা হয় বা লিখা হয়।

৩. ভবিষ্যতের সাথে সম্পৃক্ত (মুযাফ) তালাক — যেমন "আমি বিবাহ করলে তালাক" — এ ধরনের শর্তযুক্ত তালাক নিকাহর আগে সংঘটিত হয় না; বরং তা নিকাহ হওয়ার পরই কার্যকর হওয়ার সুযোগ থাকে, যদি তা স্পষ্টভাবে শর্তসহ উচ্চারণ করা হয়।


বিস্তারিত দলিল ও ব্যাখ্যা

১. তালাকের জন্য নিকাহ থাকা শর্ত

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ

"হে নবী! যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দাও, তখন তাদের ইদ্দতের হিসাব রেখে তালাক দাও।" (সূরা আত-তালাক: ১)

আয়াতে "তোমাদের স্ত্রীদেরকে" — অর্থাৎ তালাক কেবল স্ত্রীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। যে ব্যক্তির স্ত্রী নেই, তার তালাকের কোনো হুকুম নেই।

আল-হিদায়া-তে আছে:

"الطلاق لا يقع إلا في نكاح" — "তালাক কেবল নিকাহর মধ্যেই পতিত হয়।"

২. মনে মনে খেয়াল/ওয়াসওয়াসা দ্বারা তালাক হয় না

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ لِأُمَّتِي مَا حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا مَا لَمْ تَتَكَلَّمْ أَوْ تَعْمَلْ بِهِ

"নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের অন্তরের কুমন্ত্রণা (ওয়াসওয়াসা) ক্ষমা করেছেন, যতক্ষণ না সে তা বলে বা কাজে পরিণত করে।" (সহীহ বুখারী: ৫২৬৯, সহীহ মুসলিম: ১২৭)

ইমাম ইবনে আবিদীন শামী (রহ.) রাদ্দুল মুহতার-এ বলেন:

"الوسوسة لا حكم لها في الطلاق" — "ওয়াসওয়াসার তালাকে কোনো হুকুম নেই।"

৩. ভবিষ্যতের সাথে সম্পৃক্ত তালাক (الطلاق المضاف إلى المستقبل)

যদি কেউ বলে: "আমি বিবাহ করলে আমার স্ত্রী তালাক" — এটাকে ফিকহের পরিভাষায় "তালাক মুযাফ" বা "তালাক মু'আল্লাক" (শর্তযুক্ত তালাক) বলা হয়।

ইমাম মুহাম্মাদ (রহ.) থেকে বর্ণিত — আল-হিদায়াফাতাওয়া আলমগিরি-তে আছে:

"إذا قال: إن تزوجت فلانة فهي طالق — لم يقع الطلاق قبل النكاح بالإجماع، فإذا تزوجها وقع عليها الطلاق بذلك الشرط."

অর্থাৎ — নিকাহর আগে এ ধরনের শর্তযুক্ত তালাক পতিত হয় না (ইজমা/সর্বসম্মত)। তবে যদি স্পষ্টভাবে মুখে উচ্চারণ করা হয় এবং পরে সেই শর্ত অনুযায়ী নিকাহ হয়, তাহলে নিকাহ হওয়ার সাথে সাথেই তালাক পতিত হতে পারে।

কিন্তু এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো:

  • প্রশ্নকারী মুখে উচ্চারণ করেননি, শুধু মনে মনে খেয়াল এসেছে।
  • এমনকি "মনে মনে উদ্দেশ্য নিয়েছেন" বললেও — শুধু অন্তরের নিয়ত বা খেয়াল দ্বারা শর্তযুক্ত তালাকও সংঘটিত হয় না, কারণ তালাকের জন্য উচ্চারণ (তালাফফুয) শর্ত।

ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেন:

"الطلاق لا يقع بمجرد النية والعزم بلا لفظ" — "শুধু নিয়ত ও সংকল্প দ্বারা তালাক পতিত হয় না, যতক্ষণ না উচ্চারণ হয়।"

৪. ওয়াসওয়াসা (শয়তানের কুমন্ত্রণা) সম্পর্কে

প্রশ্নকারীর বর্ণনা থেকে স্পষ্ট যে এটি শয়তানের ওয়াসওয়াসা — যিকির বা কথাবার্তার সময় হঠাৎ মনে আসে। শরীয়ত এমন ওয়াসওয়াসাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ সাহাবীদেরকে শিখিয়েছিলেন:

يَعُوذُ بِاللَّهِ وَيَنْتَهِي — "আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইবে এবং তা থেকে বিরত থাকবে।" (সহীহ মুসলিম)

আশরাফ আলী থানভী (রহ.) বেহেশতী জেওর-এ ওয়াসওয়াসা প্রসঙ্গে বলেন:

"ওয়াসওয়াসা শয়তানের পক্ষ থেকে আসে; এর প্রতি ভ্রূক্ষেপ করা যাবে না, বরং 'আউযুবিল্লাহ' পড়ে মনোযোগ সরিয়ে নিতে হবে।"


সিদ্ধান্ত

| অবস্থা | বিধান | |---|---| | বিবাহের আগে মনে মনে খেয়াল আসা (উচ্চারণ ছাড়া) | তালাক পতিত হবে না | | বিবাহের আগে মনে মনে উদ্দেশ্য নেওয়া (উচ্চারণ ছাড়া) | তালাক পতিত হবে না | | বিবাহের আগে মুখে স্পষ্ট বলা: "বিবাহ করলে তালাক" | নিকাহর আগে পতিত হয় না; তবে নিকাহ হলে শর্তসাপেক্ষে পতিত হতে পারে | | শুধু ওয়াসওয়াসা/খেয়াল | সম্পূর্ণ উপেক্ষণীয়, কোনো হুকুম নেই |

অতএব প্রশ্নকারীর ক্ষেত্রে:

  • তিনি এখনো বিবাহ করেননি।
  • তিনি মুখে উচ্চারণ করেননি, শুধু মনে মনে খেয়াল ও উদ্দেশ্য এসেছে।
  • তাই ভবিষ্যতে বিবাহ করলেও এই খেয়াল বা নিয়তের কারণে তালাক পতিত হবে না।

করণীয়

১. ওয়াসওয়াসাকে ভ্রূক্ষেপ করবেন না — এটি শয়তানের কুমন্ত্রণা। ২. যখন এমন খেয়াল আসে, তখন "আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম" পড়ে মনোযোগ সরিয়ে নিন। ৩. মুখে কখনো এমন কথা উচ্চারণ করবেন না — যেমন "বিবাহ করলে তালাক" — কারণ মুখে উচ্চারণ করলে ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি হতে পারে। ৪. নিয়ত ও সংকল্পকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করুন — মনে মনে বলুন: "এটি শয়তানের ওয়াসওয়াসা, এর কোনো মূল্য নেই।" ৫. প্রয়োজনে কোনো নির্ভরযোগ্য মুফতির সাথে সরাসরি পরামর্শ করুন।


আরবি সারসংক্ষেপ (خلاصة الفتوى)

لا يقع الطلاق قبل النكاح بالإجماع، ولا يقع بمجرد الوسوسة أو حديث النفس أو العزم بلا لفظ. فمن وسوس له الشيطان بأنه إذا تزوج طلقت زوجته، ولم يتلفظ بلسانه، فلا أثر لذلك، ولا يقع الطلاق بعد النكاح بسبب هذه الوسوسة. وعليه أن يستعيذ بالله وينتهي عن الوسواس.


মূল রেফারেন্স: সূরা আত-তালাক: ১; সহীহ বুখারী: ৫২৬৯; সহীহ মুসলিম: ১২৭; আল-হিদায়া (কিতাবুত তালাক); রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন); ফাতাওয়া আলমগিরি; বেহেশতী জেওর (আশরাফ আলী থানভী); ফাতাওয়া উসমানি (তাকি উসমানি)।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.