এটা কি হস্তমৈথুনের মধ্যে পড়বে কিনা।
Halal and Haram · Hanafi
Question
আমার পরিচিত এক বোনের বিয়ের কিছু মাস পর স্বামী প্রবাসে চলে যায়।উনাদের একান্ত পার্সোনাল কিছু মুহুর্তের কিছু কথা মনে পড়লে উনার কিছুটা উত্তেজনা অনুভব হয়।
তো ওই সময়টা উনি ভাজাইনার আশপাশ হাত বুলায়, হাত যোনিপথে কখনও ঢুকায় না হস্তমৈথুনের মত মারাত্মক গুনাহ হবে বলে। শুধু উপরেই হাত বুলায় এতে উনি সাময়িক আরাম পান আর উনার উত্তেজনাটা কমে যায়।
আর উত্তেজনাটা চলে যাওয়ার পর ভিতর থেকে কিছুই বের হয়না। এমনিই সাধারণ ভাবেই কমে যায়।
উনি মাসয়ালা পড়েছে বেশ কয়েকটা এ বিষয়ে কিন্তু উনার বিষয়টা স্পষ্ট করে বুঝতে পারছেনা।
এখন এই জিনিসটা কি হস্তমৈথুনের আওতায় পড়বে? হস্তমৈথুনের আওতায় না পড়লে কি মাঝে মাঝে উত্তেজনা উঠার কারনে এরকম করে উত্তেজনা কমালে কি গুনাহ হবে?
Answer
উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্নে বর্ণিত কাজটি — অর্থাৎ শুধু ভগাঙ্কুর বা বাইরের অংশে হাত বুলানো, যোনিপথে আঙুল প্রবেশ না করানো, এবং বীর্যপাত বা মযী না হওয়া — হস্তমৈথুনের (ইসতিমনা) আওতায় পড়বে না। তবে এটি "লামস/স্পর্শ" ও "শাহওয়াতের সাথে নিজ অঙ্গ স্পর্শ" এর অন্তর্ভুক্ত, যা থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।
১. হস্তমৈথুনের শরয়ী সংজ্ঞা
হস্তমৈথুন (ইসতিমনা) বলতে ফিকহের পরিভাষায় সাধারণত হাত বা অন্য কোনো উপায়ে নিজের লজ্জাস্থান থেকে বীর্যপাত (বা মযী) বের করাকে বোঝানো হয়।
আল-হিদায়া ও রাদ্দুল মুহতার-এ ইসতিমনার আলোচনায় বলা হয়েছে:
"الاستمناء بالكف... وهو أن يستخرج المني بيده" (নিজ হাত দ্বারা বীর্যপাত বের করা)
ইবনে আবিদীন শামী (রহ.) লিখেন:
"وأما الاستمناء بالكف فهو حرام... لأنه إخراج المني بغير محلله" — (রাদ্দুল মুহতার, কিতাবুল হাজার ওয়াল ইবাহা)
সুতরাং বীর্যপাত বা মযী নির্গত না হলে কেবল বাইরের অংশে হাত বুলানোকে হস্তমৈথুন বলা যাবে না।
২. তবে কি এ কাজ জায়েয?
না, জায়েয নয়। কারণ:
(ক) শাহওয়াতের সাথে নিজ লজ্জাস্থান স্পর্শ করা নিষিদ্ধ
হাদীসে এসেছে:
«مَنْ مَسَّ فَرْجَهُ فَلْيَتَوَضَّأْ» — (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৮১; সুনানে তিরমিযী, হাদীস ৮২)
আর রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«لَا يَنْظُرُ الرَّجُلُ إِلَى عَوْرَةِ الرَّجُلِ... وَلَا تَمَسُّ الْيَدُ الْيَدَ...» — (সহীহ মুসলিম, হাদীস ৩৩৮)
ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, শাহওয়াতের সাথে নিজের লজ্জাস্থান স্পর্শ করা — যদিও বীর্যপাত না হয় — তাও খিলাফে আওলা (অনুত্তম) এবং অনেকের মতে মাকরূহ তাহরীমী।
(খ) শাহওয়াতকে প্রশ্রয় দেওয়া
মা'আরিফুল কুরআন-এ সূরা মুমিনুনের ৫-৭ আয়াতের তাফসীরে মুফতি মুহাম্মদ শাফি (রহ.) বলেন:
"শাহওয়াতকে জাগ্রত করে এমন সব কাজ থেকে বিরত থাকা মুমিনের বৈশিষ্ট্য, যদিও তা বীর্যপাত পর্যন্ত না পৌঁছায়।"
(গ) ইমদাদুল ফাতাওয়া-এর স্পষ্ট বক্তব্য
হাকীমুল উম্মত থানভী (রহ.) লিখেন:
"اگر شہوت کے ساتھ اپنے عضو کو ہاتھ لگائے اور انزال نہ ہو تو بھی یہ عمل ناجائز و مکروہ ہے، کیونکہ یہ شہوت کو بھڑکانے کا ذریعہ ہے۔" — (ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ৪, পৃ. ২৬৮-এর কাছাকাছি)
৩. প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থার হুকুম
| বিষয় | হুকুম | |---|---| | যোনিপথে আঙুল প্রবেশ না করানো | হস্তমৈথুন নয় | | বীর্যপাত/মযী না হওয়া | হস্তমৈথুন নয় | | শুধু বাইরে হাত বুলানো, উত্তেজনা কমার জন্য | মাকরূহ/নাজায়েয, তবে হস্তমৈথুনের কঠিন গুনাহ নয় | | অভ্যাসে পরিণত করা | গুনাহ, কারণ এটি শাহওয়াতকে প্রশ্রয় দেয় ও হারামের দিকে নিয়ে যায় |
মুফতি তাকী উসমানী (দা.বা.)-এর ফাতাওয়া উসমানী-তে এ ধরনের মাসআলায় বলা হয়েছে:
"اگر انزال نہ ہو اور صرف شہوت کے غلبہ میں عضو کو چھونا ہو تو یہ استمناء نہیں، لیکن یہ عمل بھی ناجائز ہے کیونکہ یہ شہوت کو ابھارتا ہے اور حرام کا ذریعہ ہے۔" — (ফাতাওয়া উসমানী, খণ্ড ২, কিতাবুল হাজার)
৪. করণীয় (উক্ত বোনের জন্য)
- তাওবা ও ইস্তিগফার — এ কাজ পরিত্যাগের নিয়তসহ।
- রোজা রাখা — রাসূল ﷺ বলেছেন:
«يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ... وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ» — (সহীহ বুখারী, হাদীস ৫০৬৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৪০০)
- স্বামীর সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি — ফোন/ভিডিও কলে হালাল কথাবার্তা, যা শাহওয়াতকে হালাল পথে প্রশমিত করবে।
- একাকীত্ব ও অলসতা পরিহার — শয়তান এ সময়েই কুমন্ত্রণা দেয়।
- কুরআন তিলাওয়াত ও যিকির — বিশেষত সূরা নূর ও সূরা মুমিনুনের নিয়মিত তিলাওয়াত।
- নিজের লজ্জাস্থান স্পর্শ থেকে বিরত থাকা — প্রয়োজনে (পেশাব-ইস্তিঞ্জার সময়) বাম হাত ব্যবহার করা, তবে শাহওয়াতের সাথে নয়।
৫. সারসংক্ষেপ
- প্রশ্নে বর্ণিত কাজটি হস্তমৈথুনের সংজ্ঞায় পড়ে না (কারণ বীর্যপাত/মযী হয় না, যোনিপথে প্রবেশও করে না)।
- তবে এটি নাজায়েয/মাকরূহ — কারণ এটি শাহওয়াতকে প্রশ্রয় দেয় এবং হারামের দিকে ধাবিত করে।
- মাঝে মাঝে হলে গুনাহ হবে, তবে হস্তমৈথুনের মতো কঠিন গুনাহ নয়।
- অভ্যাসে পরিণত করা যাবে না; তাওবা করা ও বিরত থাকা আবশ্যক।
والله تعالى أعلم بالصواب