আমি কখন থেকে নামাজ পড়ব?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 5818
Questioner: Taslima Akter
Question Asked: 22 Sep 2026, 03:55 PM
Reviewed & Published: 22 Sep 2026, 06:48 PM
Views: 15
Tokens: 4,310
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১। যদি কোনো হরমোনাল রোগের কারণে অথবা পিসিওএস এর কারণে যদি পিরিয়ডের অনিয়ম হয় অর্থাৎ ২/৩ মাস পিরিয়ড গ্যাপ যাওয়ার পর হলে একটানা ১৫/২০ দিন থাকলে তখন কি ১০ দিন পর থেকে ইস্তেহাযা ধরবো??

২। পিসিওএস এর কারণে যদি ২/৩ মাস গ্যাপের পর পিরিয়ড হলে ৬ দিন এ ভালো হয়ে যদি ৬/৭ দিন পর আবার পিরিয়ড শুরু হয় আর সেটা একটানা ১৫/২০ দিন চলতেই থাকে তাহলে কি সেটা ইস্তেহাযা নাকি পিরিয়ডই ধরবো?

Answer

প্রশ্নোত্তর: অনিয়মিত পিরিয়ড ও ইস্তেহাযার বিধান

ভূমিকা

হায়েজ (মাসিক) ও ইস্তেহাযা (অসুস্থতার রক্তস্রাব) এর পার্থক্য নির্ণয় ইসলামী ফিকহের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হানাফী মাযহাবে হায়েজের সর্বনিম্ন সময় ৩ দিন ৩ রাত (৭২ ঘণ্টা) এবং সর্বোচ্চ সময় ১০ দিন ১০ রাত (২৪০ ঘণ্টা)। এর বাইরে যা হবে তা ইস্তেহাযা হিসেবে গণ্য হবে।


১। ১ম প্রশ্নের উত্তর (২/৩ মাস গ্যাপের পর একটানা ১৫/২০ দিন রক্তস্রাব হলে):

  • শরয়ী সিদ্ধান্ত: আপনার রক্তস্রাব শুরু হওয়ার পর থেকে প্রথম ১০ দিন পর্যন্ত 'হায়েজ' (পিরিয়ড) ধরা হবে। এবং ১০ দিন অতিক্রম করার পর (অর্থাৎ ১১তম দিন থেকে ২০তম দিন পর্যন্ত) যত দিন রক্ত বের হতে থাকবে, সেগুলোকে 'ইস্তিহাযা' (অসুস্থতাজনিত রক্তস্রাব) হিসেবে গণ্য করতে হবে।

  • শরয়ী ব্যাখ্যা: ইসলামি শরীআতে হায়েজের সর্বোচ্চ মেয়াদ হলো ১০ দিন ১০ রাত (২৪০ ঘণ্টা)। কোনো মহিলার ২/৩ মাস পিরিয়ড বন্ধ থাকার পর যদি নতুন করে রক্ত আসা শুরু হয় এবং তা ১০ দিন অতিক্রম করে একটানা ১৫/২০ দিন চলতে থাকে, তবে প্রথম ১০ দিন হায়েজ গণ্য হবে। ১০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর ফরয গোসল করে নামায-রোযা ও অন্যান্য ইবাদত শুরু করতে হবে। ১১তম দিন থেকে যে রক্ত বের হবে তা ইস্তিহাযা বা ব্যাধিজনিত রক্ত, যার কারণে ওজু ভেঙে যায় কিন্তু নামায-রোযা মাফ হয় না।

  • (বিশেষ দ্রষ্টব্য: যদি উক্ত মহিলার পূর্বে পিরিয়ডের কোনো নির্দিষ্ট নিয়মিত অভ্যাস বা 'আদাত' জানা থাকে (যেমন: প্রতি মাসে ৬ বা ৭ দিন হওয়া) এবং ১০ দিন অতিক্রম করে রক্ত চলতে থাকে, তবে ফিকহের নিয়ম অনুযায়ী তার পূর্বের অভ্যাসের দিনগুলো হায়েজ এবং অভ্যাসের পরবর্তী সব দিন ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু যদি নির্দিষ্ট কোনো অভ্যাস জানা না থাকে বা নতুন অবস্থা হয়, তবে ১০ দিন পর্যন্ত হায়েজ ধরা হবে।)

  • সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:

    • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ১৬০, ১৬৩ (অধ্যায়: তাহারাত, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: মহিলাদের খাস রক্তসমূহের বিবরণ — হায়েজের সর্বোচ্চ সীমা ও ইস্তিহাযার বিধান)
    • নূরুল ঈযাহ: পৃষ্ঠা: ৪৬–৪৭ (পরিচ্ছেদ: হায়েয, নেফাস ও ইস্তিহাযা)

২। ২য় প্রশ্নের উত্তর (৬ দিন পিরিয়ডের পর ৬/৭ দিন গ্যাপ দিয়ে আবার ১৫/২০ দিন রক্তস্রাব হলে):

  • শরয়ী সিদ্ধান্ত: প্রথম ৬ দিনের পিরিয়ডের পর যে ৬/৭ দিন রক্ত বন্ধ ছিল এবং তার পরপরই যে রক্ত এসেছে—উক্ত পুনঃরক্তপ্রবাহের প্রথমাংশ (১৫ দিনের মধ্যে পড়া অংশটি) 'ইস্তিহাযা' (অসুস্থতাজনিত রক্তস্রাব) হিসেবে গণ্য হবে, তাকে স্বতন্ত্র পিরিয়ড বা হায়েজ ধরা যাবে না।

  • শরয়ী ব্যাখ্যা: শরীআতের ফিকহী মূলনীতি অনুযায়ী দুই হায়েজের (পিরিয়ডের) মধ্যবর্তী সর্বনিম্ন 'তুহর' বা পবিত্রতার মেয়াদ হলো ১৫ দিন

    • ২/৩ মাস গ্যাপের পর যে ৬ দিন রক্তস্রাব হয়েছিল, তা ছিল আপনার ১ম হায়েজ।
    • এরপর রক্ত বন্ধ থাকার সময়টি ছিল মাত্র ৬/৭ দিন, যা ১৫ দিনের সর্বনিম্ন পবিত্রতার মেয়াদ পূর্ণ করেনি। ফিকহের ভাষায় এটিকে 'তুহরে ফাসিদ' বা অপূর্ণ পবিত্রতা বলা হয়।
    • ফিকহী নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম হায়েজ (৬ দিন) শেষ হওয়ার পর থেকে পরবর্তী কমপক্ষে ১৫ দিন সময় আপনাকে পবিত্রতার (ইস্তিহাযার) মেয়াদের অন্তর্ভুক্ত ধরতে হবে। তাই মধ্যবর্তী ৬/৭ দিন রক্ত বন্ধ থাকার পর আবার যে রক্ত শুরু হয়েছে, সেই রক্তের প্রথমাংশ (১৫ দিন পূরণ হওয়া পর্যন্ত) ইস্তিহাযা বা অসুস্থতাজনিত রক্ত হিসেবে গণ্য হবে।
    • প্রথম ৬ দিনের হায়েজ শেষ হওয়ার পর থেকে গুনে ১৫ দিন অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পরও যদি রক্তস্রাব অবিরত চলতে থাকে, তবে ১৫ দিন পার হওয়ার পর থেকে পরবর্তী সর্বোচ্চ ১০ দিন পর্যন্ত সময় আপনার ২য় হায়েজ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
  • সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:

    • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ১৬০, ১৬৩ (অধ্যায়: তাহারাত, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: দুই হায়েজের মধ্যবর্তী পবিত্রতার সর্বনিম্ন সময় ১৫ দিন হওয়া এবং তুহরে ফাসিদ ও ইস্তিহাযার বিধান)
    • নূরুল ঈযাহ: পৃষ্ঠা: ৪৭ (পরিচ্ছেদ: হায়েয, নেফাস ও ইস্তিহাযা — দুই হায়েজের মধ্যবর্তী ব্যবধান)
    • ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ১৯৭–১৯৮ (অধ্যায়: বাবুল হায়েয ওয়ান নিফাস — তুহরে মুতাখাল্লিল ও ইস্তিহাযার বিবরণ)

আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.