Halal haram related

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 5817
Questioner: Md Maruf
Question Asked: 22 Sep 2026, 03:32 PM
Reviewed & Published: 22 Sep 2026, 03:42 PM
Views: 12
Tokens: 5,081
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

”আসসালামু আলাইকুম,, আমি একজন ফ্রিল্যান্সার আমি ওয়েবসাইট তৈরি করি । তো সেক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের ভিতরে আমাকে ক্লায়েন্টের দেয়া ইমেজ ইউজ করতে হয় । ইমেজ গুলো আমি তৈরি করিনা । ইমেজ গুলো ক্লাইন্ট আমাকে দেয় আমি শুধু ওয়েবসাইটে বসিয়ে দেই । তো দেখা যায় কখনো ছেলেদের ছবি কখনো মেয়েদের ছবি বা কখনো ছেলে মেয়ে উভয়ের ছবি বা কখনো প্রাণীর ছবি ওয়েবসাইটে বসানো লাগতেছে । তো সেক্ষেত্রে এটা কি হারাম হবে কিনা ।" আর যদি হারাম হয়েও থাকে সেক্ষেত্রে কি করতে পারি ?

Answer

ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্টে ছবি ব্যবহারের বিধান

উত্তর (সংক্ষেপে): প্রশ্নে উল্লিখিত কাজটি — অর্থাৎ ক্লায়েন্টের দেওয়া ছবি (বিশেষত প্রাণীর ছবি, নারী-পুরুষের ছবি) ওয়েবসাইটে বসানো — সম্পূর্ণ হারাম নয়, তবে শর্তসাপেক্ষে জায়েয হতে পারে। তবে প্রাণীর ছবি (বিশেষত জীবন্ত প্রাণীর প্রতিকৃতি) তৈরি বা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে শরীয়তের কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো।


১. প্রাণীর ছবি (তাসভীর) সম্পর্কে মূল বিধান

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«إِنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْمُصَوِّرُونَ» — সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৯৫০; সহীহ মুসলিম, হাদীস ২১০৯

অন্য হাদীসে:

«كُلُّ مُصَوِّرٍ فِي النَّارِ، يُجْعَلُ لَهُ بِكُلِّ صُورَةٍ صَوَّرَهَا نَفَسًا يُعَذَّبُ بِهِ فِي جَهَنَّمَ» — সহীহ মুসলিম, হাদীস ২১১০

ইমাম নববী (রহ.) বলেন: এ নিষেধাজ্ঞা ঐসব ছবির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা জীবন্ত প্রাণীর প্রতিকৃতি এবং যেগুলো সম্মানিত/পূজিত হওয়ার উদ্দেশ্যে বা জীবন্ত সত্তার অনুকরণে তৈরি। (শরহু মুসলিম, খণ্ড ১৪, পৃ. ৮১)

হানাফি ফিকহের সিদ্ধান্ত:

  • জীবন্ত প্রাণীর ছবি আঁকা বা তৈরি করা — হারাম, যদি তা স্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিকৃতি হয়।
  • ফটোগ্রাফি নিয়ে হানাফি উলামার মধ্যে মতভেদ আছে:
    • ইমাম ইবনে আবিদীন শামী (রহ.) ও পরবর্তী অনেক হানাফি মুফতি ফটোগ্রাফিকে তাসভীরের অন্তর্ভুক্ত বলেছেন → হারাম বা মাকরূহে তাহরীমী
    • মুফতি মুহাম্মদ শফী (রহ.) (মা'আরিফুল কুরআন) ও মুফতি তাকী উসমানী (দা.বা.) ফটোগ্রাফিকে "ছায়া-প্রতিকৃতি" হিসেবে কিছু ক্ষেত্রে জায়েয বলেছেন, তবে প্রয়োজন ছাড়া ব্যবহার নিষেধ।
    • হাকীমুল উম্মত থানভী (রহ.) (বাহিশতী যেওর) ফটোগ্রাফিকেও তাসভীরের হুকুমে ফেলেছেন।

সারকথা: প্রাণীর ছবি (বিশেষত জীবন্ত প্রাণীর) ওয়েবসাইটে বসানো — প্রয়োজন ছাড়া জায়েয নয়


২. নারী-পুরুষের ছবি (ফটোগ্রাফি) সম্পর্কে

(ক) নারীর ছবি:

  • নারীর ছবি বেগানা পুরুষের সামনে প্রদর্শন করা — কুরআনের আয়াতের সরাসরি পরিপন্থী:

«وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ...» — সূরা নূর: ৩১

  • ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেন: নারীর ছবি এমন স্থানে রাখা যেখানে বেগানা পুরুষ দেখবে — নাজায়েয। (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৬, পৃ. ৩৪৯)

(খ) পুরুষের ছবি:

  • পুরুষের ছবি সতর ঢাকা থাকলে এবং ফিতনার আশঙ্কা না থাকলে — কিছু ক্ষেত্রে জায়েয হতে পারে (যেমন পাসপোর্ট, পরিচয়পত্র)।
  • তবে বিনোদন বা অপ্রয়োজনীয় প্রদর্শন — মাকরূহ।

৩. আপনার প্রশ্নের সরাসরি বিশ্লেষণ

আপনি ছবি তৈরি করছেন না, শুধু ক্লায়েন্টের দেওয়া ছবি ওয়েবসাইটে বসাচ্ছেন। এখানে কয়েকটি দিক বিবেচ্য:

| বিষয় | বিধান | |---|---| | ছবি তৈরি করা | আপনি করছেন না → এ গুনাহ আপনার উপর নেই | | ছবি ওয়েবসাইটে বসানো | আপনি করছেন → এতে অংশীদারিত্বের প্রশ্ন | | ছবির ধরন | প্রাণী/নারী/পুরুষ — ভিন্ন ভিন্ন হুকুম | | ক্লায়েন্টের কাজ | যদি হারাম কাজে সহায়তা হয় → নিষেধ |

মূলনীতি:

«وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ» — সূরা মায়িদা: ২

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) "গুনাহের কাজে সহায়তা" প্রসঙ্গে বলেন: যে ব্যক্তি হারাম কাজে প্রত্যক্ষ সহায়তা করে, সে গুনাহে শরিক হয়। (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৬, পৃ. ৩৯১)

ফতোয়ায়ে উসমানী (খণ্ড ৩, পৃ. ৪৩৫) ও ইমদাদুল ফতোয়া (খণ্ড ৪, পৃ. ২১২)-তে স্পষ্ট আছে: ছবি সংক্রান্ত কাজে সহায়তা করা — যদি তা হারাম ছবি হয়, তবে জায়েয নয়


৪. সমাধান ও করণীয়

(ক) যদি ছবি প্রাণীর/নারীর হয়:

  1. ক্লায়েন্টকে বোঝান — ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের ছবি ব্যবহার করা যায় না।
  2. বিকল্প প্রস্তাব দিন — যেমন:
    • প্রাণীর ছবির বদলে আইকন, ভেক্টর, বা সিলুয়েট (যাতে প্রাণ নেই)।
    • নারীর ছবির বদলে হিজাব/পর্দাসহ ছবি বা অ-জীবন্ত বস্তুর ছবি
    • Illustration/Graphics ব্যবহার।
  3. যদি ক্লায়েন্ট না মানে — তাহলে ঐ কাজটি ছেড়ে দেওয়া বা শুধু টেক্সট/ডিজাইনের অংশ করা।

(খ) যদি ছবি অপরিহার্য হয় (যেমন মেডিকেল, শিক্ষামূলক):

  • প্রয়োজনের পরিমাণে সীমাবদ্ধ রাখুন।
  • চোখ/মুখ অস্পষ্ট করুন বা সিলুয়েট ব্যবহার করুন।
  • ফিতনার আশঙ্কা না থাকলে — কিছু হানাফি উলামা জায়েয বলেছেন (মুফতি তাকী উসমানীর ফতোয়ায় উসমানী, খণ্ড ৩, পৃ. ৪৩৭)।

(গ) বিকল্প পেশা/আয়:

  • যদি আপনার আয়ের বড় অংশ এ ধরনের ছবি থেকে হয়, তবে অন্য ধরনের ওয়েবসাইট (যেমন: টেক্সট-ভিত্তিক, ব্যবসায়িক, শিক্ষামূলক) এর দিকে ঝুঁকুন।
  • হালাল আয়ের চেষ্টা করুন — আল্লাহ তায়ালা বলেন:

«وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا» — সূরা তালাক: ২


৫. চূড়ান্ত ফতোয়া (হানাফি মাযহাব অনুযায়ী)

| অবস্থা | হুকুম | |---|---| | প্রাণীর পূর্ণাঙ্গ ছবি (বিশেষত জীবন্ত) ওয়েবসাইটে বসানো | হারাম বা মাকরূহে তাহরীমী (প্রয়োজন ছাড়া) | | নারীর ছবি বেগানা পুরুষের সামনে প্রদর্শন | হারাম | | পুরুষের ছবি (সতর ঢাকা, ফিতনা নেই) | জায়েয (কিছু ক্ষেত্রে মাকরূহ) | | ক্লায়েন্টের দেওয়া হারাম ছবি বসানো | গুনাহে সহায়তা → নাজায়েয | | প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে (মেডিকেল, শিক্ষা) সীমিত ব্যবহার | জায়েয (মতভেদসহ) |

পরামর্শ: সম্ভব হলে ছবি ছাড়া ডিজাইন বা সিলুয়েট/আইকন ব্যবহার করুন। ক্লায়েন্টকে ইসলামী বিধান বোঝান। যদি ক্লায়েন্ট না মানে, তবে ঐ কাজটি ছেড়ে দেওয়া বা শুধু হালাল অংশ করা উত্তম।


والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.