হায়েজের দশম দিনে নামাজ পড়ার বিধান কী?
Taharah Purity · Hanafi
Question
Answer
হায়েজের সর্বোচ্চ সময়সীমা ও নামাজের বিধান
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
আপনার হায়েজ দশ দিন ধরে চলছে। ইসলামী শরীয়তে হায়েজের সর্বোচ্চ সময়সীমা দশ দিন দশ রাত। দশম দিনে আপনি দ্বিধায় আছেন—এখনই অজু করে নামাজ পড়বেন, নাকি পবিত্র হওয়ার অপেক্ষা করবেন? আর যদি আসর পর্যন্ত পবিত্র না হন, তখন কী করবেন?
ফিকহী বিশ্লেষণ
১. হায়েজের সর্বোচ্চ সময়সীমা
হানাফী মাযহাব অনুযায়ী, হায়েজের সর্বনিম্ন সময় তিন দিন তিন রাত এবং সর্বোচ্চ সময় দশ দিন দশ রাত। এর বেশি হলে তা ইস্তিহাযা (অসুস্থতার রক্ত) হিসেবে গণ্য হবে।
হাদীস: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন— "হায়েজের সর্বনিম্ন সময় তিন দিন এবং সর্বোচ্চ সময় দশ দিন।" — সুনানে দারাকুতনী, সুনানে তিরমিযী
হাদীস: উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী ﷺ বলেছেন— "নিফাসের মহিলা চল্লিশ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।" — সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৩১১
হায়েজ সম্পর্কে ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) এর ফতোয়া হলো—দশ দিন পর্যন্ত হায়েজ, এরপর ইস্তিহাযা।
রেফারেন্স:
- আল-হিদায়া, কিতাবুত তাহারাত
- রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), খণ্ড ১, পৃ. ২৮৩
- ফাতাওয়া আলমগীরী, খণ্ড ১, পৃ. ৩৭
২. দশম দিনে রক্ত বন্ধ হলে করণীয়
মূল নীতি: যদি দশম দিনের মধ্যে (অর্থাৎ ২৪০ ঘণ্টার মধ্যে) রক্ত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং পবিত্রতার আলামত (সাদা স্রাব/কুর) দেখা যায়, তাহলে গোসল করে পবিত্র হয়ে নামাজ শুরু করতে হবে।
কিন্তু যদি ১১ তম দিনেও রক্ত চলমান থাকে,সেক্ষেত্রে আপনি ইস্তিহাযার হুকুমে গণ্য হবেন এবং অজু করে নামাজ পড়তে পারবেন, যদিও রক্ত চলমান থাকে।
ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকী উসমানী), খণ্ড ১, পৃ. ১৩৫: "যদি দশ দিনের মধ্যে রক্ত বন্ধ না হয়, তবে দশ দিন পর থেকে তা ইস্তিহাযা। তখন প্রত্যেক নামাজের ওয়াক্তে অজু করে নামাজ আদায় করতে হবে।"
৩. আপনার নির্দিষ্ট পরিস্থিতি
আপনি বলেছেন—দশম দিন, জোহরের ওয়াক্ত শুরু হয়েছে, এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পবিত্র হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত:
| অবস্থা | করণীয় | |--------|--------| | দশ দিন পূর্ণ হয়নি এবং রক্ত চলমান | অপেক্ষা করুন। যদি দশ দিনের মধ্যে পবিত্র হয়ে যান, গোসল করে নামাজ পড়ুন। | | **দশ দিন পূর্ণ হয়ে গেছে ** এবং রক্ত চলমান | ইস্তিহাযার হুকুম। অজু করে নামাজ পড়ুন, রক্ত আসলেও নামাজ হবে। | | দশ দিনের মধ্যে পবিত্র হয়ে গেছেন | গোসল করে পবিত্র হন, তারপর নামাজ পড়ুন। |
গুরুত্বপূর্ণ: দশম দিনের রক্ত যদি ** বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে পুরো দশ দিনই হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে এবং কাযা নামাজ লাগবে না। কিন্তু যদি ১০ দিন ১০ রাত পূর্ণ হওয়ার পরও রক্ত থাকে, তাহলে দশ দিন হায়েজ আর এর পরের রক্ত ইস্তিহাযা—তখন ইস্তিহাযার দিনগুলোর নামাজ কাযা করতে হবে না, বরং প্রত্যেক ওয়াক্তে অজু করে পড়তে হবে।
৪. যদি আসর পর্যন্ত পবিত্র না হন?
যদি আসর পর্যন্তও পবিত্র না হন এবং দশ দিন দশরাত পূর্ণ হয়ে যায়, তাহলে:
- ইস্তিহাযার হুকুম প্রযোজ্য হবে।
- প্রত্যেক নামাজের ওয়াক্তে অজু করে নামাজ পড়বেন।
- রক্ত চলমান থাকলেও নামাজ সহীহ হবে।
- তবে অজু ভেঙে গেলে (যেমন: বায়ু নির্গত, ঘুম ইত্যাদি) পুনরায় অজু করতে হবে।
রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃ. ২৮৫: "ইস্তিহাযার মহিলা প্রত্যেক নামাজের জন্য নতুন অজু করবে এবং রক্ত আসলেও তার নামাজ সহীহ হবে।"
উপসংহার: আপনি যেহেতু দশম দিনে আছেন এবং দশ দিন দশ রাতপূর্ণ হয়নি, সুতরাং পবিত্র হওয়ার অপেক্ষা করুন।
যদি দশ দিন দশ রাত পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পরেও তথা ১১ তম দিনেও রক্ত চলমান থাকে, তবে ইস্তিহাযার হুকুমে নামাজ পড়বেন।
আর যদি দশ দিনের মধ্যে পবিত্র হয়ে যান, তবে গোসল করে নামাজ পড়ুন, কোনো কাযা লাগবে না।
আল্লাহ তা'আলা সর্বজ্ঞ।