পবিত্রতা নিয়ে

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 5788
Questioner: Tisa Moni
Question Asked: 22 Sep 2026, 03:08 AM
Reviewed & Published: 22 Sep 2026, 03:36 PM
Views: 34
Tokens: 3,867
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

বাবুর হিসুর কাপড় প্রথমে পানি দিয়ে দুএকবার কাচানো হয়, এরপর ছোট একটা বালতিতে কিছু পানি নিয়ে কাঁথা ১টা ধু্য়ে - পানি ওগুলো ফেলে দিয়ে নতুন পানি নিয়ে আরেকটা কাঁথা ধুই, এভাবে চলতে থাকে, মোটকথা বালতি আলাদা ৩বার করে ধুই না। পরপর নতুন পানি নিয়ে নিয়ে কাঁচানো কাঁথা ১টা ১টা ধুতে থাকি।
১) এতে কী কাঁথাগুলো শুকিয়ে যাওয়ার পরও নাপাক হিসেবে গণ্য হবে?
২) বাবু খাওয়ার সময় দুধ পড়ছিলো দেখে ওই কাঁথা দিয়ে মুছেছি গা, এখন গায়ের ওই অংশ নাপাক হয়ে গিয়েছে?

Answer

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহমানির রাহিম। জবাব,


১. ১ নং প্রশ্নের উত্তর (কাঁথাগুলো পাক হয়েছে কি না):

  • নাপাক কাপড় পাক করার শরয়ী মূলনীতি:
    শিশুর হিসু/প্রস্রাব হলো 'অদৃশ্যমান নাপাকী' (نجاسة غير مرئية)। ফিকহে হানাফী অনুযায়ী বালতি বা পাত্রের স্থির পানিতে অদৃশ্যমান নাপাক কাপড় ধোয়ার সাধারণ নিয়ম হলো—তিনবার আলাদা তাজা পানি দিয়ে ধৌত করা এবং প্রতিবার ভালোভাবে নিংড়ানো।
    তবে, যদি কাপড়টি বালতিতে ধোয়ার পূর্বে বা ধোয়ার সময় প্রবহমান পানি (যেমন: চলন্ত ট্যাপের নিচে ধরে) বা পর্যাপ্ত পানি ঢেলে এমনভাবে ধোয়া হয়ে থাকে যে, নাপাকী দূর হওয়ার ব্যাপারে মনে প্রবল ধারণা (গলেবায়ে জন্ন) অর্জিত হয়, তবে ৩ বার আলাদাভাবে নিংড়ানো বা ধোয়ার শর্ত ছাড়াই কাপড়টি সম্পূর্ণ পাক হয়ে যায়।

  • আপনার ক্ষেত্রে হুকুম:
    আপনি যেহেতু কাঁথাগুলো প্রথমে পানি দিয়ে দু-একবার কাচিয়েছেন এবং পরবর্তীতে প্রতিটির জন্য আলাদা তাজা পানি ব্যবহার করেছেন—যদি এগুলো ট্যাপের প্রবহমান পানির নিচে ধুয়ে থাকেন কিংবা পানি দিয়ে ভালোভাবে চিপে নাপাকী বের করে দিয়ে থাকেন, তবে কাঁথাগুলো সম্পূর্ণ পাক হয়ে গেছে ।
    (ভবিষ্যতে আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য নাপাক কাপড় কাচানোর পর ট্যাপের প্রবহমান পানির নিচে কিছুক্ষণ ধুরে নিংড়ে নেওয়াই সবচেয়ে সহজ ও উত্তম পদ্ধতি।)


২. ২ নং প্রশ্নের উত্তর (শিশুর গায়ের ওই অংশ নাপাক হয়েছে কি না):

  • উত্তর: শিশুর গায়ের ওই অংশ সম্পূর্ণ পাক রয়েছে; নাপাক হয়নি।
  • শরয়ী ব্যাখ্যা:
    ১. প্রথমত, ওপরের নিয়ম অনুযায়ী কাঁথাটি ধোয়ার পর শুকিয়ে যাওয়ায় তা পাক বলেই গণ্য হবে।
    ২. দ্বিতীয়ত, যদি ধরেও নেওয়া হয় যে কাঁথাটিতে সামান্য নাপাকীর প্রভাব ছিল, তবুও ফিকহের নিয়ম অনুযায়ী—শুকনো নাপাক কাপড় দিয়ে যদি গায়ের দুধ মোছা হয় এবং নাপাকীর কোনো মূল অংশ, রং বা গন্ধ শিশুর শরীরে লেগে না থাকে, তবে তার দ্বারা শিশুর শরীর নাপাক হয় না।

সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:

১. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ১২৬–১২৭ (অধ্যায়: তাহারাত, ৭ম পরিচ্ছেদ: নাপাকী ও তার আহকাম — প্রবহমান পানি ও পর্যাপ্ত পানি ঢেলে কাপড় পাক করার বিবরণ)
  • পৃষ্ঠা: ১৬৪–১৬৫ (অধ্যায়: সালাত, ৩য় পরিচ্ছেদ: সতর ও শরীর-কাপড়ের পবিত্রতা — শুকনো নাপাক বস্তু দিয়ে মোছার হুকুম)

২. দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ৮৬–৮৭ (অধ্যায়: তাহারাত ও নাপাকী দূরীকরণের ফিকহী মূলনীতি — নাপাক কাপড় ধৌত করার নিয়মাবলী)

৩. নূরুল ঈযাহ:

  • পৃষ্ঠা: ৫১–৫২ (পরিচ্ছেদ: নাপাসাত থেকে পবিত্রতা হাসিলের উপায়)

আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.