পিরিয়ড চলাকালীন তাহাজ্জুদের সময়ে উঠে দোয়া করা যাবে কি?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 5783
Questioner: Sanjida Sakia
Question Asked: 22 Sep 2026, 01:18 AM
Reviewed & Published: 22 Sep 2026, 01:57 AM
Views: 28
Tokens: 3,328
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে তাহাজ্জুদে উঠে দোয়া করা যাবে কি? আর দোয়া করতে হলে কি ব্রাশ করে, জায়নামাজে বসে দোয়া করতে হবে নাকি ঘিম থেকে উঠে বিছানায় বসেই দোয়া করা যাবে?

Answer

পিরিয়ড চলাকালীন তাহাজ্জুদ ও দোয়ার বিধান

উত্তর:

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

সংক্ষিপ্ত উত্তর

হ্যাঁ, হায়েজ (মাসিক) চলাকালীন অবস্থায়ও মহিলা তাহাজ্জুদের সময়ে উঠে দোয়া করতে পারবেন। তবে তিনি নামাজ পড়তে পারবেন না। দোয়ার জন্য ব্রাশ করা বা জায়নামাজে বসা শর্ত নয় — বিছানায় বসে বা শুয়েও দোয়া করা যাবে। তবে উত্তম হলো পবিত্র হয়ে, কিবলামুখী হয়ে, জায়নামাজে বসে দোয়া করা।


বিস্তারিত আলোচনা

১. হায়েজ অবস্থায় দোয়া করার বিধান

হায়েজ অবস্থায় মহিলার জন্য নামাজ, রোজা, কুরআন স্পর্শ করা ও তিলাওয়াত করা নিষিদ্ধ। কিন্তু দোয়া, যিকির, তাসবিহ, দরুদ, ইস্তিগফার সবই জায়েয — বরং এগুলোতে সওয়াব রয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَاذْكُر رَّبَّكَ إِذَا نَسِيتَ "আর তোমার প্রতিপালককে স্মরণ করো যখন ভুলে যাও।" (সূরা কাহফ: ২৪)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

كُلُّ ابْنِ آدَمَ خَطَّاءٌ، وَخَيْرُ الْخَطَّائِينَ التَّوَّابُونَ "প্রত্যেক আদম-সন্তানই ভুল করে, আর ভুলকারীদের মধ্যে উত্তম হলো তারা যারা তাওবা করে।" (তিরমিজি: ২৪৯৯)

হায়েজ অবস্থায় দোয়া-যিকির নিষিদ্ধ হওয়ার কোনো দলিল নেই। ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) রাদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ করেছেন যে, হায়েজ অবস্থায় মহিলা দোয়া, তাসবিহ, দরুদ ও ইস্তিগফার করতে পারবেন। (রাদ্দুল মুহতার: ১/২৯৩)

২. তাহাজ্জুদের সময়ে উঠে দোয়া করা

তাহাজ্জুদের সময় (রাতের শেষ তৃতীয়াংশ) দোয়ার জন্য সবচেয়ে বরকতময় সময়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

يَنْزِلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرُ، فَيَقُولُ: مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ... "আমাদের প্রতিপালক প্রতি রাতে আকাশের নিকটতম স্তরে নেমে আসেন, যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ বাকি থাকে, তখন বলেন: কে আছে যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব..." (বুখারি: ১১৪৫, মুসলিম: ৭৫৮)

সুতরাং হায়েজ অবস্থায়ও মহিলা এই সময়ে উঠে দোয়া করতে পারবেন — এটি নিষিদ্ধ নয়।

৩. দোয়ার জন্য ব্রাশ করা বা জায়নামাজে বসা কি শর্ত?

শর্ত নয়। দোয়ার জন্য পবিত্র হওয়া বা নির্দিষ্ট স্থানে বসা আবশ্যক নয়। তবে মুস্তাহাব হলো:

  • সম্ভব হলে অজু করা (হায়েজে অজু হয় না, তাই এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়)
  • পরিচ্ছন্ন থাকা
  • কিবলামুখী হওয়া
  • জায়নামাজে বা পবিত্র স্থানে বসা
  • হাত তুলে দোয়া করা
  • দোয়ার শুরু ও শেষে দরুদ পড়া

বিছানায় বসে বা শুয়েও দোয়া করা জায়েয। আল্লাহ তাআলা বলেন:

فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُوا لِي وَلَا تَكْفُرُونِ "সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব; আর আমার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকো, অকৃতজ্ঞ হয়ো না।" (সূরা বাকারা: ১৫২)

আরও ইরশাদ হয়েছে:

الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَىٰ جُنُوبِهِمْ "যারা আল্লাহকে স্মরণ করে দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে।" (সূরা আলে ইমরান: ১৯১)

এই আয়াত প্রমাণ করে — দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে সব অবস্থাতেই আল্লাহর যিকির ও দোয়া করা যায়।

৪. হায়েজ অবস্থায় দোয়ার সময় কিছু করণীয়

| বিষয় | বিধান | |------|------| | দোয়া করা | জায়েয | | যিকির-তাসবিহ | জায়েয | | দরুদ পড়া | জায়েয | | ইস্তিগফার | জায়েয | | কুরআন তিলাওয়াত | নিষিদ্ধ | | কুরআন স্পর্শ | নিষিদ্ধ | | নামাজ | নিষিদ্ধ | | রোজা | নিষিদ্ধ | | মসজিদে প্রবেশ | নিষিদ্ধ (মতান্তরে জায়েয) |

৫. ফতোয়ায়ে উসমানি ও ইমদাদুল ফতোয়ার বক্তব্য

মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) ফতোয়ায়ে উসমানি-তে উল্লেখ করেছেন যে, হায়েজ অবস্থায় মহিলা দোয়া, যিকির, দরুদ, তাসবিহ সবই করতে পারবেন; কেবল নামাজ, রোজা ও কুরআন তিলাওয়াত থেকে বিরত থাকবেন। (ফতোয়ায়ে উসমানি: ১/৩০২)

মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) ইমদাদুল ফতোয়া-য় বলেন: "হায়েজ অবস্থায় দোয়া-মুনাজাত, যিকির-আযকার, দরুদ-সালাম সবই জায়েয; এতে কোনো বাধা নেই।" (ইমদাদুল ফতোয়া: ১/২৪৫)


উপসংহার

  1. পিরিয়ড চলাকালীন তাহাজ্জুদের সময়ে উঠে দোয়া করা যাবে — এটি সম্পূর্ণ জায়েয।
  2. ব্রাশ করা বা জায়নামাজে বসা শর্ত নয় — বিছানায় বসে বা শুয়েও দোয়া করা যাবে।
  3. তবে উত্তম ও অধিক সওয়াবের জন্য: পরিচ্ছন্ন হয়ে, কিবলামুখী হয়ে, জায়নামাজে বসে, হাত তুলে দোয়া করা।
  4. হায়েজ অবস্থায় নামাজ, রোজা, কুরআন তিলাওয়াত ও স্পর্শ থেকে বিরত থাকবেন।

والله أعلم بالصواب



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.