অনলাইন আয় হালাল-হারাম
Halal and Haram · Hanafi
Question
অনলাইন মারকেটিং এর মূল উদ্দেশ্যো অনলাইনে পন্য বিক্রি করা। বেশির ভাগ সময় এটি ওয়েবসাইট থেকে বিক্রি হয়(অন্য উপায়েও হতে পারে)। যদি একটি হালাল সার্ভিস এর বিজনেস ওয়েবসাইট এ হারাম কন্টেন্ট থাকে (বেশির ভাগ সময় উপযুক্ত পর্দাহীন নারী), তাহলে ওই বিজনেসের ওয়েবসাইটএর মারকেটিং করে ইনকাম করা অর্থ কি হালাল হবে?
Answer
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ: একটি হালাল সার্ভিস/বিজনেসের ওয়েবসাইটে যদি হারাম কন্টেন্ট (যেমন: পর্দাহীন নারীর ছবি/ভিডিও) থাকে, তাহলে সেই ওয়েবসাইটের মার্কেটিং করে ইনকাম করা অর্থ হালাল হবে কি না?
সংক্ষিপ্ত শরয়ী সিদ্ধান্ত:
একটি ব্যবসা বা সার্ভিসের মূল সেবা হালাল হলেও, তার ওয়েবসাইট বা প্রচার মাধ্যমে যদি হারাম কনটেন্ট (যেমন: উপযুক্ত পর্দাহীন/বেপর্দা নারীর ছবি, ভিডিও বা অশালীন উপাদান) বিদ্যমান থাকে, তবে উক্ত ওয়েবসাইটের মার্কেটিং করে আয় করার ফিকহী হুকুম দুটি সুরতের ওপর নির্ভরশীল:
১. যদি মার্কেটিংয়ের কাজে সরাসরি বেপর্দা নারীর ছবি/ভিডিও বা হারাম কনটেন্ট প্রমোট বা প্রচার করতে হয়:
এই সুরতে ওই ওয়েবসাইট বা সার্ভিসের মার্কেটিং করে টাকা উপার্জন করা শরী'আতের দৃষ্টিতে নাজায়েয ও হারাম। কারণ, এতে সরাসরি হারাম ও গুনাহের কাজের প্রচার-প্রসার এবং তাতে সহযোগিতা করা হয় (ই‘আনাতু ‘আলাল মা‘সিয়াহ)।
২. যদি কন্টেন্টে বেপর্দা নারী থাকা সত্ত্বেও আপনি মার্কেটিংয়ে কেবল হালাল সার্ভিসটিকেই প্রচার করেন:
মার্কেটিং বিজ্ঞাপনে কোনো প্রকার বেপর্দা নারীর ছবি বা নিষিদ্ধ উপাদান ব্যবহার না করে যদি কেবল মূল হালাল সার্ভিসটির প্রচার করা হয়, তবে সে ক্ষেত্রে অর্জিত পারিশ্রমিক মূল কাজের বিচারে হালাল হবে। তবে ওয়েবসাইটটিতে হারাম কনটেন্ট থাকায় এমন ক্লায়েন্টের কাজ থেকে বিরত থাকা তাকওয়া ও সতর্কতার নিকটবর্তী।
বিস্তারিত শরয়ী বিশ্লেষণ:
- বেগানা নারীর প্রতি দৃষ্টিপাত ও প্রচারের হুকুম: শরী'আতে গায়রে মাহরাম বা বেপর্দা নারীর দিকে অনাবশ্যক দৃষ্টিপাত করা ও তা প্রচার করাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং দৃষ্টি সংযত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতএব, মার্কেটিংয়ের উদ্দেশ্যে পর্দাহীন নারীর ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করা বা মানুষের সামনে তা প্রদর্শন করা শরীয়তসম্মত নয়।
- নাজায়েয ও হারাম কাজের বিনিময়ে উপার্জন: ফিকহে হানাফীর সুনির্দিষ্ট নীতি অনুযায়ী, কোনো অশালীন বা হারাম প্রোগ্রাম, ছবি বা কনটেন্ট প্রচার বা বিপণন করে তার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা নাজায়েয।
- অন্যায়ে সহযোগিতা (إعانة على المعصية): পবিত্র কুরআনের নির্দেশ অনুযায়ী গুনাহ ও অন্যায়ের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করা নিষিদ্ধ [৫৭৮]। কোনো ওয়েবসাইটে প্রকাশ্যে বেপর্দা নারীর ছবি থাকলে তা সরাসরি প্রমোট করা গুনাহের কাজে সহযোগিতার অন্তর্ভুক্ত।
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
১. দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৪৩১ (অধ্যায়: মোবাইল: আদাব ও মাসাইল — অপরিচিত নারীর সাথে দৃষ্টিভঙ্গি ও কথাবার্তার শরয়ী বিধান)।
- পৃষ্ঠা: ৪৩৫ (অধ্যায়: মোবাইল ক্রয়-বিক্রয় ও ডাউনলোডিং — নাজায়েয ও অশ্লীল প্রোগ্রাম/ছবি প্রচারের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ নাজায়েয হওয়ার বিধান) ।
২. দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ১৬৩ (অধ্যায়: দৃষ্টি সংযত রাখা ও সতর আবৃত রাখার নির্দেশ) [২২৫]।
- পৃষ্ঠা: ১৭৯ (অধ্যায়: হারাম অর্থ-সম্পদ — গুনাহ বা হারাম কর্মের বিনিময়ে অর্জিত সম্পদ নাজায়েয হওয়া)।
৩. বুহুস ফি কাযায়া ফিকহিয়্যাহ মুয়াসারা (১ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৩৩১–৩৩২ (অধ্যায়: 'ইআনাতু আলাল মাসিয়াহ' (গুনাহের কাজে সহযোগিতা) সংক্রান্ত শরয়ী ফায়সালা ও মূলনীতি)।
আল্লাহ সর্বজ্ঞ।