অবসর সময়ে কি একজন মহিলার জন্য ইউটিউবে মহিলাদের ভিডিও বা ব্লগ দেখা কি জায়েজ?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
উস্তাজ অবসর সময়ে কি একজন মহিলার জন্য ইউটিউবে মহিলাদের ভিডিও বা ব্লগ দেখা যাবে? ফরজ নফল আমল সময়মতো করে যদি দিনে অল্প কিছুক্ষণ দেখি।
Answer
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
সংক্ষিপ্ত শরয়ী সিদ্ধান্ত:
ফরয ও নফল আমলসমূহ যথাসময়ে আদায় করার পর অবসর সময়ে ইউটিউবে নারীদের ভিডিও বা ব্লগ দেখার ক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান হলো—ভিডিওটি যদি গান-বাজনা/বাদ্যযন্ত্র, গায়রে মাহরাম (পরপুরুষের) উপস্থিতি, বেপর্দা প্রদর্শন ও অশালীনতামুক্ত হয়ে কেবল শিক্ষণীয়, দ্বীনি বা গৃহস্থালি বৈধ বিষয়ভিত্তিক হয়, তবে তা দেখা সতর্কতামূলক শর্তসাপেক্ষে জায়েয।
তবে যদি তাতে বাদ্যযন্ত্র, পর্দার লঙ্ঘন, অনর্থক সময় অপচয় কিংবা অপসংস্কৃতির উপাদান থাকে, তবে তা দেখা নাজায়েয ও হারাম ।
বিস্তারিত শরয়ী বিশ্লেষণ ও আবশ্যকীয় শর্তাবলী:
১. গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্রমুক্ত হওয়া:
ভিডিও বা ব্লগের ব্যাকগ্রাউন্ডে কোনো প্রকার গান-বাজনা, বাদ্যযন্ত্র বা শরীয়তবিরোধী সুর থাকলে তা দেখা ও শোনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
২. পর্দা রক্ষা ও গায়রে মাহরাম পুরুষের অনুপস্থিতি:
ভিডিওতে কোনো গায়রে মাহরাম (পরপুরুষ)-এর উপস্থিতি বা দৃষ্টিপাত থাকা যাবে না। এছাড়া নারীদের চেহারা ও সৌন্দর্য প্রকাশের ক্ষেত্রে শরয়ী পর্দার হুকুম লঙ্ঘন করা হলে বা ফেতনার আশঙ্কা থাকলে তা প্রদর্শন করা ও দেখা নাজায়েয।
৩. অহেতুক সময় অপচয় (মা-লা ইয়ানী) বর্জন:
ফরয-নফল আমল আদায়ের পরও জীবন থেকে অহেতুক ও অনর্থক বিনোদনে সময় নষ্ট করা শরীয়তে অপছন্দনীয় । হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছে: “মানুষের ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো অহেতুক ও অনর্থক বিষয় পরিহার করা”। তাই দ্বীনি বা দুনিয়াবি বাস্তব উপকারিতা ছাড়া নিছক সময় কাটানোর জন্য ইউটিউবে সময় ব্যয় করা উচিত নয়।
৪. ক্ষতিরোধের ফিকহী মূলনীতি:
ইসলামি ফিকহের গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো—“উপকার অর্জনের চেয়ে ক্ষতিরোধ করাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে” । স্ক্রিনে প্রদর্শিত কন্টেন্ট যদি অপসংস্কৃতি বা মানসিক কলুষতা তৈরি করে, তবে তা থেকে দূরে থাকাই তাকওয়া ও সতর্কতার দাবী।
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
১. দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৩৯৭–৩৯৯: (অধ্যায়: টিভি ও প্রচার মাধ্যম — শর'য়ী মূলনীতিসমূহ, ক্ষতিরোধকে অগ্রাধিকার দেওয়া ও হারামের মাধ্যম বর্জন) ।
- পৃষ্ঠা: ৪০০–৪০১: (অধ্যায়: বেপর্দা চিত্র, পরপুরুষের দৃষ্টি ও গান-বাজনা/বাদ্যযন্ত্রের নিষিদ্ধতা) ।
- পৃষ্ঠা: ৪০৩–৪০৪: (অধ্যায়: অনর্থক কাজ ও মা-লা ইয়ানী বিষয় পরিহারের হাদিস এবং সময় অপচয়ের শরয়ী হুকুম)।
- পৃষ্ঠা: ৪৪০–৪৪১: (অধ্যায়: বাদ্যযন্ত্র ও অপসংস্কৃতি বর্জনের বিবরণ)।
- পৃষ্ঠা: ৪৩১: (অধ্যায়: পরিচিত ও অপরিচিত গায়রে মাহরামের সাথে দৃষ্টিভঙ্গির শরয়ী সীমা)।
২. দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ১১৬: (অধ্যায়: প্রযুক্তির সাহায্যে ফিকহী মূলনীতি — বৈধ মাধ্যমের ব্যবহারবিধি) ।
والله أعلم بالصواب