সফরে মুসাফির অবস্থায় কাজা নামাজ কীভাবে আদায় করবেন? কসর করে ২ রাকআত নাকি পূর্ণ ৪ রাকআত?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 5708
Questioner: tasmia sultana
Question Asked: 19 Sep 2026, 10:50 PM
Reviewed & Published: 20 Sep 2026, 12:28 AM
Views: 34
Tokens: 3,226
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ
আমার বোন জিজ্ঞেস করতেছেন উনি ঢাকা সফরে যাবেন,,এক্ষেত্রে উনার রাস্তায় ২/৩ ওয়াক্ত নামাজ কাজা হয়ে যাবে,, মুসাফির অবস্থায় কাজা নামাজ কীভাবে আদায় করবেন? কসর করে নাকি পুরো নামাজ কাজা

Answer

সফরে কাজা নামাজ আদায়ের নিয়ম

উত্তর:

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

সংক্ষিপ্ত উত্তর

মুসাফির অবস্থায় যে নামাজগুলো কসর (চার রাকআতের জায়গায় দুই রাকআত) হিসেবে আদায় করার ছিল, সেগুলোর কাজা করতেও কসর করাই ওয়াজিব — অর্থাৎ দুই রাকআত আদায় করবেন। আর যে নামাজ মুকিম অবস্থায় ছুটে গেছে, তার কাজা পূর্ণ চার রাকআতই আদায় করবেন।

বিস্তারিত

১. মূল নীতি (কায়দা)

হানাফি মাযহাবের সুপ্রতিষ্ঠিত নিয়ম হলো:

"আদায়ের অবস্থা অনুযায়ী কাজার হুকুম নির্ধারিত হয়।"

অর্থাৎ নামাজ যে অবস্থায় (মুকিম বা মুসাফির) ছুটে গেছে, কাজা আদায়ের সময়ও সেই অবস্থার হুকুম প্রযোজ্য হবে। যদি নামাজ মুসাফির অবস্থায় ছুটে যায়, তবে তার কাজাও কসর করেই আদায় করতে হবে। আর যদি মুকিম অবস্থায় ছুটে যায়, তবে কাজা পূর্ণ আদায় করতে হবে।

২. দলিল

কুরআনুল কারীম:

"আর যখন তোমরা জমিনে সফর করো, তখন তোমাদের জন্য কোনো গুনাহ নেই যে, তোমরা নামাজ কসর করবে..." — (সূরা আন-নিসা: ১০১)

হাদিস শরীফ:

হযরত ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:

"নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা মুসাফিরের নামাজ অর্ধেক (কসর) করে দিয়েছেন।" — (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ৬৮৬)

ফিকহের কিতাব:

আল্লামা ইবনে আবিদীন শামী (রহঃ) রাদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ করেন:

"কসরের হুকুম আদায় ও কাজা উভয় ক্ষেত্রেই সমান। সুতরাং মুসাফির যদি মুসাফির অবস্থায় কোনো চার রাকআতের নামাজ ছুটে ফেলে, তবে সে দুই রাকআত কাজা আদায় করবে।" — (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ২, পৃ. ১৩১)

ফাতাওয়া আলমগিরি-তে এসেছে:

"মুসাফিরের উপর চার রাকআতের নামাজ দুই রাকআত হিসেবে ফরজ হয়, চাই আদায় হোক বা কাজা।" — (ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃ. ১৩৯)

৩. আপনার বোনের ক্ষেত্রে প্রয়োগ

যেহেতু আপনার বোন ঢাকা সফরে যাওয়ার পথে মুসাফির অবস্থায় ২/৩ ওয়াক্ত নামাজ ছুটে যাবে, তাই:

| বিষয় | হুকুম | |------|------| | ছুটে যাওয়া নামাজের অবস্থা | মুসাফির | | কাজা আদায়ের পদ্ধতি | কসর (২ রাকআত) | | যোহর, আসর, ইশা | ২ রাকআত করে কাজা | | ফজর | ২ রাকআত (কসর নেই, স্বাভাবিক) | | মাগরিব | ৩ রাকআত (কসর নেই, স্বাভাবিক) |

অর্থাৎ: যোহর, আসর ও ইশার কাজা ২ রাকআত করে আদায় করবেন — পূর্ণ ৪ রাকআত নয়।

৪. গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা

  • কসর করা ওয়াজিব: মুসাফিরের জন্য চার রাকআতের নামাজ দুই রাকআত আদায় করা ওয়াজিব। ইচ্ছাকৃতভাবে পূর্ণ চার রাকআত আদায় করা মাকরূহ তাহরিমি। তবে কেউ যদি ভুলে বা না জেনে পূর্ণ পড়ে ফেলে, নামাজ হয়ে যাবে, তবে পুনরায় পড়া উত্তম।
  • মুসাফিরের সংজ্ঞা: কমপক্ষে ৪৮ মাইল (প্রায় ৭৭-৭৮ কিমি) দূরত্বের সফর, যা পায়ে হাঁটা, সওয়ারি বা বিমানে হোক — সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ঢাকা থেকে সাধারণত এই দূরত্ব অতিক্রম হয়।
  • মুসাফির থাকার সময়সীমা: কোনো স্থানে ১৫ দিনের কম থাকার নিয়তে অবস্থান করলে মুসাফির থাকবেন; ১৫ দিন বা বেশি থাকার নিয়ত করলে মুকিম হয়ে যাবেন।
  • জামাতে আদায়: মুসাফির ইমামের পেছনে মুকিম হলে পূর্ণ নামাজ পড়বেন; আর মুসাফির ইমাম হলে মুকিম মুক্তাদি নামাজ শেষ করে বাকি অংশ একা পড়বেন।

৫. ব্যবহারিক পরামর্শ

১. সফরের পথে সম্ভব হলে নামাজ যথাসময়ে আদায় করার চেষ্টা করুন — ওয়াক্তের মধ্যে আদায় করা কাজার চেয়ে উত্তম। ২. যদি ওয়াক্ত ছুটে যায়, তবে স্মরণ হওয়ামাত্রই কাজা আদায় করুন। ৩. সফরে যোহর ও আসর একসাথে (জমা) আদায় করা হানাফি মাযহাবে সাধারণত জায়েয নয় — তবে বিশেষ প্রয়োজনে ফাতাওয়া উসমানিতে কিছুটা ছাড় রয়েছে। ৪. সন্দেহ হলে স্থানীয় নির্ভরযোগ্য মুফতির পরামর্শ নিন।


والله أعلم بالصواب

উত্তরটি হানাফি মাযহাবের প্রামাণ্য কিতাব — রাদ্দুল মুহতার, ফাতাওয়া আলমগিরি, ফাতাওয়া উসমানি ও ইমদাদুল ফাতাওয়া — এর ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.