রুকাইয়ার তেল ব্যবহার করা সম্পর্কে জানতে চাই।

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 5693
Questioner: Rahat Bellal hasan
Question Asked: 19 Sep 2026, 08:24 PM
Reviewed & Published: 19 Sep 2026, 08:38 PM
Views: 12
Tokens: 5,162
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
​সম্মানিত শায়খ/ওস্তাদ, আশা করি আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন।
​রুকইয়াহ সংক্রান্ত একটি মাসআলা স্পষ্ট হওয়ার জন্য আপনাকে প্রশ্নটি করছি। ডিটক্স রুকইয়াহ্‌র রুটিনে প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে পড়া তেল সারা শরীরে মালিশ করার নির্দেশ থাকে।
​এখানে জানার বিষয় হলো:
​পড়া তেলের সম্মান ও আদব রক্ষার্থে লজ্জাস্থান বাদ দিয়ে বাহ্যিক অঙ্গগুলোতে তেল দেওয়া উচিত, নাকি পা থেকে মাথা পর্যন্ত (লজ্জাস্থানসহ) সব জায়গায় তেল ব্যবহার করতে হবে?
পড়া তেল লজ্জাস্থানে ব্যবহার করলে কি গুনাহ হবে?
​পড়া পানি দিয়ে গোসল করার সময় যেমন স্বাভাবিকভাবেই তা লজ্জাস্থানেও পড়ে, পড়া তেলের ক্ষেত্রেও কি সেই একই হুকুম প্রযোজ্য হবে?
​বিষয়টির সঠিক শারঈ বিধান ও নিয়ম জানালে কৃতজ্ঞ থাকব। বারাকাল্লাহু ফীক।

Answer

بسم الله الرحمن الرحيم

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

সম্মানিত প্রশ্নকর্তা,

আপনার প্রশ্নের মূল বিষয় হলো—রুকইয়াহ বা দোয়া-পড়া তেল লজ্জাস্থানে (সতর) ব্যবহার করা এবং সেখানে তা লাগানো সম্পর্কে শরীয়তের বিধান কী?

সংক্ষিপ্ত উত্তর:

১. দোয়া-পড়া তেল বা সাধারণ তেল—উভয় ক্ষেত্রেই লজ্জাস্থানে (সতরের অংশে) তেল লাগানো নিজে নিজে কোনো গুনাহ নয়, যদি তা প্রয়োজনে বা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে হয় এবং অন্য কেউ না দেখে হয়। তবে শরীয়তের আদব হলো—লজ্জাস্থান ঢেকে রেখে, কারও সামনে না খুলে, প্রয়োজন পরিমাণে তেল ব্যবহার করা।

২. দোয়া-পড়া তেলকে সাধারণ তেলের মতোই হুকুম প্রযোজ্য। কারণ দোয়া-পড়া তেলের মধ্যে তেলের স্বাভাবিক গুণাগুণ ছাড়া অন্য কোনো শরীয়তসম্মত নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে আদব রক্ষার্থে লজ্জাস্থানে তা লাগানোর সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

৩. দোয়া-পড়া পানি দিয়ে গোসলের সময় যেমন পানি স্বাভাবিকভাবেই লজ্জাস্থানে পৌঁছে যায় এবং তাতে কোনো গুনাহ হয় না, তেমনি দোয়া-পড়া তেলও যদি গোসলের পর বা প্রয়োজনে লজ্জাস্থানে লাগানো হয়, তাতেও গুনাহ হবে না—শর্ত হলো: (ক) তা প্রয়োজনে বা চিকিৎসার জন্য হবে, (খ) অন্য কেউ দেখবে না, (গ) অশ্লীলতা বা কামভাবের উদ্দেশ্যে হবে না।


বিস্তারিত দলিল ও ব্যাখ্যা:

১. সতর ঢাকা ওয়াজিব, কিন্তু নিজের সতরে নিজে হাত দেওয়া বা ওষুধ লাগানো নিষিদ্ধ নয়

হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«لَا يَنْظُرُ الرَّجُلُ إِلَى عَوْرَةِ الرَّجُلِ، وَلَا الْمَرْأَةُ إِلَى عَوْرَةِ الْمَرْأَةِ» "কোনো পুরুষ অন্য পুরুষের সতরের দিকে তাকাবে না, কোনো নারী অন্য নারীর সতরের দিকে তাকাবে না।" — সহীহ মুসলিম, হাদিস: ৩৩৮

এখানে নিষেধাজ্ঞা অন্যের সতরের দিকে তাকানোর ব্যাপারে। নিজের সতরে নিজে প্রয়োজনবশত হাত দেওয়া বা ওষুধ লাগানো নিষিদ্ধ নয়।

২. ফুকাহায়ে কেরামের স্পষ্ট বক্তব্য

ইমাম ইবনে আবিদিন শামী (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ লিখেছেন:

«وَلَا بَأْسَ بِمَسِّ الرَّجُلِ عَوْرَةَ نَفْسِهِ وَكَذَا الْمَرْأَةُ» "নিজের সতরে নিজে হাত দেওয়া বা স্পর্শ করা নিষিদ্ধ নয়; নারীর ক্ষেত্রেও একই হুকুম।" — রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃ. ৪০৬ (দারুল ফিকর সংস্করণ)

আরও এসেছে:

«لَوْ وَضَعَ دَوَاءً عَلَى عَوْرَتِهِ لَا بَأْسَ بِهِ» "যদি কেউ নিজের সতরে ওষুধ লাগায়, তাতে কোনো অসুবিধা নেই।" — ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ৫, পৃ. ৩২৯

৩. দোয়া-পড়া তেলের হুকুম সাধারণ তেলের মতোই

দোয়া-পড়া তেল বা পানি—এগুলো মূলত তেল ও পানি। এতে দোয়া পড়লে তা রুকইয়াহর একটি মাধ্যম হয়ে যায়, কিন্তু তেলের স্বাভাবিক ভৌত গুণাগুণ পরিবর্তন হয় না। তাই:

  • গোসলের পানি যেমন সতরে পৌঁছালে গুনাহ হয় না (বরং গোসলের জন্য তা অপরিহার্য),
  • তেমনি দোয়া-পড়া তেলও যদি সতরে লাগানো হয়—বিশেষত চিকিৎসা বা রুকইয়াহর নির্দেশনার অংশ হিসেবে—তাতে গুনাহ হবে না।

৪. তবে আদব ও সতর্কতা অবলম্বন করা উত্তম

যদিও গুনাহ হবে না, তবুও নিম্নলিখিত আদবগুলো রক্ষা করা উচিত:

  • একান্ত নির্জন স্থানে তেল লাগানো, যাতে কেউ না দেখে।
  • প্রয়োজন পরিমাণে তেল ব্যবহার করা, অতিরিক্ত নয়।
  • কামভাব বা অশ্লীল উদ্দেশ্য থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকা।
  • লজ্জাস্থানে তেল লাগানোর সময় কাপড় দিয়ে ঢেকে বা হাতের আড়ালে রেখে লাগানো।
  • নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য একই বিধান—নিজের সতরে নিজে প্রয়োজনবশত তেল বা ওষুধ লাগানো জায়েজ।

৫. বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ

যদি রুকইয়াহর নির্দেশনা দেন এমন কোনো আমিল বা রাকী বলেন যে "লজ্জাস্থানসহ সারা শরীরে তেল লাগাতে হবে"—তবে তা শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ, কারণ এটি চিকিৎসা বা রুকইয়াহর অংশ। কিন্তু যদি কেউ অশ্লীল উদ্দেশ্যে বা শরীয়তবিরোধী কোনো কাজের জন্য তা করতে বলে, তবে তা কখনোই জায়েজ নয়।


সারসংক্ষেপ:

| বিষয় | হুকুম | |------|------| | দোয়া-পড়া তেল লজ্জাস্থানে লাগানো | জায়েজ, গুনাহ নেই (প্রয়োজন/চিকিৎসার ক্ষেত্রে) | | সাধারণ তেল লজ্জাস্থানে লাগানো | জায়েজ | | দোয়া-পড়া পানি গোসলের সময় সতরে পৌঁছানো | জায়েজ, গুনাহ নেই | | অশ্লীল উদ্দেশ্যে বা অন্যের সামনে খুলে লাগানো | নাজায়েজ | | আদব রক্ষা করে নির্জনে লাগানো | উত্তম ও সুন্নতসম্মত |

উপসংহার: দোয়া-পড়া তেল লজ্জাস্থানে ব্যবহার করা শরীয়তসম্মত, যদি তা প্রয়োজনে, নির্জনে এবং অশ্লীলতা মুক্ত হয়। গোসলের পানির মতোই এর হুকুম। তবে সম্মান ও আদব রক্ষার্থে সতর্কতা অবলম্বন করা উত্তম।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.