২২৮ কিলোমিটার দূরে ১৫ দিন থাকার নিয়তে গিয়ে কম দিন থাকলে নামাজের হুকুম কী?
Family Life · Hanafi
Question
দূরে আমার বাবার বাড়িতে বেড়াতে গেলাম
যাওয়ার পর 15 দিন থাকার কথা ছিল কিন্তু কোন এক কারণে এতদিন থাকা হলো না তার কম থাকা হলো এক্ষেত্রে কি করণীয়
Answer
প্রশ্ন: ২২৮ কিলোমিটার দূরে বাবার বাড়িতে ১৫ দিন থাকার নিয়তে গমন, কিন্তু কম দিন থাকা হলে নামাজ কীভাবে আদায় করবেন?
সংক্ষিপ্ত উত্তর
আপনি যেহেতু ২২৮ কিলোমিটার দূরে গিয়েছিলেন এবং ১৫ দিন থাকার নিয়ত করেছিলেন, সেহেতু আপনি সেখানে পৌঁছানোর পর মুকীম (স্থানীয় বাসিন্দা) হিসেবে গণ্য হয়েছিলেন। অর্থাৎ আপনার উপর কসর (নামাজ সংক্ষিপ্ত করা) ওয়াজিব ছিল না; আপনি পূর্ণ চার রাকআত নামাজ আদায় করতেন। এখন কম দিনে ফিরে এলেও আগে যেসব নামাজ পূর্ণ আদায় করেছেন, তা সহীহ হয়েছে — সেগুলোর কোনো কাযা বা পুনরায় আদায়ের প্রয়োজন নেই।
তবে যদি কোনো কারণে কসর (২ রাকআত) পড়ে থাকেন, তাহলে সেটি পুনরায় পূর্ণ ৪ রাকআত পড়তে হবে।
বিস্তারিত আলোচনা
১. মুসাফির কে?
হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, যে ব্যক্তি নিজের শহর বা গ্রাম থেকে ৪৮ মাইল (প্রায় ৭৭-৭৮ কিলোমিটার) বা তার বেশি দূরের কোনো স্থানে সফরের নিয়তে বের হয়, সে মুসাফির বলে গণ্য হয়। ([রাদ্দুল মুহতার, ২/১২১; ফাতাওয়া আলমগিরি, ১/১৩৯])
আপনার ক্ষেত্রে দূরত্ব ২২৮ কিলোমিটার, যা শর্তের চেয়ে অনেক বেশি। তাই আপনি সফরের সময় মুসাফির ছিলেন।
২. মুসাফির কখন মুকীম হয়?
মুসাফির যদি কোনো স্থানে ১৫ দিন বা তার বেশি থাকার নিয়ত করে, তাহলে সে সেখানে পৌঁছানোর সাথে সাথেই মুকীম হয়ে যায় এবং তার উপর কসর ওয়াজিব থাকে না; পূর্ণ নামাজ পড়তে হয়। ([আল-হিদায়া, ১/৮০; রাদ্দুল মুহতার, ২/১২৩])
আপনি ১৫ দিন থাকার নিয়ত করেছিলেন, তাই বাবার বাড়িতে পৌঁছানোর পর আপনি মুকীম হিসেবে গণ্য হয়েছিলেন।
৩. কম দিন থাকা হলে কী হবে?
এখানে দুটি দিক বিবেচ্য:
(ক) নামাজের হুকুম:
যেহেতু ১৫ দিনের নিয়ত ছিল, তাই পৌঁছানোর পর আপনি মুকীম ছিলেন। ফলে আপনি যে নামাজগুলো পূর্ণ ৪ রাকআত পড়েছেন, সেগুলো সহীহ ও যথেষ্ট। পরে কম দিনে ফিরে এলেও সেই নামাজগুলো কাযা বা পুনরায় আদায় করতে হবে না। কারণ নামাজের সহীহ হওয়ার হুকুম সেই সময়ের নিয়ত ও অবস্থার উপর নির্ভর করে।
(খ) যদি কসর পড়ে থাকেন:
যদি ভুলে বা অজ্ঞতাবশত আপনি ২ রাকআত (কসর) পড়ে থাকেন, তাহলে যেহেতু আপনার উপর পূর্ণ নামাজ ওয়াজিব ছিল, সেহেতু প্রতিটি কসর নামাজের জন্য পূর্ণ ৪ রাকআত নামাজ কাযা করতে হবে। ([রাদ্দুল মুহতার, ২/১২৭])
৪. সফরের সময়ের নামাজ
সফরের পথে বা বাবার বাড়িতে পৌঁছানোর আগে যেসব নামাজ পড়েছেন, সেগুলো কসর (২ রাকআত) পড়াই ছিল আপনার জন্য ওয়াজিব। সেগুলো যদি কসর পড়ে থাকেন, তবে সহীহ হয়েছে।
সারসংক্ষেপ
| অবস্থা | হুকুম | |---|---| | ২২৮ কিমি দূরে সফর | মুসাফির | | ১৫ দিন থাকার নিয়ত | পৌঁছানোর পর মুকীম | | মুকীম অবস্থায় পূর্ণ ৪ রাকআত পড়া | সহীহ, কাযা নেই | | কম দিনে ফিরে আসা | আগের নামাজের হুকুম বদলায় না | | যদি কসর পড়ে থাকেন | পূর্ণ ৪ রাকআত কাযা করতে হবে |
উপসংহার: আপনার আগের পূর্ণ নামাজগুলো সহীহ হয়েছে, পুনরায় পড়তে হবে না। তবে ভবিষ্যতে সফরের ক্ষেত্রে ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত করলে কসর পড়বেন, আর ১৫ দিন বা বেশি থাকলে পূর্ণ পড়বেন।
আরবি দলিল
قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: «يُقِيمُ الْمُهَاجِرُ بِمَكَّةَ بَعْدَ قَضَاءِ نُسُكِهِ ثَلَاثًا»
(সহীহ বুখারী, হাদিস: ১৮১৭)
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ: «أَقَامَ النَّبِيُّ ﷺ بِمَكَّةَ عَامَ الْفَتْحِ خَمْسَ عَشْرَةَ لَيْلَةً يَقْصُرُ الصَّلَاةَ»
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১২৩০)
وَفِي الْمُحِيطِ: الْمُسَافِرُ إِذَا نَوَى إِقَامَةَ خَمْسَةَ عَشَرَ يَوْمًا أَتَمَّ الصَّلَاةَ
(ফাতাওয়া আলমগিরি, ১/১৩৯)
وَلَوْ نَوَى الْمُسَافِرُ إِقَامَةَ خَمْسَةَ عَشَرَ يَوْمًا صَارَ مُقِيمًا وَأَتَمَّ
(আল-হিদায়া, ১/৮০)
فَإِنْ نَوَى أَقَلَّ مِنْ خَمْسَةَ عَشَرَ يَوْمًا قَصَرَ
(রাদ্দুল মুহতার, ২/১২৩)
উপদেশ
- নিয়তের গুরুত্ব: সফরে যাওয়ার আগে থাকার সময়সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখুন, যাতে নামাজের হুকুম নির্ধারণে সন্দেহ না হয়।
- কাযা নামাজ: যদি কসর পড়ে থাকেন, দ্রুত কাযা আদায় করুন।