আমাকে তালাক দিয়ে দাও এর জবাবে স্বামী আমাকে শান্ত করার জন্য বলেছিলেন, তুনি যা বলো ওকে। এখন কি কোনো সমস্যা হবে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 554
Questioner: Aybhi Noor Jannat
Question Asked: 22 May 2026, 10:19 PM
Reviewed & Published: 22 May 2026, 10:55 PM
Views: 33
Tokens: 2,668
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহ।

আমার ২.৫ বছরের একটা বাচ্চা আছে। কিছুদিন ধরে আমি বাসায় একা ছিলাম। তো সারাদিন সংসারের সব কাজ করে বাচ্চা সামলিয়ে খুবই পেরেশানিতে ছিলাম।আসলে আমার বাচ্চাটা অন্য বাচ্চাদের থেকে অনেক বেশি দুষ্টু। কোন কাজ করতে গেলে দেখা যায় বাচ্চা কোথায় চলে গিয়েছে। দৌড়ে ওকে খুজতে যেতে হয়। আবার এসে কাজ করতে হয়। ছোট বাচ্চা কোন কথাই শোনে না। সারাদিন ওর পিছনে দৌড়াতে দৌড়াতে এত পেরেশানি গিয়েছিল যে প্রচন্ড কান্না করছিলাম রাতে। বার বার মনে হচ্ছিল যে আমি ওকে পালতে পারবো না সুইসাইড করে ফেলি। বাচ্চা পেটে থাকা অবস্থায় কিছু ঘটনার কারনে আমার কিছু মানসিক সমস্যা হয়েছে। সেগুলো এখনো আছে। তো আমি যখন আমার স্বামীকে সারাদিন এগুলো এগুলো হয়েছে, আমার খুবই অসহায় লাগছে বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম তিনি কিছুই বুঝতে পারেন না। ওনাকে বোকা সোকা বলবো নাকি কি বলবো বুঝতে পারি না। ওনাকে সব খুলে বলার পরেও আমার পরিস্থিতি বুঝে আমাকে যে একটু সাপোর্ট দিবে তিনি সেটা দিতে পারেন না। এজন্য আমি তখন আরো পাগল পাগল হয়ে যাই। উনি যখন বুঝতেই পারছিলেন না তখন ওনাকে বলেছিলাম আমাকে তালাক দিয়ে দাও। এটা বার বার বলছিলাম। তিনি এ ধরনের কোন শব্দ মুখে উচ্চারন করতে চান না। করেন ও না। আমি যখন বার বার বলছিলাম যে আমাকে তালাক দিয়ে দাও তিনি আমাকে শান্ত করার জন্য বলেছিলেন তুনি যা বলো ওকে। মুখে এক তালাক কিংবা তিন তালাক কোনটাই উচ্চারন করেন নি।এবং ওনার অন্তরে কোন নিয়ত ও ছিল না তালাক দেয়ার। আমি বার বার তালাক দিতে বলার কারনে আমি যাতে সেটা না বলি এজন্য তিনি ওই কথা বলেছিলেন যে তুমি যা বলো ওকে। এতে কি তালাক হয়েছে? হলেই বা কত তালাক হয়েছে?

Answer

بسم الله الرحمن الرحيم
الجواب حامداً ومصلياً

প্রশ্নে বর্ণিত পরিস্থিতিতে আপনার স্বামী "তুমি যা বলো ওকে" বলেছেন। তিনি কোনো তালাকের শব্দ (যেমন: তালাক, আমি তোমাকে তালাক দিলাম, তুমি তালাক ইত্যাদি) উচ্চারণ করেননি। তালাকের নিয়তও তার অন্তরে ছিল না। বরং তিনি আপনাকে শান্ত করার জন্য এবং আপনি বারবার তালাক চাওয়ায় আপনাকে সেই কথাটি বলতে নিরুৎসাহিত করতেই এই বাক্যটি বলেছেন।

হানাফি ফিকহের বিধান:

১. তালাকের জন্য স্পষ্ট শব্দ বা ইঙ্গিত বাধ্যতামূলক: তালাক কেবল তখনই হয় যখন স্বামী স্পষ্টভাবে তালাকের শব্দ (যেমন: তালাক, তুমি তালাক, তালাক দিলাম) মুখে উচ্চারণ করে অথবা ইঙ্গিত করে (যেমন: স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে লিখে) এবং তার অন্তরে তালাকের নিয়ত থাকে।

  • (রদ্দুল মুহতার, ৩/২২৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৫১)
    ২. নিয়তের গুরুত্ব: প্রশ্নে আপনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে আপনার স্বামীর অন্তরে তালাকের কোনো নিয়ত ছিল না। হানাফি মতে, তালাকের শব্দ না থাকলে এবং নিয়ত না থাকলে তালাক হয় না।
  • (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/১১৮; ফাতাওয়া উসমানী, ৩/৩২৮)
    ৩. স্ত্রীর তালাক চাওয়ার প্রভাব: স্ত্রী বারবার তালাক চাইলেও স্বামী তা উচ্চারণ না করলে তালাক পতিত হয় না। এটি তালাক হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।
  • (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৪২; বাহিশতি জেওর, তালাক অধ্যায়)
    ৪. “তুমি যা বলো ওকে” বাক্যটির বিশ্লেষণ: এটি তালাকের কোনো শব্দ নয়, বরং স্ত্রীর কথা বোঝানোর একটি অলংকারিক বাক্য। এতে তালাক পতিত হয় না।
  • (শরহু মা‘আনিল আসার, ৩/১৮৭; কিতাবুল আছল, ২/১২৬)

সিদ্ধান্ত:

আপনার স্বামীর উক্ত বাক্যে কোনো তালাক পতিত হয়নি। আপনার বিয়ে আগের মতোই বৈধ আছে।

আপনার মানসিক অবস্থা সম্পর্কে:

আপনার বর্তমান মানসিক চাপ ও শিশু লালন-পালনের কষ্ট বোধগম্য। ইসলাম স্বামী-স্ত্রীকে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ধৈর্যের নির্দেশ দিয়েছে। আপনার স্বামীকে পূর্ণাঙ্গভাবে পরিস্থিতি বোঝানোর চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে পরিবারের সিনিয়র সদস্য বা পেশাদার কাউন্সেলরের সাহায্য নিন। সুইসাইড বা তালাক চাওয়া কোনো সমাধান নয় — আল্লাহ সব কষ্টের পর স্বস্তি দেন।

  • (সূরা ইনশিরাহ, ৯৪:৫-৬)

আল্লাহ আপনার ধৈর্য বৃদ্ধি করুন এবং আপনার পরিবারে শান্তি দান করুন। আমিন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.