হায়েজ /ইস্তিহাযা
Taharah Purity · Hanafi
Question
Answer
হায়েজ ও ইস্তিহাযা সম্পর্কিত মাসআলার বিস্তারিত উত্তর
সংক্ষিপ্ত উত্তর:
১০ দিনের সময়সীমার ভেতরে রক্ত দেখা দিলে তা হায়েজ (মাসিক) বলেই গণ্য হবে। তাই রক্ত আসার সময়গুলোতে সালাত আদায় বন্ধ রাখা এবং রক্ত বন্ধ হলে গোসল করে সালাত শুরু করা আপনার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল এবং বর্তমানেও ১০ দিন পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত এভাবেই নিয়ম বজায় রাখতে হবে।
সহবাসের ফলে শারীরিক জটিলতায় রক্তপাত হলেও, ১০ দিনের মেয়াদের ভেতরে রক্ত আসলে শরীয়তের সাধারণ মূলনীতি অনুযায়ী তা হায়েজের ভেতরেই গণ্য হবে।
বিস্তারিত শরয়ী বিশ্লেষণ ও মাসআলা:
১. ১০ দিনের ভেতরে বিরতি দিয়ে রক্ত আসার বিধান (তুহরে মুতাখাল্লিল): হানাফী ফিকহ অনুযায়ী হায়েজের সর্বোচ্চ মেয়াদ হলো ১০ দিন ১০ রাত (২৪০ ঘণ্টা) । গত ৯ তারিখ সকালে আপনার হায়েজ শুরু হয়েছে, সে হিসেবে ১৯ তারিখ সকাল পর্যন্ত আপনার ১০ দিনের সীমানা।
এই ১০ দিনের ভেতরে একবার রক্ত বন্ধ হয়ে সাদা স্রাব আসলেও, ১০ দিন পার হওয়ার আগে যদি পুনরায় ব্লিডিং দেখা দেয়, তবে ফিকহে হানাফীর নির্ভরযোগ্য মত অনুযায়ী মধ্যবর্তী পবিত্রতার দিনগুলোসহ পুরো সময়টি হায়েজের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
২. বর্তমানে আপনার করণীয় (সালাত আদায় করবেন নাকি বন্ধ রাখবেন?):
- রক্ত দেখা গেলে: যখনই রক্ত বা ব্লিডিং দেখা যাবে, তখনই সালাত আদায় বন্ধ রাখবেন ।
- রক্ত বন্ধ হয়ে সাদা স্রাব আসলে: রক্ত বন্ধ হয়ে গেলে গোসল করে সালাত শুরু করবেন। (যেহেতু ১০ দিনের ভেতর বারবার রক্ত আসছে, তাই সতর্কতামূলকভাবে রক্ত বন্ধ হওয়া মাত্রই গোসল করে সালাত আদায় করা নিয়ম)।
৩. ১০ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর চূড়ান্ত হিসাব যেভাবে করবেন:
-
পরিস্থিতি-১ (যদি ১০ দিন বা তার আগেই রক্ত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়): যদি ১৯ তারিখ সকালের ভেতরে (১০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই) আপনার ব্লিডিং স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়, তবে ৯ তারিখ থেকে রক্ত বন্ধ হওয়া পর্যন্ত পুরো সময়টিই আপনার হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে আপনার অভ্যাসের দিন (৫ দিন) পরিবর্তিত হয়ে নতুন মেয়াদে নির্ধারিত হবে। আর এই ১০ দিনের মাঝে বন্ধ থাকা অবস্থায় আপনি যেসব সালাত আদায় করেছিলেন, সেগুলোর কোনো কাযা করতে হবে না।
-
পরিস্থিতি-২ (যদি ১০ দিন অতিক্রম করে ব্লিডিং চলতে থাকে): যদি ১৯ তারিখ সকাল পার হয়েও রক্ত পড়া বন্ধ না হয় (অর্থাৎ ১০ দিন অতিক্রম করে যায়), তবে আপনার মূল অভ্যাস ৫ দিনই হায়েজ গণ্য হবে।
- অর্থাৎ ৯ তারিখ সকাল থেকে ১৩ তারিখ মাগরিব পর্যন্ত ৫ দিন হায়েজ ছিল।
- ১৩ তারিখ মাগরিবের পর থেকে (৬ষ্ঠ দিন থেকে) পরবর্তী সমস্ত ব্লিডিং ‘ইস্তেহাজা’ (অসুস্থতাজনিত রক্ত) হিসেবে গণ্য হবে।
- এ ক্ষেত্রে ব্লিডিং যদি ১০ দিন পার হয়ে যায়, তবে ৬ষ্ঠ দিন থেকে ব্লিডিং চলার কারণে যে সালাতগুলো পড়া হয়নি, সেগুলোর হিসেব করে কাযা পড়ে নিতে হবে।
৪. সহবাসের কারণে রক্তপাতের বিষয়ে শরয়ী সিদ্ধান্ত: সহবাসের কারণে যদি জরায়ু বা প্রজনন অঙ্গের ভেতরে কোনো উদ্দীপনা বা জটিলতায় রক্ত আসে এবং তা ১০ দিনের মেয়াদের ভেতরে হয়, তবে শরীয়তের দৃষ্টিতে তা হায়েজের হুকুমেই থাকবে। (তবে ব্লিডিং যদি ১০ দিন পার হয়ে যায়, তবে তা ইস্তেহাজা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক)।
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
১. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ১১৩ (প্রথম পরিচ্ছেদ: হায়েজের মেয়াদ, সর্বনিম্ন ৩ দিন ও সর্বোচ্চ ১০ দিন)।
- পৃষ্ঠা: ১১৭–১১৮ (তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইস্তেহাজা, ১০ দিনের ভেতরে রক্ত আসা-যাওয়া এবং অভ্যাস অতিক্রম করার মাসআলা)।
- পৃষ্ঠা: ১২০–১২১ (ইস্তেহাজাওয়ালী নারীর সালাত, ওজু ও কাযার বিধান)।
২. নূরুল ঈযাহ:
- পৃষ্ঠা: ৪৬–৪৭ (হায়েজের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সময়সীমা এবং হায়েজের নিষিদ্ধ কাজসমূহ)।
আল্লাহ সর্বজ্ঞ।