পাক নাপাক সম্পর্কিত প্রশ্ন
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
Answer
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
সংক্ষিপ্ত উত্তর:
হ্যাঁ, আপনার ধারণা সম্পূর্ণ সঠিক ও শরীয়তসম্মত।
পায়ের গোড়ালি বা কাটা স্থানে আঘাত লাগলে, মুছলে কিংবা পানি লাগলে যে অল্প অল্প রক্ত আসে—যা নিজে থেকে গড়িয়ে বা প্রবাহিত হয়ে স্থান অতিক্রম করে না—তা শরীয়তের দৃষ্টিতে নাপাক নয়। ফলে তা কাপড়ে মুছলে কাপড় নাপাক হবে না এবং তাতে পানি লেগে নিচে পড়লেও সেই পানি বা জায়গা নাপাক হবে না।
ফিকহে হানাফীর নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের আলোকে এর বিস্তারিত ফিকহী বিবরণ নিচে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বরসহ পেশ করা হলো:
শরয়ী মূলনীতি ও বিস্তারিত বিবরণ:
১. রক্ত নাপাক হওয়ার জন্য ‘প্রবাহিত হওয়া’ (সিলান) শর্ত:
ফিকহে হানাফীর সুনির্দিষ্ট মূলনীতি অনুযায়ী, মলদ্বার ও মূত্রদ্বার ব্যতীত শরীরের অন্য কোনো স্থান (যেমন: হাত, পা, গোড়ালি ইত্যাদি) থেকে নির্গত রক্ত নাপাক হওয়া এবং অযু ভঙ্গ হওয়ার জন্য রক্তটি নিজে নিজে গড়িয়ে পড়া বা স্থান অতিক্রম করে প্রবাহিত হওয়া শর্ত।
২. অপ্রবাহিত রক্তের শরয়ী মর্যাদা:
রক্ত যদি কেবল ক্ষতস্থানের মুখে দেখা দেয়, আঘাত বা মোছার কারণে সামান্য ভেসে ওঠে কিন্তু নিজে থেকে গড়িয়ে পড়ে না, তবে শরীয়তের পরিভাষায় তা ‘দমমে মাসফূহ’ (প্রবাহিত রক্ত) নয়। রক্ত যতক্ষণ পর্যন্ত নিজ স্থান অতিক্রম করে গড়িয়ে না পড়ে, ততক্ষণ তা শরীয়তের দৃষ্টিতে পবিত্রময় শরীরেই অবস্থান করছে বলে ধরা হয় এবং তা নাপাক গণ্য হয় না।
৩. কাপড়, পানি ও অন্যান্য স্থানে লাগার হুকুম:
যেহেতু এই অপ্রবাহিত রক্তটি শরীয়তের দৃষ্টিতে নাপাক নয়, তাই:
- এটি কাপড়ে বা অন্য কোনো জায়গায় মুছলে তা নাপাক হবে না।
- এই রক্তে পানি লেগে গড়িয়ে নিচে পড়লে বা অন্য কোথাও ছড়ালেও সেই পানি বা স্থান নাপাক হবে না।
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
১. কাওয়াইদুল ফিক্বহ (হাশিয়া সহ):
- পৃষ্ঠা: ২৫ (ক্বায়দা: সাবীলাইনের বাইরের রক্ত গড়িয়ে না পড়লে অযু ভঙ্গ হয় না ও নাপাক গণ্য হয় না — বাদায়েউস সানায়ীর বরাতে)। ২. নূরুল ঈযাহ:
- পৃষ্ঠা: ৩২ (পরিচ্ছেদ: যে সকল কারণে ওজু ভঙ্গ হয় না — গড়িয়ে না পড়া রক্তের বিধান)। ৩. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৫৬ (পঞ্চম পরিচ্ছেদ: ওজু ভঙ্গের কারণসমূহ — রক্ত প্রবাহিত হওয়ার শর্তসমূহ)। ৪. দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৩৮৪ (ক্ষতে ও রক্ত পরীক্ষায় রক্তের গড়িয়ে পড়া সংক্রান্ত বিবরণ)।
আল্লাহ সর্বজ্ঞ।