স্বপ্নে বজ্রপাত ও আগুন দেখার ইসলামিক ব্যাখ্যা।

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 5387
Questioner: Jahanara Akter Situ
Question Asked: 13 Sep 2026, 07:40 AM
Reviewed & Published: 13 Sep 2026, 07:47 AM
Views: 22
Tokens: 2,614
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম
আমি গত রাতে স্বপ্নে দেখি অনেক বজ্রপাত হচ্ছে আর আগুন ধরে যাচ্ছে সব দিকে.. আমি যাদের সাথে ছিলাম আমরা বাঁচে ফিরি কোনে মতে,
এর ব্যাখ্যা বলবেন দয়া করে

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্ন: আমি গত রাতে স্বপ্নে দেখি অনেক বজ্রপাত হচ্ছে এবং সব দিকে আগুন ধরে যাচ্ছে। আমি যাদের সাথে ছিলাম, আমরা কোনোমতে বেঁচে ফিরি। এর ব্যাখ্যা কী?

উত্তর:

প্রথমেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্মরণ রাখা দরকার: স্বপ্নের ব্যাখ্যা (তাবির) কোনো নিশ্চিত ইলম বা ওহি নয়। এটি মূলত অনুমান ও সম্ভাবনার বিষয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

«الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ مِنَ اللَّهِ، وَالرُّؤْيَا السَّوْءُ مِنَ الشَّيْطَانِ»

"সৎ স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর মন্দ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে।" — সহীহ বুখারী, হাদিস: ৬৯৯০; সহীহ মুসলিম, হাদিস: ২২৬৩

অতএব স্বপ্নের ব্যাখ্যাকে কুরআন-হাদিসের সমান গুরুত্ব দেওয়া যাবে না, আর কোনো ব্যাখ্যাকেই চূড়ান্ত সত্য বলে ধরে নেওয়া যাবে না।

আপনার স্বপ্নের সম্ভাব্য ব্যাখ্যা:

১. বজ্রপাত ও আগুন — সাধারণত কঠিন পরীক্ষা, বিপদ, ভয়, বা কোনো বড় ধরনের সামাজিক/পারিবারিক সংকটের দিকে ইশারা করে। কুরআনে বজ্রপাতকে আল্লাহর ভয় ও আজাবের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে (সূরা আর-রাদ: ১৩; সূরা নূর: ৪৩)।

২. কোনোমতে বেঁচে ফেরা — এটি ইতিবাচক ইঙ্গিত। এর অর্থ হতে পারে: আসন্ন কোনো বিপদ বা কঠিন পরিস্থিতি থেকে আল্লাহর রহমতে আপনি ও আপনার সঙ্গীরা রক্ষা পাবেন। ইনশাআল্লাহ।

৩. স্বপ্নটি শয়তানি ওয়াসওয়াসাও হতে পারে — যদি স্বপ্নটি বারবার দেখা যায় বা মনে ভয় সৃষ্টি করে, তাহলে এটি শয়তানের পক্ষ থেকে হতে পারে। রাসূলুল্লাহ ﷺ মন্দ স্বপ্ন দেখলে বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলা, শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া এবং যে পাশে ছিলেন সেদিক পরিবর্তন করে শোয়ার নির্দেশ দিয়েছেন (সহীহ মুসলিম: ২২৬২)।

আমল:

  • স্বপ্নের ব্যাখ্যা নিয়ে অস্থির না হয়ে আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন।
  • নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, সকাল-সন্ধ্যার মাসনূন আযকার ও দোয়া পড়ুন।
  • সূরা ফালাক, সূরা নাস, আয়াতুল কুরসি পড়ে ঘুমান।
  • সদকা করুন — বিপদ দূর করার অন্যতম মাধ্যম।
  • কারও সাথে স্বপ্নের কু-ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করবেন না; এতে অহেতুক দুশ্চিন্তা বাড়ে।

মনে রাখবেন: স্বপ্ন কোনো ভবিষ্যদ্বাণী নয়, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে সতর্কতা বা শয়তানের ওয়াসওয়াসা হতে পারে। প্রকৃত নিরাপত্তা আল্লাহর হাতেই। তিনি ইরশাদ করেন—

«وَمَا مِن دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا»

"পৃথিবীতে বিচরণকারী প্রতিটি প্রাণীর রিযিক আল্লাহরই দায়িত্বে।" — সূরা হুদ: ৬

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সব ধরনের বিপদ-আপদ থেকে হেফাজত করুন। আমিন।


References:

  • সহীহ বুখারী, হাদিস: ৬৯৯০
  • সহীহ মুসলিম, হাদিস: ২২৬২, ২২৬৩
  • সূরা আর-রাদ: ১৩; সূরা নূর: ৪৩; সূরা হুদ: ৬
  • ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড: ২ (স্বপ্ন ও তাবির সংক্রান্ত আলোচনা)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড: ৪
  • রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ৯ (কিতাবুল ইস্তি'যান)
  • মা'আরিফুল কুরআন (সূরা ইউসুফের তাফসির প্রসঙ্গে স্বপ্নের আলোচনা)

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.