নেফাসের পর হায়েজ না হয়ে পিংক কালার স্রাব আসলে নামাজ হবে কি না?
Taharah Purity · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
সংক্ষিপ্ত উত্তর: পিংক কালার স্রাব যদি হায়েজের সময়কালের মধ্যে হয় এবং তা হায়েজের রক্তের অন্তর্ভুক্ত হয়, তাহলে তা হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে এবং নামাজ হবে না। আর যদি তা ইস্তিহাযা (অসুস্থতার রক্ত) হয়, তাহলে নামাজ আদায় করতে হবে।
বিস্তারিত:
প্রশ্নে বলা হয়েছে—নেফাস (সন্তান জন্মের পরবর্তী রক্তস্রাব) শেষ হয়েছে, কিন্তু এখনো হায়েজ শুরু হয়নি। আজ পিংক কালার স্রাব আসছে। এমতাবস্থায় নামাজ হবে কি না—এটি নির্ভর করে স্রাবটি হায়েজের অন্তর্ভুক্ত কি না তার উপর।
১. হায়েজের সর্বনিম্ন সময়: হায়েজের সর্বনিম্ন সময় হলো ৩ দিন ৩ রাত (৭২ ঘণ্টা)। আর সর্বোচ্চ সময় ১০ দিন ১০ রাত। (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃ. ২৮৩; আল-হিদায়া, খণ্ড ১)
২. হায়েজের রক্তের রং: হায়েজের রক্ত সাধারণত কালো, লাল, খয়েরি, পিংক বা হলুদাভ হতে পারে। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, হায়েজের সময়কালের মধ্যে এই রংগুলো দেখা গেলে তা হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে। (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃ. ২৮৭; ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ১)
৩. নেফাস ও হায়েজের মধ্যবর্তী সময়: নেফাস শেষ হওয়ার পর যদি ১৫ দিন বা তার বেশি সময় পবিত্রতা থাকে, তারপর স্রাব আসে—তাহলে তা হায়েজ। আর যদি ১৫ দিনের কম পবিত্রতা থাকে, তাহলে তা হায়েজ নয়; বরং ইস্তিহাযা (অসুস্থতার রক্ত) হিসেবে গণ্য হবে। (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃ. ২৯৫; ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ১, পৃ. ১৩৫)
৪. ইস্তিহাযার হুকুম: ইস্তিহাযার রক্ত নামাজ-রোজা বন্ধ করে না। এমতাবস্থায় মহিলা নামাজ আদায় করবেন, রোজা রাখবেন এবং ওযু করে নামাজ পড়বেন। (ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ১, পৃ. ১৩৬; বেহেশতী জেওর)
আপনার করণীয়:
আপনি যদি নিশ্চিত হন যে স্রাবটি হায়েজের সময়কালের মধ্যে (অর্থাৎ নেফাস শেষ হওয়ার পর ১৫ দিন বা তার বেশি পবিত্রতার পর) আসছে এবং তা ৩ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়, তাহলে তা হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে—নামাজ হবে না।
আর যদি নেফাস শেষ হওয়ার পর ১৫ দিনের কম সময়ে এই পিংক স্রাব আসে, তাহলে তা ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে—আপনি নামাজ আদায় করবেন, তবে প্রত্যেক নামাজের জন্য ওযু করে নিবেন।
সতর্কতা: যেহেতু বিষয়টি সূক্ষ্ম এবং ব্যক্তিগত অবস্থার উপর নির্ভরশীল, তাই আপনি আপনার নির্দিষ্ট অবস্থা (নেফাস কতদিন ছিল, কতদিন পর স্রাব এসেছে, স্রাব কতদিন স্থায়ী হচ্ছে) বিস্তারিতভাবে একজন বিশ্বস্ত মুফতি বা আলেমকে জানিয়ে ফতোয়া নিন।