মাতৃদুগ্ধ পান করানোর ব্যাপারে

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 5328
Questioner: Tisa Moni
Question Asked: 11 Sep 2026, 11:11 PM
Reviewed & Published: 12 Sep 2026, 03:30 AM
Views: 24
Tokens: 4,789
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১) সন্তানকে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর ব্যাপারে ইসলামি কোনো নির্দেশিকা/সুন্নাহ আছে?
২) দুধ বৃদ্ধি হয় এমন কোনো দোয়া বা আমল?
৩) মাতৃদুগ্ধ পান এর ব্যাপারে যা আছে াব জানাবেন অনুগ্রহ করে

Answer

মাতৃদুগ্ধ পান করানোর ব্যাপারে ইসলামি নির্দেশনা

ভূমিকা

ইসলামে সন্তানকে মাতৃদুগ্ধ পান করানো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত। কুরআন, হাদিস ও ফিকহের কিতাবসমূহে এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা রয়েছে। নিচে আপনার প্রশ্নের তিনটি অংশের বিস্তারিত উত্তর প্রদান করা হলো।


১) সন্তানকে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর ব্যাপারে ইসলামি নির্দেশিকা:

ইসলামি শরীয়ত ও হানাফী ফিকহে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট ও ভারসাম্যপূর্ণ নির্দেশিকা রয়েছে:

  • মাতৃদুগ্ধ পান করানোর দায়িত্ব ও বিধান: যদি শিশুর জন্য অন্য কোনো স্তন্যদানকারী নারী বা বিকল্প ব্যবস্থা না থাকে অথবা বাবার অন্য কোনো দুধমা রাখার আর্থিক সামর্থ্য না থাকে, তবে মায়ের জন্য নিজ সন্তানকে দুধ পান করানো ও লালন-পালন করা ওয়াজিব (আবশ্যক)। তবে এই দায়িত্বটি অবশ্যই মায়ের সাধ্যের সীমারেখার ভেতরে হতে হবে।
  • দুধপানের সময়সীমা (মুদ্দত): হানাফী ফিকহের ফুকাহায়ে কেরামের মতামত অনুযায়ী মাতৃদুগ্ধ পান করানোর সময়সীমা হলো:
    • ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে ২ বছর (২৪ মাস)।
    • ইমাম আজম আবু হানীফা (রহ.)-এর মত অনুযায়ী আড়াই বছর (৩০ মাস)।
    • নির্ধারিত শরয়ী মেয়াদের পর শিশুকে আর দুধ পান করানো শরীয়তসম্মত নয়।

২) দুধ বৃদ্ধি হওয়ার জন্য কোনো দোয়া বা আমল:

আপনার প্রদত্ত কিতাবসমূহে মাতৃদুগ্ধ বৃদ্ধি করার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো দোয়া বা আমলের উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

(তবে সাধারণ অসুস্থতা ও শারীরিক শেফার জন্য দোয়া, ইস্তিগফার ও শরীয়তসম্মত রুকইয়া বা ঝাড়ফুঁক করার অবকাশ রয়েছে।)


৩) মাতৃদুগ্ধ পান (রাযাআত) সংক্রান্ত অন্যান্য শরয়ী মাসআলা:

সংযুক্ত কিতাবসমূহে মাতৃদুগ্ধ পান সংক্রান্ত যেসব গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা বর্ণিত হয়েছে:

১. হুরমতে রাযাআত (দুধসম্পর্কীয় বৈবাহিক নিষেধাজ্ঞা): দুধপানের নির্ধারিত বয়সের (২ বা ২.৫ বছর) মধ্যে কোনো শিশু যদি কোনো নারীর দুধ পান করে (পরিমাণে কম হোক বা বেশি), তবে তাদের মধ্যে 'রাযাআত' বা দুধসম্পর্কীয় আত্মীয়তা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। এর ফলে ঐ নারী শিশুটির 'দুধমা' এবং তাঁর সন্তানেরা শিশুটির 'দুধভাই-বোন' হিসেবে গণ্য হয়, যাদের সাথে পরবর্তীতে বিবাহ বন্ধন চিরতরে হারাম হয়ে যায়। ২. পারিশ্রমিক দাবি: দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় থাকা অবস্থায় স্ত্রী তাঁর স্বামীর নিকট সন্তানকে দুধ পান করানোর জন্য আলাদা পারিশ্রমিক দাবি করতে পারবে না। তবে বিবাহবিচ্ছেদ বা ইদ্দত পার হওয়ার পর নারী সন্তানকে দুধ পান করালে বাবার নিকট থেকে উপযুক্ত পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারবে। ৩. অন্য বস্তুর সাথে মিশ্রিত দুধ: দুধপানের মেয়াদের ভেতর দুধ যদি পানি বা অন্য খাবারের সাথে মিশ্রিত হয়ে শিশুর পেটে যায় এবং তাতে দুধের পরিমাণ বা প্রভাব বেশি থাকে, তবে এর দ্বারাও হুরমতে রাযাআত সাব্যস্ত হবে ।


দলিল (সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর):

১. দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ২৫৫ (সংসারে স্ত্রীর দায়িত্ব ও মাতৃদুগ্ধ পানের হুকুম অধ্যায়)। ২. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (২য় খণ্ড): পৃষ্ঠা ২২০–২২১ ও ২২৬ (দুধপান অধ্যায় — রাযাআতের মুদ্দত, আহকাম ও শর্তাবলী)

আল্লাহই ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.