স্বামীর সামর্থ্য কম হলে মোহর পরিশোধের বিধান।

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 5212
Questioner: 1003 Rima
Question Asked: 10 Sep 2026, 07:12 AM
Reviewed & Published: 10 Sep 2026, 07:51 AM
Views: 9
Tokens: 7,472
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। আমি একজন মেয়ে। আমার বিয়ের কাবিনের ব্যাপারে কিছু মাসায়ালা জানার ছিলো।আমার যার সাথে বিয়ে ঠিক হচ্ছে উনি এখনো স্টুডেন্ট এবং এর পাশাপাশি ইমামতি করে।তো আমার পরিবার হচ্ছে বর্তমান সমাজে যেমন কাবিন হয় ওমনই ধরবে যেমন ধরেন ২/৩ লাখ হয়তো।যা উনার নগদ দিয়ে বিয়ে করা সম্ভব হচ্ছে না।সে চাচ্ছে নগদ অল্প কিছু মোহরানা নগদে পরিশোধ করতে।কিন্তু এটাতে আমার পরিবার রাজি না।আমার পরিবারের কথা যে তোমাকে কাবিনের টাকা এখনই পরিশোধ করতে হবে এমন না।আমার ভবিষ্যতে আস্তে আস্তে পরিশোধের কথা বললো। তো তার কাছে যদি আমি উমরাহ মোহরানা হিসাবে নেই এবং তার যখন সামর্থ্য হবে তখন নিয়ে যাবে।আর যদি আল্লাহ না করুক সে মারা যায় ঐ অবস্থায় মোহরানা পরিশোধ করলো না। কিন্তু আমি তার স্ত্রী হিসাবে যদি তার থেকে সব দায় মুক্ত করে দেই এতে কি সে আল্লাহর নিকট অপরাধি হবে?





২য় মতে হচ্ছে, আমি চাচ্ছিলাম যেহেতু ছেলের সামর্থ্য কম আবার আমার পরিবার ও ওভাবে কাবিন ছাড়া মেয়ে দিবে না। তাই যদি এমন হয় যে সরকারি কাগজে লেখা থাকবে কাবিন ২/৩ লাখ।কিন্তু আমার আর আমার ভবিষ্যৎ স্বামীর মধ্যে যদি আমি এই চুক্তি করি যে আপনার যতটুকু সামর্থ্য আছে আমাকে নগদে ততটুকুই পরিশোধ করুন মোহরানা হিসাবে ইনশাআল্লাহ। আর কাবিনের যা খুশি তা লিখা থাকুক এর দায়ভার আপনাকে দিতে হবে না।এটা কি শরীয়াহ সম্মত হবে?

Answer

জবাবঃ- بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

প্রশ্নকারী একজন মুসলিম মহিলা। তাঁর বিবাহের প্রস্তাব চলছে এমন এক ব্যক্তির সাথে, যিনি ছাত্র এবং ইমামতি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁর আর্থিক সামর্থ্য কম। প্রশ্নকারীর পরিবার সামাজিক রীতি অনুযায়ী ২/৩ লাখ টাকা মোহর ধার্য করতে চায়, যা ছেলের পক্ষে নগদে পরিশোধ করা সম্ভব নয়। ছেলে চায় অল্প কিছু নগদে মোহর পরিশোধ করে বাকিটা পরে দেবে। প্রশ্নকারীর পরিবারও তাৎক্ষণিক পুরো মোহর পরিশোধে বাধ্য করছে না, বরং ভবিষ্যতে ধীরে ধীরে পরিশোধের শর্তে রাজি আছে। এখন প্রশ্নকারী জানতে চান:

১. যদি তিনি উমরাহ মোহর হিসেবে নেন এবং ছেলের সামর্থ্য হলে তা আদায় করে নেন, আর যদি ছেলের মৃত্যু হয় এবং মোহর পরিশোধ না করে, তখন স্ত্রী হিসেবে তিনি যদি ছেলের সব দায় মাফ করে দেন, তবে কি ছেলে আল্লাহর কাছে অপরাধী হবে?

২. দ্বিতীয়ত, সরকারি কাবিননামায় ২/৩ লাখ টাকা লেখা থাকবে, কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে গোপন চুক্তি হবে যে, স্বামী তাঁর সামর্থ্য অনুযায়ী নগদে মোহর পরিশোধ করবেন, বাকিটা কাবিনে লেখা থাকলেও তার দায় স্বামীর উপর বর্তাবে না। এ ধরনের চুক্তি কি শরীয়াহসম্মত হবে?


প্রথম মাসআলার উত্তর

মোহর হলো স্ত্রীর অবিচ্ছেদ্য অধিকার। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন:

وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً ۚ فَإِن طِبْنَ لَكُمْ عَن شَيْءٍ مِّنْهُ نَفْسًا فَكُلُوهُ هَنِيئًا مَّرِيئًا "আর তোমরা নারীদেরকে তাদের মোহর সন্তুষ্টচিত্তে দিয়ে দাও। তবে যদি তারা নিজের ইচ্ছায় তোমাদের জন্য তার কিছু অংশ ছেড়ে দেয়, তবে তা তোমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ করো।" (সূরা নিসা: ৪)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

لَا نِكَاحَ إِلَّا بِوَلِيٍّ وَمَهْرٍ "অভিভাবক এবং মোহর ছাড়া কোনো বিবাহ নেই।" (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১১০১)

মোহর নির্ধারণ ও পরিশোধের বিধান:

  • মোহর নির্ধারিত হলে তা স্ত্রীর সম্পূর্ণ অধিকার। স্বামী তা পরিশোধ করতে বাধ্য।
  • তবে মোহর পরিশোধে তাৎক্ষণিক হওয়া শর্ত নয়; বরং বিলম্বে পরিশোধের শর্তও বৈধ। (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ১৪৩)
  • যদি স্বামী মোহর পরিশোধ না করে মারা যায়, তবে তা তার সম্পত্তি থেকে পরিশোধযোগ্য ঋণ হিসেবে বিবেচিত হবে। (ফতোয়ায়ে আলমগিরি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৩০২)

প্রশ্নকারীর প্রথম প্রশ্নের জবাব:

  • যদি স্বামী মোহর পরিশোধ না করে মারা যায়, তবে তা তার যিম্মায় ঋণ হিসেবে থাকবে। তবে স্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় ও সন্তুষ্টচিত্তে তার মোহরের অধিকার ছেড়ে দেন বা মাফ করে দেন, তবে তা শরীয়তসম্মত। আল্লাহ তাআলা বলেন:

فَإِن طِبْنَ لَكُمْ عَن شَيْءٍ مِّنْهُ نَفْسًا فَكُلُوهُ هَنِيئًا مَّرِيئًا "তবে যদি তারা নিজের ইচ্ছায় তোমাদের জন্য তার কিছু অংশ ছেড়ে দেয়, তবে তা তোমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ করো।" (সূরা নিসা: ৪)

  • তবে শর্ত হলো, মাফ করা হতে হবে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায়, কোনো চাপ বা ভয় ছাড়া। যদি স্ত্রী স্বেচ্ছায় মাফ করে দেন, তবে স্বামী আল্লাহর কাছে অপরাধী হবেন না; বরং তা হাদিয়া বা ঋণ মাফ হিসেবে গণ্য হবে। (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ১৬০)

  • কিন্তু যদি স্ত্রী মাফ না করেন, তবে স্বামী মৃত্যুর পরও তার যিম্মায় ঋণ থাকবে এবং কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। হাদিসে এসেছে:

مَن كَانَ لَهُ حَقٌّ عِندَ أَخِيهِ فَلْيَتَحَلَّلْهُ الْيَوْمَ قَبْلَ أَنْ لَا يَكُونَ دِينَارٌ وَلَا دِرْهَمٌ "যার কাছে কারো হক থাকলে সে আজই তা মাফ করিয়ে নিক, এমন দিন আসার আগে যখন দীনার-দিরহাম কিছুই থাকবে না।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪৪৯)

উপসংহার: যদি স্ত্রী স্বেচ্ছায় মাফ করে দেন, তবে স্বামী অপরাধী হবেন না। তবে মাফ না করলে তা ঋণ হিসেবে থাকবে এবং আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।


দ্বিতীয় মাসআলার উত্তর,

সরকারি কাবিননামায় ২/৩ লাখ টাকা লেখা থাকবে, কিন্তু স্ত্রী পরবর্তীতে কিছু অংশ মাফ করে দিবে,এটি স্ত্রীর সন্তুষ্টি চিত্তে হলে জায়েজ আছে।

সারসংক্ষেপ ও পরামর্শ

১. প্রথম প্রশ্ন: স্ত্রী স্বেচ্ছায় মাফ করলে স্বামী অপরাধী হবে না। তবে মাফ না করলে মোহর ঋণ হিসেবে থাকবে এবং আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

২. দ্বিতীয় প্রশ্ন: কাবিননামায় বেশি মোহর লেখা এবং পরবর্তীতে তাহা মাফ করে দেয়া যাবে।

৩. পরামর্শ: পরিবারকে শরীয়তের বিধান বোঝান। মোহর নির্ধারণে বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

خَيْرُ الصَّدَاقِ أَيْسَرُهُ "সর্বোত্তম মোহর হলো তা, যা সহজ।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২১১৭)

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে শরীয়তের বিধান অনুযায়ী জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন। আমিন।


والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.