দুধ ছাড়া‌নো বিষ‌য়ে

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 5209
Questioner: Տlave
Question Asked: 10 Sep 2026, 02:57 AM
Reviewed & Published: 10 Sep 2026, 04:59 AM
Views: 9
Tokens: 5,217
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুআলাইকুম।
১) আমার ছে‌লের দুধ ছাড়ার সময় ইং‌রে‌জি কত তা‌রিখ জান‌তে চা‌চ্ছি উস্তায। ওর জন্ম ২০২৪ সা‌লের ২০ অ‌ক্টোবর এশার ওয়া‌ক্তে।
( এটা কি ২৯ সে‌প্টেম্বর মাগ‌রিব ওয়াক্ত থে‌কে ধর‌বো ইনশাআল্লাহ?)

২) অন‌্য প্রশ্নোত্ত‌রে জানলাম দুধ ছাড়ার সময় ২বছর। আড়াই বছর স‌র্বোচ্চ।

আমার বাচ্চা না দি‌তে চাই‌লে কান্না ক‌রে। ও খে‌তে চাই‌লেই বের করে খায় নি‌জেই। কা‌জের ম‌ধ্যেও।
আ‌মি ২বছর হ‌লে ও‌ টে‌নে বের কর‌তে চাই‌লে জোর ক‌রে ধ‌রে রাখ‌বো?

৩) প‌রি‌স্থি‌তি:
বর্তমা‌নে প্রস্তু‌তিস্বরূপ অন‌্য মনস্ক করার চেষ্টা ক‌রি যখন চায়। কখ‌নো পা‌রি; কখ‌নো না পার‌লে দি‌য়ে দেই। বা নি‌জেই টে‌নে বের ক‌রে। হিজাব পড়‌লেও। জাগন থাক‌তেই এভাবে ৭/৮বার হ‌য়ে যায়। ঘুম পাড়া‌তে ও ঘুমা‌নোর মধ্যে চাই‌লেই দেই। (খুব ১টা ফর্মুলা মি‌ল্কে আগ্রহি না)

২বছর হ‌লে তিতা লাগা‌নোর নিয়ত ইনশাআল্লাহ।
কিন্তু ও এ‌তো প‌রিমান খায় যে‌হেতু; তখন আমার জন‌্য কি কর‌ণিয়? বার বার খে‌তে চাই‌লে তি‌তা লাগি‌য়ে খে‌তে দি‌বো? আ‌মি য‌দি ব‌লি এটা নষ্ট, পচা তাহ‌লে‌তো মিথ‌্যা হ‌বে। তা‌হ‌লে তিতা লা‌গি‌য়ে দেয়াটা কি মিথ‌্যার আশ্রয়?

Answer

উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

১) দুধ ছাড়ার সঠিক সময় নির্ণয়:

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, দুধ পান করার পূর্ণ সময়কাল হলো দুই হিজরি বছর। আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ أَوْلَادَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ لِمَنْ أَرَادَ أَن يُتِمَّ الرَّضَاعَةَ "আর মায়েরা তাদের সন্তানদেরকে পূর্ণ দুই বছর দুধ পান করাবে, যদি কেউ দুধ পান করানোর মেয়াদ পূর্ণ করতে চায়।" (সূরা আল-বাকারা: ২৩৩)

তাই আপনার সন্তানের জন্ম ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর (এশার সময়) হলে, হিজরি দুই বছর পূর্ণ হবে ২০২৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মাগরিবের সময় থেকে (কারণ ইসলামি তারিখে রাত আগে শুরু হয়)। অর্থাৎ, ২০২৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মাগরিবের পর থেকে আপনার সন্তানের বয়স হিজরিতে দুই বছর পূর্ণ হয়ে যাবে। ইনশাআল্লাহ, আপনার ধারণা সঠিক।

তবে মনে রাখবেন, ইসলামি বিধানে দুধ ছাড়ানোর সময়সীমা হলো দুই বছর, তবে বিশেষ প্রয়োজনে আড়াই বছর পর্যন্ত সময় দেওয়া যেতে পারে। তার বেশি কোনোক্রমেই নয়।

২) শিশু কান্না করলে জোর করে দুধ ছাড়ানো:

দুধ ছাড়ানোর সময় শিশু কান্না করলে বা না চাইলে জোর করে ধরে রাখা উচিত নয়। এটি শিশুর জন্য কষ্টকর এবং মানসিকভাবে ক্ষতিকর হতে পারে। ইসলাম ধীরে ধীরে এবং কোমলভাবে দুধ ছাড়ানোর পরামর্শ দেয়। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসে এসেছে, শিশুদের সাথে সদয় আচরণ করতে উৎসাহিত করা হয়েছে।

আপনি ধীরে ধীরে দুধের পরিমাণ কমিয়ে আনুন এবং শিশুকে অন্য খাবারে অভ্যস্ত করান। হঠাৎ করে জোর করে দুধ ছাড়ানো শিশুর জন্য শারীরিক ও মানসিক সমস্যা তৈরি করতে পারে।

৩) তিতা লাগিয়ে দুধ ছাড়ানো কি মিথ্যার আশ্রয়?

শিশুকে দুধ ছাড়ানোর জন্য স্তনে তিতা (যেমন: নিম, করলা, বা অন্য তিতা পদার্থ) লাগানো ইসলামি শরিয়তে জায়েয আছে। এটি মিথ্যা বলা হয় না, বরং এটি একটি কৌশল বা উপায় মাত্র। শিশুকে বোঝানোর জন্য এ ধরনের কৌশল অবলম্বন করা নাজায়েয নয়, যদি তা শিশুর ক্ষতি না করে।

তবে আপনি যদি বলেন "এটা নষ্ট, পচা" — তাহলে সেটি মিথ্যা হবে। কিন্তু আপনি যদি শুধু তিতা লাগিয়ে দেন এবং শিশু নিজেই বুঝে নেয় যে এটি খাওয়ার অনুপযোগী, তাহলে সেটি মিথ্যার আশ্রয় নয়। বরং এটি একটি সাধারণ কৌশল, যা অনেক মা ব্যবহার করে থাকেন।

আপনার করণীয়:

১. ধীরে ধীরে দুধের পরিমাণ কমিয়ে আনুন। ২. শিশুকে অন্য পুষ্টিকর খাবারে অভ্যস্ত করান। ৩. শিশু কান্না করলে তাকে আদর করুন, অন্যান্য কাজে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করুন। ৪. দুই বছর পূর্ণ হলে তিতা লাগানোর নিয়ত করুন, তবে শিশুর ক্ষতি হবে না এমন তিতা ব্যবহার করুন (যেমন: নিম বা করলার রস)। ৫. প্রয়োজনে আড়াই মাস পর্যন্ত সময় নিতে পারেন, তবে এর বেশি না বাড়ানোই উত্তম।

আল্লাহ তাআলা আপনার সন্তানকে সুস্থ ও নেককার করুন এবং আপনাকে ধৈর্য দান করুন। আমিন।

রেফারেন্স:

  • সূরা আল-বাকারা: ২৩৩
  • আল-হিদায়া (দুধ পান সম্পর্কিত অধ্যায়)
  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন)
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া
  • বেহেশতী জেওর (আশরাফ আলী থানভী)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.