বদ নজর

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 5185
Questioner: Al Amin Ahmed Mobin
Question Asked: 09 Sep 2026, 02:41 PM
Reviewed & Published: 09 Sep 2026, 02:49 PM
Views: 36
Tokens: 1,881
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

বদনজর মানুষ কিভাবে দেয়?কিভাবে তাকালে বা বললে লাগে?

Answer

উত্তর:
বদনজর (Evil Eye) সম্পর্কে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি হলো—এটি আল্লাহর ইচ্ছায় প্রভাব ফেলে। তবে বদনজর দেওয়ার কোনো নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক বা শারীরিক প্রক্রিয়া নেই; এটি সাধারণত হিংসা, ঈর্ষা বা খারাপ দৃষ্টির কারণে হয়ে থাকে। কেউ যখন কোনো বস্তু বা ব্যক্তির প্রতি হিংসা বা ঈর্ষাপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকায়, তখন আল্লাহর হুকুমে তা ক্ষতির কারণ হতে পারে।

কুরআন ও হাদিসের আলোকে:
১. কুরআনে ইশারা:

  • সূরা আল-ফালাক (১১৩:৫)-এ বলা হয়েছে: "আর হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে হিংসা করে।"
  • তাফসিরে মা'আরিফুল কুরআনে (মুফতি মুহাম্মদ শফি) উল্লেখ আছে যে, হিংসুকের দৃষ্টি বা বদনজর বাস্তব প্রভাব ফেলে।

২. হাদিসের বর্ণনা:

  • রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "বদনজর সত্য (বাস্তব)।" (সহিহ বুখারি: ৫৭৪০; সহিহ মুসলিম: ২১৮৭)
  • ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) তার গ্রন্থ রাদ্দুল মুহতার (৬/২২৮)-এ উল্লেখ করেছেন যে, বদনজর এমন একটি প্রভাব যা আল্লাহর ইচ্ছায় ঘটে, তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট নিয়মে আবদ্ধ নয়।

বদনজর কীভাবে লাগে?

  • বদনজর সাধারণত তখনই প্রভাব ফেলে যখন কেউ হিংসা বা ঈর্ষার চোখে তাকায়, অথবা মুখে প্রশংসা করে কিন্তু মনে হিংসা পোষণ করে।
  • এটি কোনো নির্দিষ্ট শব্দ বা বাক্যের ওপর নির্ভর করে না; বরং দৃষ্টি ও মনের নিয়তের ওপর নির্ভর করে।
  • তবে কিছু ক্ষেত্রে প্রশংসা করার সময় "মাশাআল্লাহ" বা "বারাকাল্লাহ" না বললে বদনজর লাগার আশঙ্কা থাকে, যেমন হাদিসে এসেছে—যে ব্যক্তি কোনো জিনিস দেখে খুশি হয়, সে যেন বরকতের দোয়া করে। (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩৫০৯)

বদনজর থেকে বাঁচার উপায়:
১. দোয়া ও জিকির:

  • সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়া।
  • "আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক" (আশরাফি আলী থানভি, বেহেশতি জেওর -এ উল্লেখিত)।
    ২. মাশাআল্লাহ বলা:
  • কোনো ভালো জিনিস দেখলে "মাশাআল্লাহ" বা "বারাকাল্লাহ" বলা সুন্নত।
    ৩. তাবিজ বা ঝাড়ফুঁক:
  • কুরআন ও সহিহ দোয়া দিয়ে ঝাড়ফুঁক করা জায়েজ, তবে শিরকমুক্ত হতে হবে। (ফাতাওয়া উসমানি, ২/২৩৪)

মনে রাখবেন:

  • বদনজর কোনো স্বাধীন শক্তি নয়; এটি সম্পূর্ণ আল্লাহর ইচ্ছায় প্রভাব ফেলে।
  • কেউ ইচ্ছা করলেই বদনজর দিতে পারে না; এটি আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কার্যকর হয় না।
  • বদনজরের ভয়ে আতঙ্কিত না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং সুন্নত অনুযায়ী দোয়া পড়া উচিত।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.