সালাত জমা করা সম্পর্কে

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 5183
Questioner: TT
Question Asked: 09 Sep 2026, 12:55 PM
Reviewed & Published: 09 Sep 2026, 01:35 PM
Views: 39
Tokens: 3,285
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি একজন মহিলা। সাদাস্রাব জনিত সমস্যা আছে। জরুরী কাজে বাহিরে গেলে লজ্জাস্থান পরিষ্কার করে অজু করে নামাজ পড়া কষ্টকর হয়ে যায় মাঝে মাঝে।এখন একই শহরের মধ্যে অন্য এলাকায় গেলে নামাজ জমা করা যাবে কিনা?
যোহরের সাথে যদি আসর পরে বের হই হবে?যদি বাহিরে নামাজের ব্যবস্থা না হয় বা অত্যন্ত কষ্টকর হয় তাহলে তো পরে নামাজ কাযা হয়ে যাবে।এক্ষেত্রে জমা করা যাবে?

Answer

সালাত জমা করা প্রসঙ্গে

প্রশ্ন: আমি একজন মহিলা। সাদাস্রাবজনিত সমস্যা আছে। জরুরি কাজে বাইরে গেলে লজ্জাস্থান পরিষ্কার করে অজু করে নামাজ পড়া কষ্টকর হয়ে যায় মাঝে মাঝে। এখন একই শহরের মধ্যে অন্য এলাকায় গেলে নামাজ জমা করা যাবে কি? যোহরের সাথে আসর পড়ে বের হলে হবে কি? যদি বাইরে নামাজের ব্যবস্থা না হয় বা অত্যন্ত কষ্টকর হয় তাহলে তো পরে নামাজ কাযা হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে জমা করা যাবে?


উত্তর

১. একই শহরের ভেতর অন্য এলাকায় গেলে কি নামায জমা করা যাবে?

  • শরয়ী সমাধান: না, একই শহরের ভেতরে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাওয়ার ক্ষেত্রে দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে বা জমা করে পড়ার কোনো সুযোগ নেই
  • কারণ: হানাফী ফিকহের অকাট্য মূলনীতি হলো—প্রত্যেক নামায তার নির্ধারিত ওয়াক্তের ভেতরেই আদায় করতে হবে। একমাত্র হজ্বের সময় আরাফাহ ও মুযদালিফা ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে বা অন্য কোনো কারণে দুই ওয়াক্তের নামায এক ওয়াক্তে পড়া (জমা করা) জায়েয নেই। কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে, "নিশ্চয় মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে নামায ফরয করা হয়েছে"
  • সফরের বিধান: যাতায়াতটি যদি একই শহরের ভেতরে হয়, তবে তা শরয়ী 'সফর' হিসেবে গণ্য হবে না। নামাযে ছাড় বা কসরের জন্য কমপক্ষে ৪৮ মাইল বা ৭৮ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করার নিয়ত থাকা শর্ত। সুতরাং শহরের ভেতরে যাতায়াতের কারণে নামায জমা করার অবকাশ নেই।

২. যোহরের সাথে আসর পড়ে বের হওয়া কি জায়েয?

  • শরয়ী সমাধান: না, আসরের ওয়াক্ত হওয়ার পূর্বে যোহরের সাথে আসরের নামায আদায় করা জায়েয নয়। যদি কেউ এমনটি করে, তবে তার আসরের নামায আদায় হবে না এবং আসরের ওয়াক্ত হওয়ার পর তা পুনরায় পড়া ফরয হবে।

৩. বাহিরে নামাযের ব্যবস্থা না থাকলে বা কষ্টকর হলে করণীয়:

আপনার জন্য শরীয়তের সহজতা ও বিকল্প কিছু পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো:

  • জম' আস-সূরী (Apparent Combination): যদি আপনার যাতায়াতের সময় নামায নিয়ে খুব সংকট হয়, তবে আপনি 'জম' আস-সূরী' বা নামাযের সময়কে সমন্বয় করতে পারেন ]। এর নিয়ম হলো—যোহরের নামায যোহরের ওয়াক্তের একেবারে শেষ সময়ে পড়বেন এবং আসরের নামায আসরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার সাথে সাথেই পড়ে নেবেন। এতে নামায দুটি বাহ্যত একত্রে মনে হলেও বাস্তবে যার যার ওয়াক্তেই আদায় হবে।

  • **বিঃদ্রঃ পরবর্তী হানাফি ফকিহদের কেউ কেউ আরাফাহ এবং মুযদালিফা ব্যতিত সাধারণ সফরেও দুই নামাযকে একত্রিত করার ফাতওয়া প্রদাণ করেছেন।

  • বাহিরে নামাযের স্থান: আপনার ধারণা হতে পারে যে মহিলাদের মসজিদে যাওয়া বা বাহিরে নামায পড়া অনুচিত। কিন্তু প্রয়োজনের সময় এবং নামায কাজা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে আপনার জন্য মসজিদে বা স্টেশনে কোনো পর্দার আড়ালে বা এক কোণায় আলাদা জায়গায় নামায পড়ে নেওয়া জরুরী। নামায কোনো অবস্থাতেই কাজা করা যাবে না।

  • মা'যুর বা ওজরগ্রস্তের বিধান: আপনার যেহেতু সাদাস্রাবজনিত সমস্যা আছে, তাই লক্ষ্য করতে হবে যদি এই নিঃসরণ পুরো এক ওয়াক্ত নামাযের সময়ব্যাপী এমনভাবে চলতে থাকে যে আপনার অযু করার পর কেবল ফরয নামাযটুকু পড়ার সময়ও রক্ত বা স্রাব বন্ধ থাকে না, তবে আপনি শরীয়তের দৃষ্টিতে 'মা'যুর' (excused person) হিসেবে গণ্য হবেন। এমতাবস্থায় আপনি প্রতি নামাযের ওয়াক্তে একবার অযু করবেন এবং ঐ অযু দিয়ে ঐ পুরো ওয়াক্তের ভেতর সব ধরনের নামায আদায় করতে পারবেন, স্রাব নির্গত হলেও অযু ভাঙবে না। এতে আপনার জন্য যাতায়াতের সময় বারবার অযু বা পবিত্রতা অর্জনের কষ্ট লাঘব হবে।

উপসংহার ও পরামর্শ:

আপনি একই শহরের ভেতরে যাতায়াতের কারণে নামায জমা করতে পারবেন না। তবে সাদাস্রাবের কারণে যদি আপনি 'মা'যুর'-এর কাতারে পড়েন, তবে প্রতি ওয়াক্তে একবার অযু করাই আপনার জন্য যথেষ্ট হবে। বাহিরে কাজের সময় যোহরের শেষ দিকে ও আসরের শুরুতে নামায পড়ে নিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করবেন।

সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:

১. দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ৫৬-৫৭ (জরুরী প্রয়োজনে মহিলাদের মসজিদে বা এক কোণায় নামায পড়ার গুরুত্ব)।
  • পৃষ্ঠা: ১৩২-১৩৩ (দুই নামায একত্রে পড়ার নিষেধাজ্ঞা ও হুকুম)।
  • পৃষ্ঠা: ১৩৪ (জম' আস-সূরী বা নামাযের সময় সমন্বয়ের পদ্ধতি)।
  • পৃষ্ঠা: ১২৮-১৩০ (সফর ও দূরত্বের শরয়ী সীমা)।

২. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ১১ ও ৪১ (নিঃসরণ ও ওজরগ্রস্ত ব্যক্তির অযুর বিধান)।
  • পৃষ্ঠা: ১২১-১২২ (মা'যুর বা অসুস্থ ব্যক্তির পবিত্রতা ও নামাযের নিয়ম)।

আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.