নামাজে বায়ু নির্গত হলে ওজু ভঙ্গ হয় কি?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 5070
Questioner: Anika Sanju
Question Asked: 06 Sep 2026, 11:23 PM
Reviewed & Published: 07 Sep 2026, 12:29 AM
Views: 17
Tokens: 9,297
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

Bayur somossa tackle tokon bayur cepe rakar cesta koreo ASE ggele ki oju benge jabe

Answer

উত্তর: নামাজে বায়ু নির্গত হলে ওজু ভঙ্গ হবে কি?

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

প্রশ্নকারী জিজ্ঞাসা করেছেন: নামাজের সময় যদি বায়ু (পায়খানা-প্রস্রাবের পথ দিয়ে গ্যাস) নির্গত হওয়ার সমস্যা হয়, এবং চেপে রাখার চেষ্টা করেও যদি বায়ু বেরিয়ে যায়, তাহলে কি ওজু ভঙ্গ হবে?

উত্তর

হ্যাঁ, শরীর থেকে বায়ু (গ্যাস) নির্গত হলে ওজু ভঙ্গ হয়ে যাবে—চেপে রাখার চেষ্টা করা হোক বা না হোক। বায়ু শরীর থেকে বের হওয়ার মুহূর্তেই ওজু ভঙ্গ হয়ে যায়, এমনকি যদি ব্যক্তি তা প্রতিরোধের চেষ্টা করে থাকে।


কুরআন ও হাদিসের দলিল

কুরআন থেকে: আল্লাহ তাআলা বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ... "হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা নামাজে দাঁড়াতে চাও, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত কনুই পর্যন্ত ধুয়ে নাও..." (সূরা আল-মায়িদাহ: ৬)

আয়াত:

أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ "...অথবা তোমাদের কেউ পায়খানা থেকে আসে..." (সূরা আল-মায়িদাহ: ৬)

এটি নির্দেশ করে যে, সামনে বা পেছনের রাস্তা দিয়ে যা কিছু বের হয় তা ওজু ভঙ্গ করে।

হাদিস থেকে: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

لَا تُقْبَلُ صَلَاةٌ بِغَيْرِ طُهُورٍ "পবিত্রতা ছাড়া নামাজ কবুল হয় না।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২২৪)

আরও, রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে নামাজে কিছু অনুভব হওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন:

لَا يَنْصَرِفْ حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتًا أَوْ يَجِدَ رِيحًا "সে নামাজ থেকে ফিরে যাবে না, যতক্ষণ না শব্দ শুনতে পায় অথবা গন্ধ পায়।" (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৩৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৩৬১)

এই হাদিস প্রমাণ করে যে, বায়ু নির্গত হওয়ার বাস্তবতা ওজু ভঙ্গ করে, নিছক অনুভূতি বা সন্দেহ নয়।


হানাফি ফিকহের বিধান

রদ্দুল মুহতার (দুররুল মুখতার) থেকে: ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেন:

(وَمِنْهَا خُرُوجُ الْخَارِجِ مِنَ الْقُبُلِ وَالدُّبُرِ) أَيْ سَوَاءٌ كَانَ الْخَارِجُ نَادِرًا أَوْ مُعْتَادًا... وَلَوْ غَلَبَهُ فَلَا فَرْقَ بَيْنَ أَنْ يَتَعَمَّدَ أَوْ لَا "ওজু ভঙ্গকারীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হলো সামনে বা পেছনের রাস্তা দিয়ে কিছু বের হওয়া—তা অস্বাভাবিক হোক বা স্বাভাবিক... এমনকি যদি তা তাকে প্রবলভাবে আচ্ছন্ন করে (অর্থাৎ সে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে), তাহলেও ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত হওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।" (রদ্দুল মুহতার, কিতাবুত তাহারাহ, ১/১৩৪)

ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগিরি) থেকে:

إِذَا خَرَجَ مِنْهُ رِيحٌ انْتَقَضَ وُضُوءُهُ سَوَاءٌ كَانَ قَلِيلًا أَوْ كَثِيرًا "যদি তার থেকে বায়ু বের হয়, তার ওজু ভঙ্গ হয়ে যাবে—তা অল্প হোক বা বেশি হোক।" (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, কিতাবুত তাহারাহ, ১/৯)

ইমদাদুল ফাতাওয়া থেকে: মুফতি রশিদ আহমদ গাঙ্গুহি (রহ.)-কে নামাজে বায়ু নির্গত হওয়ার সমস্যায় ভোগা ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি উত্তর দেন যে, যদি বায়ু প্রকৃতপক্ষে বের হয়, তাহলে ওজু ভঙ্গ হবে এবং নামাজ বাতিল হয়ে যাবে। তবে, যদি কেবল অনুভূতি হয় (শয়তানের ওয়াসওয়াসা) বায়ু বের হওয়ার নিশ্চয়তা ছাড়া, তাহলে ওজু ভঙ্গ হবে না। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, কিতাবুত তাহারাহ)

ফাতাওয়া উসমানি থেকে: মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি (হাফিজাহুল্লাহ) এই বিষয়ে বলেন:

যদি ব্যক্তি নিশ্চিত হয় যে বায়ু বের হয়েছে, তাহলে তার ওজু ভঙ্গ হয়ে গেছে এবং তার নামাজ বাতিল। তাকে অবশ্যই নতুন ওজু করে নামাজ পুনরায় আদায় করতে হবে। চেপে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে—এটা বিধান পরিবর্তন করে না। তবে, যদি সে কেবল ভেতরে কিছু নড়াচড়া অনুভব করে কিন্তু নিশ্চিত না হয় যে কিছু বের হয়েছে, তাহলে তার ওজু বৈধ থাকবে—ইস্তিশাব (মূল অবস্থার ধারাবাহিকতা) নীতির ভিত্তিতে। (ফাতাওয়া উসমানি, কিতাবুত তাহারাহ)


গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা

১. বায়ু নির্গত হওয়ার নিশ্চয়তা: যদি আপনি নিশ্চিত (ইয়াকিন) হন যে বায়ু বের হয়েছে, তাহলে আপনার ওজু ভঙ্গ হয়ে গেছে এবং নামাজ বাতিল। আপনাকে নামাজ বন্ধ করে নতুন ওজু করে নামাজ পুনরায় শুরু করতে হবে।

২. নিছক সন্দেহ (ওয়াসওয়াসা): যদি আপনি কেবল কিছু অনুভব করেন কিন্তু নিশ্চিত না হন যে বায়ু সত্যিই বের হয়েছে, তাহলে আপনার ওজু বৈধ থাকবে। শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে নামাজ ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। এটি হাদিসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ: "সে নামাজ থেকে ফিরে যাবে না, যতক্ষণ না শব্দ শুনতে পায় অথবা গন্ধ পায়।"

৩. দীর্ঘস্থায়ী বায়ু সমস্যায় আক্রান্তদের জন্য (মাজুর): যদি কোনো ব্যক্তি এমন ক্রমাগত সমস্যায় ভোগে যেখানে বায়ু এত ঘন ঘন নির্গত হয় যে কোনো নামাজই বায়ু নির্গত ছাড়া সম্পন্ন করা সম্ভব নয়, তাহলে সে "মাজুর" (ওজরগ্রস্ত) বিভাগে পড়বে। সেক্ষেত্রে বিধান ভিন্ন:

  • প্রতিটি নামাজের সময় শুরু হওয়ার পর ওজু করবে।
  • সেই ওজু দিয়ে নামাজ আদায় করতে পারবে, এমনকি নামাজের মধ্যে বায়ু নির্গত হলেও।
  • এই সুবিধা কেবল তখনই প্রযোজ্য যখন সমস্যাটি পুরো নামাজের সময় জুড়ে অব্যাহত থাকে।

ব্যবহারিক পরামর্শ

যদি এটি পুনরাবৃত্ত সমস্যা হয়, তাহলে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিবেচনা করুন:

১. ডাক্তারের পরামর্শ নিন: এই সমস্যার চিকিৎসা সমাধান থাকতে পারে। ২. ওয়াসওয়াসা (শয়তানের কুমন্ত্রণা) পরীক্ষা করুন: প্রায়শই শয়তান মানুষের মনে বায়ু নির্গত হওয়ার সন্দেহ সৃষ্টি করে যখন প্রকৃতপক্ষে কিছুই ঘটে না। আপনি যদি নিশ্চিত না হন, অনুভূতি উপেক্ষা করুন। ৩. যদি এটি প্রকৃত দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হয়: আপনি মাজুর (ওজরগ্রস্ত) হিসেবে গণ্য হতে পারেন। সেক্ষেত্রে, প্রতিটি নামাজের সময় শুরুতে ওজু করুন এবং সেই ওজু দিয়েই নামাজ আদায় করুন, এমনকি নামাজের মধ্যে বায়ু নির্গত হলেও।


উপসংহার

বিধানটি স্পষ্ট: শরীর থেকে বায়ু প্রকৃতপক্ষে নির্গত হলে ওজু ভঙ্গ হয়ে যাবে—চেপে রাখার চেষ্টা করা হোক বা না হোক। নামাজ বাতিল হয়ে যাবে এবং নতুন ওজু করে পুনরায় নামাজ আদায় করতে হবে। তবে, যদি কেবল অনুভূতি হয় বায়ু নির্গত হওয়ার নিশ্চয়তা ছাড়া, তাহলে ওজু বৈধ থাকবে এবং সন্দেহের ভিত্তিতে কাজ করা উচিত নয়।

والله أعلم بالصواب (আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞানী)



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.