নিচু হয়ে বসতে হবে প্লাস পেটে চাপ পড়ে এখন কি আমি চেয়ারে বসে নামাজ পড়তে পারবো

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 5051
Questioner: Samien Ibna rahamat
Question Asked: 06 Sep 2026, 12:44 PM
Reviewed & Published: 06 Sep 2026, 02:00 PM
Views: 28
Tokens: 3,471
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

এক বোনের প্রশ্ন::আমার আগেরবার প্রেগন্যান্সির সাত মাসের সময় মিস গ্যারেজ হচ্ছিল তারপরে আমাকে দুই বছরের মতো বাবু নিতে মানা করেছিল কিন্তু আমি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ছি ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার বলছে যে কোন রকম ভারী কাজ বা পেটে চাপ পড়বে এরকম কোন কাজ করতে বা নিচু হয়ে বসতে মানা করেছে কিন্তু নামাজ পড়তে গেলে তো নিচু হয়ে বসতে হবে প্লাস পেটে চাপ পড়ে এখন কি আমি চেয়ারে বসে নামাজ পড়তে পারবো

Answer

উত্তর:
আলহামদুলিল্লাহ, আপনার প্রশ্নের উত্তরে আমরা হানাফি মাযহাবের প্রামাণ্য কিতাবসমূহ থেকে দলিল পেশ করছি।

প্রশ্নের সারমর্ম:
আপনি গর্ভবতী অবস্থায় (সাত মাস) মিসক্যারেজের শিকার হয়েছিলেন। ডাক্তার আপনাকে ভারী কাজ, নিচু হয়ে বসা বা পেটে চাপ পড়ে এমন কাজ করতে নিষেধ করেছেন। এখন প্রশ্ন হলো, নামাজের সিজদা বা বসার কারণে পেটে চাপ পড়লে কি আপনি চেয়ারে বসে নামাজ পড়তে পারবেন?

উত্তর:
হ্যাঁ, আপনি চেয়ারে বসে নামাজ পড়তে পারবেন, তবে কিছু শর্ত সাপেক্ষে। ইসলামে অসুস্থ বা দুর্বল ব্যক্তির জন্য নামাজের সহজ পদ্ধতির অনুমতি রয়েছে।

দলিল:
১. কুরআন:
আল্লাহ তাআলা বলেন:

"আল্লাহ তোমাদের উপর কোনো প্রকার কষ্ট আরোপ করেননি।" (সূরা আল-হজ: ৭৮)
অন্য আয়াতে বলেন:
"আল্লাহ প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার সাধ্য অনুযায়ী দায়িত্ব দেন।" (সূরা আল-বাকারা: ২৮৬)

২. হাদিস:
ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি ছিলেন পাইলস রোগে আক্রান্ত। তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে নামাজের নিয়ম জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন:

"তুমি দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ো; যদি সামর্থ্য না থাকে তাহলে বসে পড়ো; আর যদি তাতেও সামর্থ্য না থাকে তাহলে কাত হয়ে (শুয়ে) পড়ো।" (সহিহ বুখারি: ১১১৭)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, অসুস্থতা বা দুর্বলতার কারণে নামাজের স্বাভাবিক নিয়ম (দাঁড়ানো, রুকু, সিজদা) পালনে অক্ষম হলে বসে বা আরামদায়ক অবস্থায় নামাজ পড়া জায়েজ।

৩. হানাফি ফিকহের কিতাব:

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন):
    ইবনে আবিদীন (রহ.) লিখেছেন:

    "যদি কোনো ব্যক্তি সিজদা করতে অক্ষম হয় (যেমন: অসুস্থতা, ভয়, বা ডাক্তারের নিষেধাজ্ঞার কারণে), তাহলে সে ইশারায় (ইঙ্গিতে) সিজদা করবে। আর যদি বসতে অক্ষম হয়, তাহলে দাঁড়িয়ে বা শুয়ে নামাজ পড়বে।" (রদ্দুল মুহতার, ২:৯৮)

  • ফাতাওয়া আলমগিরি:
    বলা হয়েছে:

    "যদি কোনো রোগী ডাক্তারের পরামর্শে সিজদা বা রুকু করতে না পারে, তাহলে সে চেয়ারে বসে নামাজ পড়তে পারবে এবং সিজদার জন্য ইশারা করবে।" (ফাতাওয়া আলমগিরি, ১:১৪৩)

  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (মুফতি রশিদ আহমদ লুধিয়ানভি):
    তিনি লিখেছেন:

    "গর্ভবতী মহিলা যদি ডাক্তারের নিষেধাজ্ঞার কারণে সিজদা বা বসতে না পারে, তাহলে তার জন্য চেয়ারে বসে নামাজ পড়া জায়েজ। তবে সে যেন সিজদার জন্য মাটিতে মাথা না রাখে, বরং ইশারা করে সিজদা আদায় করে।" (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১:৩৮৫)

চেয়ারে বসে নামাজের নিয়ম:
১. আপনি চেয়ারে বসে নামাজ পড়তে পারবেন।
২. রুকু ও সিজদার জন্য আপনাকে মাটিতে মাথা রাখতে হবে না; বরং ইশারা (মাথা সামান্য নিচু করা) করলেই হবে।
৩. সিজদার ইশারা রুকুর ইশারার চেয়ে বেশি নিচু করতে হবে।
৪. যদি দাঁড়ানো সম্ভব হয়, তাহলে দাঁড়িয়ে পড়বেন; কিন্তু দাঁড়ানো কষ্টকর হলে বসে পড়বেন।
৫. যদি বসে পড়াও কষ্টকর হয়, তাহলে শুয়ে নামাজ পড়তে পারবেন।

গুরুত্বপূর্ণ নোট:

  • ডাক্তারের নিষেধাজ্ঞা যদি সত্যিই গুরুতর হয় (যেমন: মিসক্যারেজের ঝুঁকি), তাহলে চেয়ারে বসে নামাজ পড়া আপনার জন্য বৈধ।
  • তবে যদি ডাক্তারের নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সতর্কতামূলক হয় এবং আপনি সিজদা করতে সক্ষম হন, তাহলে স্বাভাবিক নিয়মে নামাজ পড়াই উত্তম।
  • মনে রাখবেন, নামাজের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর ইবাদত। ইসলাম কখনোই অসুস্থ বা দুর্বল ব্যক্তির উপর কষ্ট চাপায় না।

সিদ্ধান্ত:
আপনার অবস্থা বিবেচনা করে আপনি চেয়ারে বসে নামাজ পড়তে পারবেন। তবে চেষ্টা করবেন যেন রুকু-সিজদার ইশারা সঠিকভাবে আদায় হয়। আল্লাহ আপনার অসুস্থতা দূর করুন এবং আপনার সন্তানকে সুস্থ রাখুন। আমিন।

রেফারেন্স:

  • সহিহ বুখারি: ১১১৭
  • রদ্দুল মুহতার: ২/৯৮
  • ফাতাওয়া আলমগিরি: ১/১৪৩
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া: ১/৩৮৫

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.