হায়েজের ডেইট পার হওয়ার পর সামান্য ছাই রঙের দেখা
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
আমার হায়েযের ডেট পার হয়েছে আজ তিনদিন।গতকাল দুপুরবেলা আমি খুব সামান্য ছাই রঙের স্রাব দেখেছি,,তারপরে আমি হয়তোবা ভুল ভেবে যোহর সালাত পড়েছি, আসর এবং মাগরিবের সময় সম্পুর্ণ সাদাস্রাব দেখেছি।।এরপর রাত সাড়ে ১০ বা ১১ টার দিকে আবারো সামান্য ছাই রঙের স্রাব দেখি,,তারপর কোনটা সঠিক বা কি,সেজন্য এশা পড়েছি,,আবার সকালে ও সামান্য ছাই রঙের স্রাব দেখার পরও সালাত পড়েছি,কারণ কি করব বুঝতে পারছিলাম না,,কিন্তু গতকাল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ব্লাড ই দেখছিনা, নরমালি আমার এমনটা হয় না,,এখন আমি কি আমার হায়েজ শুরু হয়ে গিয়েছে ধরে নিব? এবং তা কি গতকাল যোহর থেকেই ধরব? এর মাঝে পড়া সালাত গুলোর কারণে কি আমার গুনাহ হবে?
Answer
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, আপনি হায়েযের (মাসিক ঋতুস্রাবের) নির্ধারিত তারিখের তিনদিন পর গতকাল দুপুরে খুব সামান্য ছাই রঙের স্রাব দেখেছেন, এরপর যোহর, আসর ও মাগরিবের সময় সম্পূর্ণ সাদা স্রাব, আবার রাতে ও সকালে সামান্য ছাই রঙের স্রাব দেখেছেন। এখন আপনি জানতে চান যে, আপনার হায়েয শুরু হয়েছে কিনা এবং গতকাল যোহর থেকে ধরা যাবে কিনা, সেই সাথে এর মধ্যে পড়া সালাতগুলোর কারণে গুনাহ হবে কিনা।
হানাফি ফিকহের নিয়ম অনুযায়ী উত্তর:
১. হায়েয শুরুর নিয়ম: হানাফি মাযহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, হায়েযের নির্ধারিত সময়ের (আদত) পরে যদি কোনো রক্ত বা রক্তের মতো রঙের স্রাব (যেমন: ছাই, হলুদ, ময়লা রঙ) দেখা যায়, তবে তা হায়েয হিসেবে গণ্য হবে। তবে শর্ত হলো, এই স্রাবটি কমপক্ষে তিন দিন (৭২ ঘণ্টা) ধরে অব্যাহত থাকতে হবে। এর কম সময়ে স্রাব বন্ধ হয়ে গেলে তা হায়েয হিসেবে গণ্য হবে না, বরং তা ইস্তিহাযা (অস্বাভাবিক রক্তস্রাব) হিসেবে বিবেচিত হবে।
আপনার ক্ষেত্রে, আপনি গতকাল দুপুরে সামান্য ছাই রঙের স্রাব দেখেছেন, কিন্তু এরপর সম্পূর্ণ সাদা স্রাব দেখেছেন। এরপর আবার রাতে ও সকালে সামান্য ছাই রঙের স্রাব দেখেছেন। কিন্তু এখন (আপনার প্রশ্নের সময় পর্যন্ত) কোনো স্রাব দেখছেন না। যেহেতু স্রাবটি একটানা তিন দিন স্থায়ী হয়নি এবং এখন সম্পূর্ণ বন্ধ, তাই আপনার হায়েয শুরু হয়েছে বলে ধরা যাবে না। এটি ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে।
তবে, যদি এই স্রাব আবার শুরু হয় এবং একটানা তিন দিন (৭২ ঘণ্টা) স্থায়ী হয়, তাহলে সেটি হায়েয হিসেবে গণ্য হবে এবং সেই তিন দিনের শুরু থেকে (যখন প্রথম স্রাব দেখা গিয়েছিল) হায়েয ধরা হবে।
২. সালাতের বিধান: যেহেতু আপনার হায়েয শুরু হয়নি, তাই আপনি গতকাল যোহর, আসর, মাগরিব, এশা এবং আজকের ফজর যে সালাতগুলো পড়েছেন, সেগুলো সঠিক ও বৈধ হয়েছে। এই সালাতগুলোর কারণে আপনার কোনো গুনাহ হবে না। বরং আপনি সালাত আদায় করে সওয়াব পেয়েছেন।
তবে, যদি পরে দেখা যায় যে, আপনার হায়েয শুরু হয়ে গিয়েছিল (অর্থাৎ স্রাব একটানা তিন দিন স্থায়ী হয়), তাহলে সেই সময়ের মধ্যে পড়া সালাতগুলো (যোহর, আসর, মাগরিব, এশা, ফজর) আপনার পড়া ঠিক হয়নি। কারণ, হায়েয অবস্থায় সালাত পড়া বৈধ নয় এবং সেই সালাতগুলো আদায় হয় না। কিন্তু যেহেতু আপনি জানতেন না, তাই আপনার গুনাহ হবে না।
সংক্ষিপ্ত উত্তর:
- এখন পর্যন্ত আপনার হায়েয শুরু হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, কারণ স্রাব একটানা তিন দিন স্থায়ী হয়নি।
- এর মধ্যে পড়া সালাতগুলো সঠিক হয়েছে এবং এর জন্য আপনার কোনো গুনাহ হবে না।
- যদি স্রাব আবার শুরু হয় এবং একটানা তিন দিন স্থায়ী হয়, তাহলে সেটি হায়েয হিসেবে গণ্য হবে।
আরও সতর্কতা: আপনার হায়েযের নির্ধারিত তারিখ পার হয়ে গেছে এবং এমন অস্বাভাবিক স্রাব দেখছেন, তাই আপনি যদি নিশ্চিন্ত থাকতে চান, তাহলে একজন নারী চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন। তবে ফিকহের দৃষ্টিতে উপরোক্ত নিয়মই প্রযোজ্য।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।