অনিচ্ছা সত্বেও লাইগেশন করিয়ে দেওয়া
Halal and Haram · Hanafi
Question
সরকারি Hospital এ অনেক করে বললে ও তারা কথা শুনে না। আমি অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ ফলো করে ও পেটে বাচ্চা এসে গিয়েছে এক্ষেত্রে ডাক্তার তো আরো কোনো কথায় শুনবে না। তবুও আমি অনুরোধ করব।
আর নার্সিং হোম এ অপারেশন করাতে অনেক টাকা লাগে তাই সেটা ও সম্ভব হচ্ছে না, স্বামী মসজিদের ইমাম, বেতন খুবই কম। তাই অপারেশন টা সরকারি হাসপাতালেই করাতে হচ্ছে। যদি লাইগেশন করিয়ে দেয় আমি কি করবো উস্তাদ? হিন্দু ডাক্তার! এমনিতেই দুই বাচ্চার মাঝে গ্যাপ কম বলে কেমন বিচ্ছিরি করছে!
Answer
উত্তর
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রিয় বোন, আপনার কঠিন পরিস্থিতি বুঝতে পারছি। আপনার প্রশ্নটি মূলত স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ (লাইগেশন/Tubal Ligation) করার বৈধতা নিয়ে। আসুন আমরা ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করি।
ইসলামী বিধান
১. স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ (লাইগেশন) এর হুকুম
হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী:
- স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ (লাইগেশন/টিউবেকটমি) সাধারণত নাজায়েয (অপছন্দনীয়/নিষিদ্ধ) কারণ এটি আল্লাহর দেওয়া সন্তান ধারণের ক্ষমতাকে স্থায়ীভাবে নষ্ট করে দেয়।
- ইমাম ইবনে আবিদীন (রহঃ) "রাদ্দুল মুহতার" এ উল্লেখ করেছেন যে, স্থায়ীভাবে বন্ধ্যাকরণ জায়েয নয়। (রাদ্দুল মুহতার, ৬/৪১৭)
২. জরুরতের (প্রয়োজনের) শর্তে অনুমতি
তবে কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসাগত জরুরত থাকলে আলেমগণ অনুমতি দিয়েছেন:
- যদি ডাক্তারি পরামর্শ অনুযায়ী প্রমাণিত হয় যে, আরেকটি সন্তান হলে মায়ের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
- ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) এর মতে, যদি সত্যিই মায়ের জীবনের জন্য হুমকি থাকে, তবে সন্তান ধারণে বাধা দেওয়া জায়েয হতে পারে।
৩. অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণের বিধান
- অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ (যেমন: পিল, কনডম, ইনজেকশন ইত্যাদি) স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্মতিতে জায়েয।
- কিন্তু স্থায়ী পদ্ধতি (লাইগেশন/ভ্যাসেকটমি) সাধারণত নাজায়েয, কারণ এটি স্থায়ীভাবে সন্তান ধারণের ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।
আপনার পরিস্থিতির বিশ্লেষণ
আপনার ক্ষেত্রে:
- আপনার প্রথম সন্তান সিজারিয়ানের মাধ্যমে হয়েছে (১১ মাস বয়সে)
- দ্বিতীয় সন্তান পেটে এসেছে
- ডাক্তার দ্বিতীয় সিজার করার সময় লাইগেশন করার পরামর্শ দিচ্ছেন
- আপনার স্বামীর আয় কম, তাই বেসরকারি হাসপাতালে অপারেশন সম্ভব নয়
করণীয়
১. ডাক্তারের সাথে কথা বলুন
- ডাক্তারকে বোঝানোর চেষ্টা করুন যে, আপনি স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণে রাজি নন
- শুধুমাত্র সিজারিয়ান অপারেশনটি করুন, লাইগেশন নয়
- ডাক্তারকে বলুন, "আমি ধর্মীয় কারণে স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ করাতে পারব না"
২. বিকল্প ব্যবস্থা
- যদি ডাক্তার না শোনে, তাহলে অন্য কোনো সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করুন
- কোনো ইসলামিক সংস্থা বা মাদ্রাসার মাধ্যমে সাহায্য চাওয়ার চেষ্টা করুন
- এলাকার কোনো সমাজসেবী বা এনজিওর মাধ্যমে সহায়তা চাওয়া যেতে পারে
৩. যদি জোরপূর্বক লাইগেশন করিয়ে দেওয়া হয়
- যদি ডাক্তার জোরপূর্বক লাইগেশন করে দেন, তাহলে আপনি গুনাহগার হবেন না, কারণ এটি আপনার ইচ্ছার বিরুদ্ধে করা হয়েছে
- ইসলামে জোরপূর্বক কোনো কাজ করলে সেটার জন্য ব্যক্তি দায়ী নয়
৪. তাওবার সুযোগ
- যদি লাইগেশন হয়ে যায়, তাহলে আল্লাহর কাছে তাওবা করুন
- মনে রাখবেন, আল্লাহ ক্ষমাশীল। আপনি যদি মনে প্রাণে চান যে, এটি আপনার ইচ্ছায় হয়নি, তবে আল্লাহ ইনশাআল্লাহ ক্ষমা করবেন
গুরুত্বপূর্ণ নোট
আপনার ক্ষেত্রে মায়ের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদি ডাক্তারি পরামর্শ হয় যে, আরেকটি সিজারিয়ান আপনার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে, তাহলে কিছু আলেম চিকিৎসাগত প্রয়োজনে লাইগেশনকে জায়েয বলেছেন। তবে সেক্ষেত্রেও স্থায়ী পদ্ধতির পরিবর্তে অস্থায়ী পদ্ধতি (যেমন: IUCD, ইমপ্ল্যান্ট ইত্যাদি) ব্যবহার করা উত্তম।
উপসংহার
আপনার উচিত:
- ডাক্তারের সাথে বিনয়ের সাথে কথা বলা এবং তাকে বোঝানো
- স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণে অস্বীকৃতি জানানো
- বিকল্প ব্যবস্থা খোঁজা
- আল্লাহর উপর ভরসা রাখা
আল্লাহ তায়ালা আপনার অসুবিধা দূর করুন এবং আপনার সন্তানদের হেফাজত করুন। আমীন।
والله أعلم بالصواب