জামাতের সালাত
Salah-Prayer · Hanafi
Question
Answer
মহিলাদের তাসবীহের পদ্ধতি প্রসঙ্গে
উত্তর
আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনায় যে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন, তা সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমসহ বিভিন্ন হাদীস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। এই হাদীসের ব্যাখ্যা নিম্নরূপ:
হাদীসের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ বলা) পুরুষদের জন্য এবং তালি (হাততালি) মহিলাদের জন্য।" (সহীহ বুখারী: ১২০৩, সহীহ মুসলিম: ৪২২)
অন্য বর্ণনায় এসেছে, ইমামের ভুল হলে পুরুষ মুক্তাদিরা "সুবহানাল্লাহ" বলে ইমামকে সতর্ক করবে। আর মহিলারা ডান হাতের আঙুলগুলো বাম হাতের পিঠের উপর আঘাত করবে, যাতে শব্দ হয় এবং ইমাম সতর্ক হতে পারেন।
মহিলাদের পদ্ধতি বুঝিয়ে বলা
মহিলাদের জন্য নির্দেশনা হলো:
১. তারা উচ্চস্বরে "সুবহানাল্লাহ" বলবে না - কারণ মহিলাদের কণ্ঠস্বর উত্তোলন করা ইসলামী আদবের পরিপন্থী এবং ফিতনার কারণ হতে পারে।
২. তারা হাততালি দেবে না - সাধারণ হাততালির মতো উভয় হাতের তালুতে তালু মেরে শব্দ করবে না।
৩. তারা ডান হাতের আঙুল দিয়ে বাম হাতের পিঠে আঘাত করবে - ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে, মহিলারা ডান হাতের আঙ্গুলসমূহ বাম হাতের পিঠের উপর এমনভাবে মারবে যাতে শব্দ সৃষ্টি হয়। এটি সাধারণ হাততালি নয়, বরং একটি সতর্কীকরণ পদ্ধতি মাত্র।
হানাফী ফিকহের দৃষ্টিভঙ্গি
ইমাম আবু হানীফা (রহ.) বলেন: মহিলারা ডান হাতের আঙুলগুলো বাম হাতের পিঠে মারবে। (বাদায়েউস সানায়ে: ২/২১৩)
ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) বলেন: মহিলারা ডান হাতের তালু বাম হাতের পিঠের উপর মারবে। (আল-মাবসুত, সারাখসী: ১/১৮৩)
ইমাম ইবনে আবেদীন (রহ.) তার বিখ্যাত গ্রন্থ রদ্দুল মুহতার-এ বলেন:
"মহিলাদের জন্য তাসবীহ বলা নয়, বরং হাতের পিঠে আঘাত করা। আর তা হলো ডান হাতের আঙুলগুলো বাম হাতের পিঠের উপর এমনভাবে মারবে যেন শব্দ হয়।" (রদ্দুল মুহতার: ২/৩১৭)
গুরুত্বপূর্ণ নোট
১. ইমামের ভুল হলে - ইমাম যদি ভুলে যান বা কোনো ভুল করেন, তখন মুক্তাদিরা এই পদ্ধতিতে ইমামকে সতর্ক করবে।
২. মহিলাদের ক্ষেত্রে - মহিলারা যখন জামাআতে অংশ নেয় (মহিলাদের জামাআতে), তখন তারা এই পদ্ধতি অনুসরণ করবে। পুরুষদের জামাআতে মহিলারা অংশ নিলে তারা নীরবে থাকবে এবং ইমামের ভুল হলে তারা তাসবীহও বলবে না, হাতেও আঘাত করবে না - কারণ এটি ফিতনার কারণ হতে পারে। বরং তারা ইমামের ভুল সম্পর্কে নীরবে থাকবে অথবা নামাযের পর জানিয়ে দেবে।
৩. উদ্দেশ্য - মূল উদ্দেশ্য হলো ইমামকে সতর্ক করা। পুরুষদের জন্য উচ্চকণ্ঠ permissible, কিন্তু মহিলাদের জন্য উচ্চকণ্ঠ পরিহার করে লজ্জাশীলতা রক্ষা করা এবং কম শব্দে সতর্ক করা।
দলিল
১. সহীহ বুখারী: ১২০৩ ২. সহীহ মুসলিম: ৪২২ ৩. সুনানে আবু দাউদ: ৯৪১ ৪. রদ্দুল মুহতার: ২/৩১৭ ৫. বাদায়েউস সানায়ে: ২/২১৩
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।