রাগের মাথায় আল্লাহর কসম উচ্চারণ করলে এবং কী বলেছিলেন মনে না থাকলে করণীয় কী?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
কসমের কাফফারা দিতে হবে?
Answer
উত্তর:
আলহামদুলিল্লাহ, ওয়া বি’হি নাস্তাঈন।
রাগের মাথায় উচ্চারিত কসম (শপথ) শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ এবং এর বিধান প্রযোজ্য হয়, যদি তা ইচ্ছাকৃতভাবে এবং জেনে-শুনে উচ্চারিত হয়। রাগের কারণে কসমের বিধান পরিবর্তন হয় না। তবে যদি কসম উচ্চারণের সময় আপনি স্পষ্টভাবে কোনো নির্দিষ্ট কাজ করার বা না করার সংকল্প না করে থাকেন, অথবা মনে নেই যে ঠিক কী বলেছিলেন, তাহলে নিম্নোক্ত নিয়ম অনুসরণ করবেন:
১. কসমের শর্ত ও বিধান:
- কসম শুদ্ধ হওয়ার জন্য আল্লাহর নাম (যেমন: "ওয়াল্লাহি", "বিল্লাহি", "তাল্লাহি") অথবা আল্লাহর কোনো গুণবাচক নাম (যেমন: "রহমানের কসম") উচ্চারণ করা জরুরি।
- কসমের মাধ্যমে ভবিষ্যতে কোনো কাজ করার বা না করার দৃঢ় সংকল্প থাকতে হবে।
- যদি কসম ভঙ্গ হয় (অর্থাৎ, যে কাজের শপথ করা হয়েছিল তা করা বা না করা হয়), তাহলে কাফফারা ওয়াজিব হয়।
২. মনে না থাকলে কী করবেন?
- যদি আপনি নিশ্চিত না হন যে, কসমের মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কি না, অথবা কী বলেছিলেন তা স্মরণ না থাকে, তাহলে আসল কথা হলো—যতক্ষণ না নিশ্চিত হচ্ছেন যে, কসম ভঙ্গ হয়েছে, ততক্ষণ কাফফারা ওয়াজিব হবে না।
- ইসলামি ফিকহের নীতি হলো: "ইয়াকীন (নিশ্চিত জ্ঞান) সন্দেহ দ্বারা দূরীভূত হয় না।" (আল-আশবাহ ওয়ান-নাযাইর, ক্বাওয়ায়িদুল ফিকহ)
- তাই, কসমের বিষয়টি স্মরণ না থাকলে বা সন্দেহ থাকলে কাফফারা দেওয়া জরুরি নয়। তবে তওবা ও ইস্তিগফার করা উচিত, কারণ রাগের সময় আল্লাহর নাম নিয়ে অহেতুক কসম করা অনুচিত।
৩. কসম ভঙ্গের কাফফারা:
যদি পরে নিশ্চিত হন যে, কসম ভঙ্গ হয়েছে (যেমন: "আমি অমুক কাজ করবো না" বলে কসম করার পর সেই কাজটি করেছেন), তাহলে কাফফারা হিসেবে নিম্নোক্ত যেকোনো একটি পালন করবেন:
১. ১০ জন মিসকিনকে (গরিব-দুঃস্থ) দুই বেলা পেট ভরে খাবার খাওয়ানো, অথবা
২. ১০ জন মিসকিনকে প্রত্যেককে সাধারণ পোশাক (যা সালাতে পরা যায়) প্রদান করা, অথবা
৩. একজন দাস/ক্রীতদাস মুক্ত করা (আজকাল প্রযোজ্য নয়)।
যদি এসব সামর্থ্য না থাকে, তাহলে পরপর ৩ দিন রোজা রাখতে হবে।
(সূরা আল-মায়িদাহ: ৮৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৬০-৬১)
৪. রাগের সময় কসমের ব্যাপারে সতর্কতা:
- রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা রাগের সময় কসম করা থেকে বিরত থাকো।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০৬৬)
- রাগের মাথায় উচ্চারিত কসম যদি অনিচ্ছাকৃত হয় (যেমন: জোর করে বা ভয় দেখিয়ে বলানো হয়), তাহলে তা শুদ্ধ নয়। কিন্তু আপনি নিজে ইচ্ছা করে বলেছেন বলে মনে করলে তা বৈধ।
৫. আপনার করণীয়:
- তওবা করুন এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন।
- কসমের বিষয়টি স্মরণ করার চেষ্টা করুন। যদি মনে না আসে, তবে ধরে নেবেন যে, কসম ভঙ্গ হয়নি বা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি ছিল না।
- কাফফারা দিতে হবে না, যতক্ষণ না নিশ্চিত হন যে, কসম ভঙ্গ হয়েছে।
- ভবিষ্যতে রাগের সময় আল্লাহর নাম নিয়ে কসম করা থেকে বিরত থাকুন।