সূরা আত-ত্বালাকের ২ ও ৩ নং আয়াত
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
করলে যে নিয়তে পাঠ করবে তা অসম্ভব (বৈধ বিষয়ে) হলেও সম্ভব হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ
1) এই হাদিস কি আসলেই সত্য
২)যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে প্রতিদিন ১১ বার হতে ১১১ বার পর্যন্ত পাঠের কথা বলা হয়েছে,আমি যদি ১১ বার বা বিশ বার, ১১ বারের বেশি কিন্তু ১১১ বারের কম পাঠ করি তাহলে কি হবে?
৩)প্রতিদিন কি এক বসায় এটা পাঠ করতে হবে?যদি আমি সারাদিনে অল্প অল্প করে পাঠ করি তাহলে কি হবে?
Answer
সূরা আত-ত্বালাকের ২ ও ৩ নং আয়াত পাঠ সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
প্রশ্নকারী সূরা আত-ত্বালাকের ২ ও ৩ নং আয়াত প্রতিদিন ১১ থেকে ১১১ বার পাঠ করার বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। এই আমলের সত্যতা, নির্ধারিত সংখ্যা থেকে কম-বেশি পাঠের বিধান।
১) এই হাদিস/আমল কি আসলেই সত্য?
উত্তর: সূরা আত-ত্বালাকের ২ ও ৩ নং আয়াত নির্দিষ্ট সংখ্যায় পাঠ করার বিষয়ে কোনো সহীহ বা বিশুদ্ধ হাদিস পাওয়া যায় না। এটি কোনো প্রমাণিত হাদিস নয়।
তবে, সাধারণভাবে সূরা আত-ত্বালাকের ২ ও ৩ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে রিজিক ও উত্তরণের সুসংবাদ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا * وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ "আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করবে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেবেন। এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না।" (সূরা আত-ত্বালাক: ২-৩)
এই আয়াত দুটি পাঠ করা এবং এর উপর আমল করা অবশ্যই উত্তম। কিন্তু নির্দিষ্ট সংখ্যা (১১, ২১, ৫১, ১১১ বার) উল্লেখ করে কোনো সহীহ হাদিস বা নির্ভরযোগ্য দলিল নেই।
হানাফি ফিকহের দৃষ্টিতে: ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এবং অন্যান্য ফুকাহায়ে কেরাম নির্দিষ্ট সংখ্যা ও নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে আমল করার ক্ষেত্রে সহীহ দলিলের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। কোনো আমল যদি সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত না হয়, তবে তাকে হাদিস বলে চালানো বা নির্দিষ্ট সংখ্যাকে আবশ্যক মনে করা সঠিক নয়।
মুফতি তাকি উসমানি (দামাত বারাকাতুহুম) বলেন: নির্দিষ্ট সংখ্যায় কোনো আয়াত বা সূরা পাঠ করার ফজিলত সম্পর্কে যদি সহীহ হাদিস না থাকে, তবে তা উদ্ভাবিত আমল হিসেবে গণ্য হবে। তবে সাধারণভাবে কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত অনেক।
২) ১১ বার বা ২০ বার পাঠ করলে কী হবে?
যেহেতু এই নির্দিষ্ট সংখ্যার আমলটি সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়, তাই নির্দিষ্ট সংখ্যা (১১, ২১, ৫১, ১১১) পূরণ করা জরুরি নয়।
- আপনি যতবারই পাঠ করুন না কেন, আল্লাহর জিকির ও কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াব পাবেন।
- তবে যদি কেউ মনে করে যে, নির্দিষ্ট সংখ্যা পূরণ না করলে কোনো ক্ষতি হবে বা আমলটি শুদ্ধ হবে না—এমন ধারণা সঠিক নয়।
- মূল বিষয় হলো: তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জন করা এবং আল্লাহর উপর ভরসা করা। আয়াতের অর্থ অনুধাবন করে পাঠ করা এবং সেই অনুযায়ী আমল করাই মূল উদ্দেশ্য।
৩) প্রতিদিন কি এক বসায় পাঠ করতে হবে?
যেহেতু এই আমলটি সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়, তাই এক বসায় পাঠ করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
- আপনি সারাদিনে অল্প অল্প করে পাঠ করতে পারেন—এতে কোনো সমস্যা নেই।
- কুরআন তিলাওয়াতের সাধারণ নিয়ম হলো—যেকোনো সময়, যেকোনো পরিমাণে পাঠ করা যেতে পারে।
- তবে একটানা বা একাকী পাঠ করার চেয়ে অর্থ বুঝে পাঠ করা এবং তাকওয়া অর্জনের চেষ্টা করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) তার তাফসিরে উল্লেখ করেছেন যে, কুরআনের আয়াতসমূহের উপর আমল করার মূল উদ্দেশ্য হলো—আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা এবং তাকওয়া অর্জন করা।
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
১. সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয় এমন আমলকে হাদিস বলে প্রচার করা থেকে বিরত থাকুন। ২. সূরা আত-ত্বালাকের ২ ও ৩ নং আয়াত পাঠ করা উত্তম—তবে তা নির্দিষ্ট সংখ্যার বাধ্যবাধকতা ছাড়া। ৩. আয়াত দুটির অর্থ বুঝে পাঠ করুন এবং তাকওয়া অর্জনের চেষ্টা করুন। ৪. রিজিক ও সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য আল্লাহর উপর ভরসা করুন এবং দুআ করুন। ৫. কোনো আমল সম্পর্কে জানতে হলে আলেম বা মুফতির নিকট জিজ্ঞাসা করুন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন এবং সহীহ আমল করার তাওফিক দিন। আমিন।