কেউ কষ্ট দিলে ইসলামে কী করণীয় কি?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 4930
Questioner: tahia islam samaira 1032
Question Asked: 04 Sep 2026, 01:28 AM
Reviewed & Published: 04 Sep 2026, 02:15 AM
Views: 7
Tokens: 2,250
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

Amk akjon onk kocha khota kosto dise amr kharap otit niye kosto diye Kotha bolse onk kandaise tk nai dekhe ja ta bolse onk kosto dise onar nam Allah Kase bichar chawa jabe r onk boddua dawa jabe

Answer

উত্তরের সারসংক্ষেপ

আপনি যে কষ্ট পেয়েছেন, তা আমি বুঝতে পারছি। কেউ আপনার অতীত নিয়ে কটূক্তি করে আপনাকে কষ্ট দিয়েছে—এটা সত্যিই বেদনাদায়ক। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে এর সমাধান কী, তা নিচে তুলে ধরছি।


১. কষ্ট দেওয়া অন্যায়, তবে প্রতিশোধ নেওয়ার অনুমতি সীমিত

আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন:

وَجَزَاءُ سَيِّئَةٍ سَيِّئَةٌ مِّثْلُهَا ۖ فَمَنْ عَفَا وَأَصْلَحَ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ "আর মন্দের প্রতিশোধ তার অনুরূপ মন্দ। তবে যে ক্ষমা করে দেয় এবং সংশোধন করে নেয়, তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে রয়েছে।" (সূরা আশ-শূরা: ৪০)

অর্থাৎ, আপনি যদি প্রতিশোধ নিতে চান, তবে সীমিত পরিমাণে নিতে পারেন—যতটুকু আপনাকে কষ্ট দেওয়া হয়েছে, ঠিক ততটুকু। কিন্তু এর চেয়ে উত্তম হলো ক্ষমা করা


২. ক্ষমার শ্রেষ্ঠত্ব

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

وَمَا زَادَ اللَّهُ عَبْدًا بِعَفْوٍ إِلَّا عِزًّا "যে বান্দা ক্ষমা করে, আল্লাহ তার মর্যাদা আরও বাড়িয়ে দেন।" (সহীহ মুসলিম: ২৫৮৮)

ক্ষমা করার অর্থ এই নয় যে, আপনি দুর্বল; বরং এটি মহান চরিত্রের পরিচয়।


৩. বদদুয়া (অভিশাপ) দেওয়া কি জায়েজ?

যে ব্যক্তি আপনার উপর জুলুম করেছে, তার বিরুদ্ধে বদদুয়া করা জায়েজ আছে, তবে শর্ত হলো—সীমা অতিক্রম না করা এবং নিজের ক্ষতির পরিমাণের বেশি না চাওয়া। আল্লাহ বলেন:

لَّا يُحِبُّ اللَّهُ الْجَهْرَ بِالسُّوءِ مِنَ الْقَوْلِ إِلَّا مَن ظُلِمَ "আল্লাহ পছন্দ করেন না যে, কেউ প্রকাশ্যে মন্দ কথা বলুক, তবে যার উপর জুলুম করা হয়েছে সে ছাড়া।" (সূরা আন-নিসা: ১৪৮)

তবে ক্ষমা করাই উত্তম, কারণ বদদুয়া আপনার নিজের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে—হাদিসে এসেছে, বদদুয়া করা ব্যক্তির নিজের উপর ফিরে আসতে পারে যদি তা কবুলের উপযুক্ত না হয়।


৪. আখিরাতে বিচার অবশ্যই হবে

আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন—যে ব্যক্তি আপনার হক নষ্ট করেছে, আল্লাহ তাকে ছেড়ে দেবেন না। কিয়ামতের দিন প্রতিটি জুলুমের বিচার হবে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

لَتُؤَدُّنَّ الْحُقُوقَ إِلَى أَهْلِهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ، حَتَّى يُقَادَ لِلشَّاةِ الْجَلْحَاءِ مِنَ الشَّاةِ الْقَرْنَاءِ "কিয়ামতের দিন সকলের হক তার প্রাপককে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, এমনকি শিংবিহীন ছাগলের বদলা শিংওয়ালা ছাগল থেকে নেওয়া হবে।" (সহীহ মুসলিম: ২৫৮২)

সুতরাং, আল্লাহর কাছে বিচার চাওয়া যাবে—এতে কোনো সমস্যা নেই। বরং এটাই ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রকৃত উপায়।


৫. আপনার করণীয়

১. ধৈর্য ধারণ করুন — ধৈর্যের প্রতিদান জান্নাত। ২. ক্ষমা করার চেষ্টা করুন — এটি আপনার জন্য উত্তম। ৩. বদদুয়া থেকে বিরত থাকুন — কারণ এটি আপনার নিজের ক্ষতি করতে পারে। ৪. দোয়া করুন — আল্লাহর কাছে ন্যায়বিচার চান, তবে নিজের জন্য হিদায়াতও চান। ৫. অতীত নিয়ে চিন্তা না করে — আল্লাহর কাছে তওবা করুন এবং সামনের দিকে এগিয়ে যান।


৬. একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া

যে ব্যক্তি আপনার উপর জুলুম করেছে, তার বিরুদ্ধে আপনি এই দোয়াটি পড়তে পারেন:

اللَّهُمَّ إِنِّي أَشْكُو إِلَيْكَ ضَعْفِي وَحِيلَتِي وَهَوَانِي عَلَى النَّاسِ، يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ "হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আমার দুর্বলতা, অসহায়ত্ব এবং মানুষের কাছে আমার অপমানের অভিযোগ পেশ করছি। হে দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু!"


সংক্ষিপ্ত উত্তর

হ্যাঁ, আপনি আল্লাহর কাছে বিচার চাইতে পারেন — এতে কোনো সমস্যা নেই। তবে বদদুয়া দেওয়া থেকে বিরত থাকা উত্তম, কারণ ক্ষমা করলে আপনার জন্য বেশি সওয়াব রয়েছে। আল্লাহ ন্যায়বিচারক, তিনি কিয়ামতের দিন প্রতিটি জুলুমের হিসাব নেবেন।


আল্লাহ তাআলা আপনাকে ধৈর্য ও সাহস দিন, এবং আপনার কষ্ট দূর করুন। আমিন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.