স্বামীর শর্তসাপেক্ষ তালাকের পর স্ত্রীর প্রতিক্রিয়ায় বলা কথা কি তালাক হিসেবে গণ্য হবে?
Waswasa-OCD · Ahle Hadith / Salafi
Question
এই লিংকে আমার বলা কথাগুলো নিয়ে বিস্তারিত উওর দেন নি তাই আবারো জিজ্ঞেস করছি। আমি যে কথাগুলো বলছিলাম এটা স্বামীর নিজের উপর নেওয়া শর্তের উপর অর্থাৎ সে যখন শর্ত নিল আমি ভয়ে বলছিলাম এসব যে যদি বলে মার কথা তখন কি হবে তখন তো তালাক হবে কেন এমন শর্ত নিলা এগুলো ছিল আমার রিয়েকশন তার শর্ত নেওয়ার জন্য এখন আমার রিয়েকশন বলা বাক্য গুলো কি শর্ত তালাক হবে? আমার উপর অধিকার ছিল
আর এখন এসব লেখার জন্য কি তাফবীজ তালাক হবে কোন সমস্যা হবে?
Answer
উত্তর
আপনার প্রশ্নটি মনোযোগ সহকারে পড়লাম। আপনি দুটি বিষয়ে জানতে চেয়েছেন:
১. স্বামী শর্তসাপেক্ষ তালাক দেওয়ার পর আপনার প্রতিক্রিয়ায় বলা কথাগুলো কি শর্তসাপেক্ষ তালাক হিসেবে গণ্য হবে? ২. এখন এই বিষয়ে লেখালেখি করার কারণে কি তালাক হয়ে যাবে?
মূলনীতি
শরিয়তে তালাকের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো—তালাক শুধুমাত্র স্বামীর পক্ষ থেকে ঘোষিত হলেই কার্যকর হয়। স্ত্রীর পক্ষ থেকে তালাকের কোনো ঘোষণা বা প্রতিক্রিয়া তালাক হিসেবে গণ্য হয় না, যতক্ষণ না তা খুলা (স্ত্রীর পক্ষ থেকে বিবাহ বিচ্ছেদের প্রস্তাব) বা অন্যান্য বৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়।
আপনার প্রথম প্রশ্নের উত্তর
আপনি যা বলেছেন—"যদি বলে মার কথা তখন কি হবে, তখন তো তালাক হবে, কেন এমন শর্ত নিলা"—এগুলো ছিল স্বামীর শর্ত নেওয়ার প্রতি আপনার প্রতিক্রিয়া বা আপত্তি। এটি কোনো শর্তসাপেক্ষ তালাক নয়, বরং স্বামীর শর্ত নেওয়ায় আপনার অসন্তোষ ও ভয়ের বহিঃপ্রকাশ।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: তালাকের ইয়াকিন (নিশ্চিততা) ছাড়া সন্দেহের ভিত্তিতে তালাক কার্যকর হয় না। যদি কোনো ব্যক্তি তালাকের নিয়ত না করে এমন কথা বলে যা তালাকের শব্দও নয়, তবে তা তালাক হিসেবে গণ্য হবে না।
আপনার বলা কথাগুলো তালাকের শব্দও নয়, বরং প্রশ্নবাচক ও প্রতিক্রিয়ামূলক বাক্য। তাই এগুলো দ্বারা কোনো তালাক হবে না, ইনশাআল্লাহ।
আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর
এখন এই বিষয়ে লেখালেখি বা প্রশ্ন করার কারণে কোনো তালাক হবে না। তালাক কেবল তখনই হয় যখন স্বামী স্পষ্টভাবে তালাক দেয় বা শর্তসাপেক্ষ তালাকের শর্ত পূরণ হয়। প্রশ্ন করা, জানা বা লেখালেখি করার মাধ্যমে তালাক হয় না।
ওয়াসওয়াসা (সন্দেহপ্রবণতা) সম্পর্কে সতর্কতা
আপনার প্রশ্ন থেকে মনে হচ্ছে আপনি ওয়াসওয়াসায় (শয়তানি কুমন্ত্রণা) ভুগছেন। শাইখ ইবনে উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: তালাকের ব্যাপারে সন্দেহ-সংশয় দূর করার জন্য মূলনীতি হলো—যতক্ষণ না নিশ্চিতভাবে তালাক হওয়া প্রমাণিত হয়, ততক্ষণ বিবাহ বহাল থাকবে। ওয়াসওয়াসাকে গুরুত্ব দেওয়া যাবে না।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের অন্তরে উদিত হওয়া খারাপ চিন্তা (ওয়াসওয়াসা) ক্ষমা করে দেবেন, যতক্ষণ না তারা তা উচ্চারণ করে বা কাজে পরিণত করে।" (সহীহ বুখারী: ৫২৬৯, সহীহ মুসলিম: ১২৭)
সংক্ষিপ্ত উত্তর
১. আপনার প্রতিক্রিয়ায় বলা কথাগুলো দ্বারা কোনো তালাক হয়নি। ২. এখন লেখালেখি বা প্রশ্ন করার কারণে কোনো তালাক হবে না। ৩. আপনার বিবাহ বৈধ ও বহাল রয়েছে। ৪. ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচতে এই বিষয়ে আর চিন্তা না করাই উত্তম।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।