হুরমতে রেজাআত বা দুধ সন্তান সংক্রান্ত মাসআলায় কেউ বলছে পাঁচ চুমুক খেতে হবে, কেউ বলছে একফোঁটা খেলে দুধ সম্পর্ক সাব্যস্ত হবে। কোনটা সঠিক?
Halal and Haram · Hanafi
Question
২) দুধ বোন বিয়ে করার পর সন্তান হয়ে গেলে কি করণীয়,এবং দুধ বোন কি স্ত্রী রাখা যাবে?
Answer
দুধ সন্তান সংক্রান্ত মাসআলা
১. দুধ সম্পর্ক সাব্যস্ত হওয়ার জন্য দুধের পরিমাপ কতটুকু?
- সঠিক সমাধান: হানাফী মাযহাবের চূড়ান্ত ও ফতোয়াযোগ্য মত হলো— দুধ পানের নির্ধারিত সময়ের (আড়াই বছর বা দুই বছর) মধ্যে কোনো শিশু যদি কোনো মহিলার স্তন থেকে সামান্য পরিমাণ দুধও পান করে (চাই তা এক ফোঁটাই হোক না কেন) এবং তা শিশুর কণ্ঠনালীর নিচে পৌঁছে যায়, তবেই দুধ সম্পর্ক সাব্যস্ত হয়ে যাবে।
- মতভেদের ব্যাখ্যা: আপনি যে পৃথক পৃথক পাঁচবার পান করার কথা শুনেছেন, সেটি ইমাম শাফেয়ী (রহ.)-এর মাযহাব। কিন্তু হানাফী ফিকহে এক ফোঁটা দুধ পেটে গেলেও বৈবাহিক সম্পর্ক হারাম হওয়ার মতো 'হুরমতে রাযা’আত' সাব্যস্ত হয়ে যায়। আপনি যেহেতু হানাফী ফিকহের অনুসারী, তাই আপনার জন্য এই 'এক ফোঁটা বা সামান্যতম পরিমাণ' দুধ পানের মতটিই মানা আবশ্যক এবং এটিই নিরাপদ।
সূত্র (কিতাব ও পৃষ্ঠা):
- দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ৩৩০ (দুগ্ধপান অধ্যায়)।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (২য় খণ্ড): পৃষ্ঠা ২২০ (দুগ্ধপান অধ্যায়)।
২. দুধ বোনকে বিয়ে করার পর সন্তান হয়ে গেলে করণীয় কী?
-
বিয়ে বহাল রাখা যাবে কি? না, দুধ বোনকে স্ত্রী হিসেবে রাখা কঠোরভাবে হারাম এবং নাজায়েয। যদি বিয়ের আগে এই তথ্য জানা না থাকে এবং বিয়ের পর দালীলিক প্রমাণের ভিত্তিতে (যেমন দুধ-মায়ের সাক্ষ্য) প্রমাণিত হয় যে তারা দুধ ভাই-বোন, তবে তাদের বিবাহটি 'বাতিল' (Void) বলে গণ্য হবে। এমতাবস্থায় জানার সাথে সাথেই তাদের পরস্পর বিচ্ছিন্ন বা আলাদা হয়ে যাওয়া ফরয। তারা আর একদিনের জন্যও স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একত্রে থাকতে পারবেন না।
-
সন্তানদের নসব বা পরিচয় কী হবে? না জেনে দুধ বোনকে বিয়ে করার পর যে সন্তান জন্ম নিয়েছে, শরী'আতের দৃষ্টিতে সেই সন্তানের নসব (বংশ পরিচয়) পিতার সাথেই সাব্যস্ত হবে। যেহেতু এই মিলনটি ছিল 'শুবা বা ভুলবশত', সেহেতু বাচ্চাদের 'যিনার সন্তান' বলা যাবে না; তারা বৈধ সন্তান হিসেবেই গণ্য হবে এবং পিতার মিরাছ পাবে। তবে সন্তানদের বৈধতার দোহাই দিয়ে মা-বাবার হারাম সম্পর্ক বহাল রাখার কোনো সুযোগ নেই।
সূত্র (কিতাব ও পৃষ্ঠা):
- দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ১৪৭-১৪৮ (মাহরামের বিবরণ) এবং পৃষ্ঠা ১৭৩-১৭৪ (নসব সাব্যস্ত হওয়া)।
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (২য় খণ্ড): পৃষ্ঠা ২২৩ (দুগ্ধপানের কারণে বিবাহ হারাম হওয়া)।
বিশেষ পরামর্শ: যেহেতু এটি একটি অত্যন্ত জটিল ও জীবনঘনিষ্ঠ মাসআলা, তাই আপনি কোন মহিলার দুধ কত বয়সে পান করেছেন এবং আপনার স্ত্রীর সাথে সেই মহিলার সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক কী—তা বিস্তারিত লিখে নির্ভরযোগ্য কোনো বড় মাদ্রাসা বা ফতোয়া বোর্ডে বা মুফতি সাহেবের নিকট সরাসরি যোগাযোগ করুন। তথ্যের সামান্য হেরফেরে ফয়সালা ভিন্ন হতে পারে।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।