ডালে ইদুরের বিষ্ঠা পড়ার ব্যাপারে সন্দেহ হলে করনীয় কি?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 4774
Questioner: sadia nodi
Question Asked: 01 Sep 2026, 08:51 PM
Reviewed & Published: 01 Sep 2026, 09:10 PM
Views: 8
Tokens: 3,111
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
ডাল রান্নার সময়ে ডালের মধ্যে ইদুরের হাগুর মত কিছু একটা দেখেছি পরে সেটি তুলে ফেলে দিয়েছি।একবার মনে হচ্ছে সেটি ইদুরের হাগুই ছিল আবার অন্যকিছুও হতে পারে বলে মনে হচ্ছে। এই ডাল খাওয়া কি উচিত হবে?কেননা ইদুরের হাগু ত নাপাক।

বাচ্চার বয়স ষোল মাস।মাঝেমধ্যে প্রসাব জামায় লাগে।।এই নাপাক কাপড় একবার ধুলে যদি আর নাপাকির চিহ্ন না থাকে তবুও কি ৩বার ধুতে হবে?

Answer

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

আপনার প্রশ্ন দুটির উত্তর নিম্নে প্রদান করা হলো:

প্রশ্ন ১: ডালে ইদুরের বিষ্ঠা পড়ার সন্দেহ

উত্তর: ইসলামী ফিকহের মূলনীতি হলো, কোনো বস্তু নাপাক হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া না গেলে সেটিকে পাক ও হালাল গণ্য করা হবে। শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে কোনো হালাল বস্তুকে হারাম বা নাপাক বলা যাবে না। এটি ফিকহের একটি প্রসিদ্ধ নিয়ম: "اليقين لا يزول بالشك" (সন্দেহের কারণে নিশ্চিত জ্ঞান দূর হয় না)।

যেহেতু আপনি নিশ্চিত নন যে, ডালে যা দেখেছিলেন তা ইদুরের বিষ্ঠাই ছিল, নাকি অন্য কিছু (যেমন: ডালের সাথে লেগে থাকা ময়লা, পাথর বা অন্য কোনো জিনিস), তাই সেই ডাল খাওয়া জায়েজ হবে। আপনি যদি সেটি তুলে ফেলে দিয়ে থাকেন, তাহলে ডালটি পাকই থাকবে এবং তা খাওয়া বৈধ।

তবে, যদি কোনো সময় নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, ডালে ইদুরের বিষ্ঠা পড়েছে এবং তা ডালের সাথে মিশে গেছে, তাহলে সেই ডাল খাওয়া হারাম হবে। কারণ, ইদুরের বিষ্ঠা নাপাক ও নাজিস। সেক্ষেত্রে পুরো ডালটি ফেলে দিতে হবে।

কিতাবের দলিল:

  • আল-হিদায়াহ এবং ফাতাওয়া আলমগীরি-তে উল্লেখ আছে, কোনো পাত্র বা খাবারে নাপাকি পড়েছে কিনা সন্দেহ হলে, তা পাকই গণ্য হবে। (ফাতাওয়া আলমগীরি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৫)
  • রদ্দুল মুহতার (শামী)-এ আছে, নিশ্চিত না হয়ে কেবল সন্দেহের কারণে কোনো বস্তুকে নাপাক বলা যাবে না। (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩১৭)

প্রশ্ন ২: শিশুর প্রস্রাবের কাপড় একবার ধুলে পাক হবে কি?

উত্তর: শিশুর প্রস্রাবের ক্ষেত্রে (ছেলে বা মেয়ে) নাপাকি দূর করার মূল শর্ত হলো, নাপাকির অস্তিত্ব (আইন) দূর হয়ে যাওয়া। নাপাকির চিহ্ন (রং, গন্ধ) না থাকলে কাপড়টি পাক হয়ে যাবে। একবার ধোয়ার মাধ্যমে যদি নাপাকির চিহ্ন সম্পূর্ণ দূর হয়ে যায়, তাহলে কাপড়টি পাক হয়ে যাবে এবং তিনবার ধোয়া জরুরি নয়

তবে, হাদিসে ছেলে শিশুর প্রস্রাবের ব্যাপারে একটি সহজ বিধান আছে। ছেলে শিশুর প্রস্রাব যদি কাপড়ে লাগে এবং তা এখনও শুকিয়ে না যায়, তাহলে পানি ছিটিয়ে দিলেই (নাশ) কাপড় পাক হয়ে যায়। কিন্তু মেয়ে শিশুর প্রস্রাবের ক্ষেত্রে তা ধুয়ে ফেলতে হয়। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৭৬; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৫২৫)

যেহেতু আপনার শিশুর বয়স ১৬ মাস, তাই তার প্রস্রাবের ক্ষেত্রে এই সহজ বিধান (পানি ছিটানো) প্রযোজ্য হবে না, কারণ এই বিধান শুধুমাত্র দুধপানকারী (স্তন্যপায়ী) শিশুর জন্য। ১৬ মাস বয়সী শিশুর প্রস্রাব ধুয়ে ফেলতে হবে।

আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর: একবার ভালোভাবে ধোয়ার পর যদি নাপাকির কোনো চিহ্ন (গন্ধ, রং) না থাকে, তাহলে কাপড়টি পাক হয়ে যাবে। তিনবার ধোয়া জরুরি নয়। তবে, নাপাকির চিহ্ন দূর না হওয়া পর্যন্ত যতবার প্রয়োজন ততবার ধুতে হবে। চিহ্ন দূর হলেই কাপড় পাক।

কিতাবের দলিল:

  • রদ্দুল মুহতার (শামী)-এ উল্লেখ আছে, নাপাকি দূর করার জন্য মূল শর্ত হলো নাপাকির অস্তিত্ব দূর করা। চিহ্ন দূর হয়ে গেলে পবিত্রতা অর্জিত হয়। (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৩২)
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরি)-তেও বলা হয়েছে, নাপাক কাপড় ধোয়ার পর যদি নাপাকির চিহ্ন না থাকে, তাহলে তা পাক। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৫)

সারসংক্ষেপ: ১. ডালে ইদুরের বিষ্ঠা পড়ার ব্যাপারে নিশ্চিত না হলে, ডালটি খাওয়া জায়েজ। ২. শিশুর নাপাক কাপড় একবার ধুলে যদি চিহ্ন না থাকে, তাহলে পাক হয়ে যাবে, তিনবার ধোয়া জরুরি নয়।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.