মসজিদে ইচ্ছাকৃতভাবে পিছনের কাতারে দাঁড়ানো সম্পর্কে ইসলামী বিধান কী?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
Answer
মসজিদে ইচ্ছাকৃতভাবে পিছনের কাতারে দাঁড়ানো প্রসঙ্গে
উত্তর
মসজিদে ইচ্ছাকৃতভাবে পিছনের কাতারে দাঁড়ানো সম্পর্কে ইসলামী বিধান হলো:
**প্রয়োজন ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে পিছনের কাতারে দাঁড়ানো মাকরূহ এবং গুনাহ, বিশেষত যখন সামনের কাতারে স্থান খালি থাকে।
দলিল ও ব্যাখ্যা
১. কুরআন ও হাদীসের নির্দেশনা
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَتِمُّوا الصُّفُوفَ الْمُقَدَّمَةَ ثُمَّ الَّتِي تَلِيهَا
"তোমরা সামনের কাতারগুলো পূর্ণ কর, অতঃপর পরবর্তী কাতারগুলো।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস: ৬৭১)
আরেকটি হাদীসে এসেছে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ يَعْلَمُ النَّاسُ مَا فِي النِّدَاءِ وَالصَّفِّ الْأَوَّلِ ثُمَّ لَمْ يَجِدُوا إِلَّا أَنْ يَسْتَهِمُوا عَلَيْهِ لَاسْتَهَمُوا
"লোকেরা যদি জানত আযান ও প্রথম কাতারে কী সওয়াব রয়েছে, তাহলে তারা এ জন্য লটারি করা ছাড়া আর কোনো উপায় পেত না।" (সহীহ বুখারী, হাদীস: ৬১৫)
২. হানাফী ফিকহের দৃষ্টিভঙ্গি
ফাতাওয়া আলমগীরী (১/৮০) তে উল্লেখ আছে:
"যদি কেউ সামনের কাতারে স্থান খালি থাকা সত্ত্বেও পিছনের কাতারে দাঁড়ায়, তবে তা মাকরূহ। কেননা রাসূলুল্লাহ (সা.) সামনের কাতার পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।"
রদ্দুল মুহতার (শামী) (১/৫৬৫) তে ইবনে আবিদীন (রহ.) উল্লেখ করেছেন:
"সামনের কাতার খালি থাকা সত্ত্বেও পিছনের কাতারে দাঁড়ানো মাকরূহে তানযীহি। কারণ এতে সুন্নাতের খিলাফ হয় এবং প্রথম কাতারের ফযীলত থেকে বঞ্চিত হওয়া হয়।"
৩. প্রয়োজন সাপেক্ষে পিছনের কাতারে দাঁড়ানো
যদি কারো প্রয়োজন থাকে (যেমন: অসুস্থতা, দুর্বলতা, বৃদ্ধ বয়স, বা অন্য কোনো বৈধ কারণে), তাহলে পিছনের কাতারে দাঁড়ানো জায়েয এবং এতে কোনো গুনাহ নেই। যেমন:
- অসুস্থ ব্যক্তি যার পক্ষে সামনের দিকে যাওয়া কষ্টকর
- বৃদ্ধ ব্যক্তি
- মুক্তাদীদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সামনের কাতারে স্থান না পাওয়া
- মসজিদে প্রবেশের সময় সামনের কাতারে পৌঁছানো সম্ভব না হওয়া
ফাতাওয়া উসমানী (১/২৮০) তে উল্লেখ আছে:
"যদি কোনো বৈধ কারণে কেউ পিছনের কাতারে দাঁড়ায়, তবে তাতে কোনো দোষ নেই। কারণ শরীয়তের মূলনীতি হলো—কষ্ট ও অসুবিধা দূর করা।"
৪. ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদের মত
ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) এবং ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, সামনের কাতার খালি থাকা সত্ত্বেও পিছনের কাতারে দাঁড়ানো মাকরূহ। তবে ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে, যদি কেউ পিছনের কাতারে দাঁড়ায় এবং তাতে মুক্তাদীদের কোনো ক্ষতি না হয়, তবে তা জায়েয, তবে প্রথম কাতারের ফযীলত থেকে বঞ্চিত হবে।
আল-হিদায়া (১/৮২) তে উল্লেখ আছে:
"সামনের কাতার পূর্ণ করা মুস্তাহাব। যদি কেউ সামনের কাতার খালি রেখে পিছনে দাঁড়ায়, তবে সে সুন্নাত ত্যাগ করল এবং প্রথম কাতারের ফযীলত থেকে বঞ্চিত হলো।"
সারসংক্ষেপ
| অবস্থা | বিধান | |--------|--------| | প্রয়োজন ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে পিছনের কাতারে দাঁড়ানো | মাকরূহে তানযীহি (ছগিরা গুনাহ) | | প্রয়োজন সাপেক্ষে পিছনের কাতারে দাঁড়ানো | জায়েয, কোনো গুনাহ নেই | | সামনের কাতারে স্থান না থাকায় পিছনে দাঁড়ানো | জায়েয, কোনো গুনাহ নেই |
উপসংহার
সুতরাং প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়—যদি কেউ প্রয়োজন ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে সামনের কাতার খালি রেখে পিছনের কাতারে দাঁড়ায়, তবে তা মাকরূহ এবং গুনাহ হবে। কিন্তু যদি প্রয়োজনে (অসুস্থতা, দুর্বলতা, স্থান সংকুলান না হওয়া ইত্যাদি) পিছনের কাতারে দাঁড়ায়, তবে কোনো গুনাহ হবে না।