ইস্তেহাজা নাকি হায়েজ

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 4632
Questioner: Taslima Islam
Question Asked: 30 Aug 2026, 12:45 PM
Reviewed & Published: 30 Aug 2026, 12:48 PM
Views: 8
Tokens: 4,064
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আগস্টের ১৩ তারিখ হালকা লাল রঙের স্রাব দেখা গেছে এভাবে ৬ দিন পর্যন্ত মানে ১৮ তারিখ পর্যন্ত গেছে। এখন আবার আগস্টের ২৭ তারিখ থেকে ব্রিডিং শুরু হয়েছে হয়েজ অবস্থায় যেমন হয় ঠিক তেমন। ২৯ তারিখ থেকে প্রচন্ড পেইন হচ্ছে যেটা মাঝে মঝে হয়েজ অবস্থা হয়ে থাকে এবং দুর্গন্ধ যুক্ত ব্রিডিং হচ্ছে প্রচুর।যেটা আমার অন্যান্য হয়েজ অবস্থা হয়ে থাকে। আমি নিশ্চিত হতে চাচ্ছি এটা হায়েজ নাকি ইস্তেহাজা।যেহেতু মাঝে ১৫ দিন গ্যাপ হয় নি।

Answer

ইস্তেহাজা নাকি হায়েজ — বিস্তারিত ফিকহী বিশ্লেষণ

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

আগস্টের ১৩ তারিখ হালকা লাল রঙের স্রাব শুরু হয়ে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত ৬ দিন চলেছে। এরপর ২৭ আগস্ট থেকে আবার রক্তস্রাব শুরু হয়েছে যা হায়েজের মতোই (প্রচণ্ড ব্যথা, দুর্গন্ধসহ)। প্রশ্নকারিণী জানতে চান— এটি হায়েজ নাকি ইস্তেহাজা? বিশেষত, যেহেতু দুই স্রাবের মাঝে ১৫ দিনের পবিত্রতার ব্যবধান (তুহর) পূর্ণ হয়নি।


হানাফী ফিকহের মূলনীতি

১. হায়েজের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সময়সীমা

হানাফী মাযহাব অনুযায়ী:

| বিষয় | সময়সীমা | |-------|----------| | হায়েজের সর্বনিম্ন সময় | ৩ দিন (৭২ ঘণ্টা) | | হায়েজের সর্বোচ্চ সময় | ১০ দিন | | তুহর (পবিত্রতার) সর্বনিম্ন সময় | ১৫ দিন | | নিফাসের সর্বোচ্চ সময় | ৪০ দিন |

উৎস: আল-হিদায়াহ, ১/৩০; রদ্দুল মুহতার, ১/২৮০-২৮৫

২. ইস্তেহাজা কী?

ইস্তেহাজা হলো এমন রক্তস্রাব যা হায়েজের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের বাইরে হয়। এটি রোগজনিত স্রাব, যা নামাজ, রোজা ইত্যাদি ইবাদতের ক্ষেত্রে হায়েজের মতো নয় বরং নাক দিয়ে রক্ত পড়ার মতোই গণ্য।

উৎস: ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/৩৬; বাহিশতী যেওয়ার, ১/৫২


প্রশ্নের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ

প্রথম স্রাব: ১৩-১৮ আগস্ট (৬ দিন)

  • এটি ৩ দিনের কম নয়, ১০ দিনের বেশি নয়
  • তাই এটি হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে

দ্বিতীয় স্রাব: ২৭ আগস্ট থেকে শুরু

  • প্রথম স্রাব শেষ হওয়ার পর (১৮ আগস্ট) থেকে দ্বিতীয় স্রাব শুরু হওয়ার (২৭ আগস্ট) আগ পর্যন্ত সময় = ৯ দিন
  • হানাফী মাযহাবে দুই হায়েজের মাঝে সর্বনিম্ন পবিত্রতার সময় (তুহর) = ১৫ দিন
  • এখানে পবিত্রতার ব্যবধান মাত্র ৯ দিন, যা ১৫ দিনের কম

হানাফী মাযহাবের বিধান

যখন দুই স্রাবের মাঝে ১৫ দিনের কম ব্যবধান থাকে:

যদি কোনো নারীর প্রথম স্রাব হায়েজ হিসেবে গণ্য হয় (৩-১০ দিনের মধ্যে), এবং এরপর ১৫ দিনের কম সময় পবিত্র থাকার পর আবার রক্ত আসে, তাহলে:

দ্বিতীয় স্রাবটি হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে না, বরং ইস্তেহাজা হিসেবে গণ্য হবে।

কারণ, হানাফী মাযহাব অনুযায়ী, দুই হায়েজের মাঝে কমপক্ষে ১৫ দিন পবিত্রতা (তুহর) থাকা আবশ্যক। যদি ১৫ দিনের কম হয়, তাহলে দ্বিতীয় স্রাবটি হায়েজ নয়, ইস্তেহাজা।

উৎস: রদ্দুল মুহতার, ১/২৮৫; ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/৩৭; ফাতাওয়া উসমানী, ১/২৩৪

ইমাম আবু হানীফা (রহঃ)-এর মত:

"إذا جاوز الدم أكثر الحيض في العادة فمتى رأت دما بعد خمسة عشر يوما فهو حيض، وإن كان أقل من ذلك فهو استحاضة"

"যখন রক্ত অভ্যাসের চেয়ে বেশি হয়, তখন যদি ১৫ দিন পর রক্ত দেখে তবে তা হায়েজ, আর যদি এর কম হয় তবে তা ইস্তেহাজা।"

উৎস: শরহু মা'আনিল আসার, ১/১০৮; আল-মাবসুত, ৩/১৮


আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান

প্রথম স্রাব (১৩-১৮ আগস্ট): হায়েজ

  • সময়কাল: ৬ দিন
  • এটি ৩-১০ দিনের মধ্যে হওয়ায় হায়েজ গণ্য হবে
  • এই ৬ দিনের নামাজ, রোজা ইত্যাদি বাদ থাকবে

দ্বিতীয় স্রাব (২৭ আগস্ট থেকে): ইস্তেহাজা

  • প্রথম হায়েজ শেষ (১৮ আগস্ট) থেকে দ্বিতীয় স্রাব শুরু (২৭ আগস্ট) = ৯ দিন ব্যবধান
  • যেহেতু ১৫ দিনের কম, তাই এটি ইস্তেহাজা গণ্য হবে
  • এই সময়ে নামাজ, রোজা ইত্যাদি ইবাদত করতে হবে
  • প্রত্যেক নামাজের জন্য নতুন করে ওযু করতে হবে
  • রক্তের কারণে নামাজ বাতিল হবে না

ইস্তেহাজা অবস্থায় করণীয়

ইস্তেহাজা অবস্থায় নারীর জন্য:

  1. নামাজ: প্রত্যেক ফরজ নামাজের সময় হলে ওযু করে নামাজ পড়তে হবে। প্রত্যেক নামাজের জন্য আলাদা ওযু করতে হবে।
  2. রোজা: রোজা রাখা যাবে এবং তা সহীহ হবে।
  3. কুরআন তিলাওয়াত: করা যাবে।
  4. মসজিদে যাওয়া: যাওয়া যাবে।
  5. স্বামীর সাথে সহবাস: করা যাবে।

উৎস: বাহিশতী যেওয়ার, ১/৫২-৫৩; ফাতাওয়া উসমানী, ১/২৩৫


গুরুত্বপূর্ণ নোট

১. যদি দ্বিতীয় স্রাবটি ১৫ দিনের বেশি চলতে থাকে এবং প্রথম স্রাবের সাথে মিলিয়ে ১৫ দিনের কম পবিত্রতা থাকে, তাহলে পুরো সময়টাই ইস্তেহাজা হিসেবে গণ্য হবে।

২. যদি কোনো মাসে প্রথম স্রাবই না হয় (যেমন প্রশ্নে উল্লেখ আছে "মাঝে ১৫ দিন গ্যাপ হয় নি"), তাহলে সেটি ভিন্ন নিয়মে গণ্য হবে। তবে আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথম স্রাবটি হায়েজ ছিল এবং দ্বিতীয়টি ইস্তেহাজা।

৩. ভবিষ্যতে যদি ১৫ দিন পবিত্র থাকার পর রক্ত আসে, তাহলে সেটি নতুন হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে।


সংক্ষিপ্ত উত্তর

আপনার প্রথম স্রাব (১৩-১৮ আগস্ট) হায়েজ ছিল। দ্বিতীয় স্রাব (২৭ আগস্ট থেকে) ইস্তেহাজা, কারণ দুই স্রাবের মাঝে ১৫ দিনের পবিত্রতার ব্যবধান পূর্ণ হয়নি।

ইস্তেহাজা অবস্থায় নামাজ, রোজা, কুরআন তিলাওয়াত—সব ইবাদত করতে হবে। শুধু প্রত্যেক নামাজের জন্য নতুন ওযু করতে হবে।


উল্লেখ্য: এই ফতোয়া হানাফী মাযহাবের মূলনীতি অনুযায়ী প্রদত্ত। ব্যক্তিগত অবস্থার ভিন্নতার কারণে কোনো স্থানীয় মুফতির কাছ থেকে সরাসরি পরামর্শ নেওয়া উত্তম।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.