হারাম অর্থ দিয়ে কেনা পণ্য এর বিধান কি?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 4628
Questioner: Rayhan Kamal
Question Asked: 30 Aug 2026, 11:32 AM
Reviewed & Published: 30 Aug 2026, 11:44 AM
Views: 7
Tokens: 3,766
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম,
আমার অনেক আগে একটি গিটার ছিল, গান বাজনা বন্ধ করে দেওয়ার পর সেটি বিক্রি করে দেই, যদিও উচিত ছিল ফেলে দেওয়া। পরবর্তীতে সেই টাকা দিয়ে কম্পিউটার এর জন্য একটি মাউস কিনি। মাউসটি অনেকদিন ব্যবহার করা হয়েছে কিন্তু হঠাৎ মনে পড়ল কাফফারা দেওয়া হয়নি। এখন আমি যদি মাউসটি ব্যবহার না করে ফেলে দেই তাহলে কি কাফফরা দিতে হবে? (উল্লেখ্য যে মাউসটি নষ্ট হওয়ায় ফেলে দিচ্ছি বিষয়টা এমন নয়, এটা আরও ২-৩ বছর চলবে, কিন্তু যেহেতু হারাম টাকায় কেনা তাই ফেলে দিতে চাচ্ছি)
জাযাকাল্লাহু খাইরান

Answer

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী, আপনি একটি গিটার (বাজনা) বিক্রি করে যে টাকা পেয়েছিলেন, তা দিয়ে একটি মাউস কিনেছেন। এখন সেই মাউসটি ব্যবহার না করে ফেলে দিলে কাফফারা দিতে হবে কি না—এ বিষয়ে জানতে চেয়েছেন।

উত্তর:

প্রথমত, জেনে রাখা জরুরি যে, গিটার বা বাদ্যযন্ত্র (মাযহাবের নির্ভরযোগ্য মত অনুযায়ী) বিক্রি করা বৈধ নয়। কারণ, বাদ্যযন্ত্র তৈরি, বিক্রি এবং ব্যবহার করা হারাম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ بَيْعَ الْخَمْرِ وَالْمَيْتَةَ وَالْخِنْزِيرَ وَالْأَصْنَامَ “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মদ, মৃত প্রাণী, শূকর এবং মূর্তি বিক্রি হারাম করেছেন।” (সহীহ বুখারী: ২২৩৬)

বাদ্যযন্ত্রও এই হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। তাই গিটার বিক্রি করা এবং তার মূল্য গ্রহণ করা হারাম। আপনি যখন গিটার বিক্রি করেছেন, তখন সেই টাকা আপনার কাছে হারাম (নাজিস) হিসেবে গণ্য হয়েছে।

এখন সেই হারাম টাকা দিয়ে মাউস কেনার পর করণীয় কী?

আপনি যে মাউসটি হারাম টাকায় কিনেছেন, সেটি আপনার মালিকানায় বৈধভাবে আসেনি। বরং সেটি এখনো হারাম টাকারই অংশ হিসেবে গণ্য। তাই এই মাউসটি ব্যবহার করা আপনার জন্য বৈধ নয়। তবে এটি ফেলে দেওয়া জরুরি নয়; বরং এটি ফেলে দেওয়ার চেয়ে উত্তম হলো, সেটিকে এমন কাউকে দান করে দেওয়া বা কোনো গরিব-মিসকিনকে দিয়ে দেওয়া যাতে সে এটি ব্যবহার করতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, এর বিনিময়ে কোনো মূল্য নেওয়া যাবে না এবং এটি নিজে ব্যবহার করা যাবে না।

কাফফারা দিতে হবে কি?

এখানে কাফফারা (শরীয়তের নির্ধারিত জরিমানা) দেওয়ার বিষয়টি প্রযোজ্য নয়। কারণ, কাফফারা সাধারণত নির্দিষ্ট কিছু অপরাধের (যেমন: ভুলে রোজা ভঙ্গ করা, জিহার করা, ইহরাম অবস্থায় শিকার করা ইত্যাদি) জন্য নির্ধারিত। হারাম টাকা দিয়ে কিছু কেনার কারণে কাফফারা দিতে হয় না। বরং করণীয় হলো:

১. হারাম টাকার পরিমাণ (যে টাকা দিয়ে মাউস কেনা হয়েছে) নিজের মাল থেকে আলাদা করে ফেলা। ২. সেই টাকা বা সেই টাকার সমমূল্যের জিনিস (এখানে মাউসটি) গরিব-মিসকিনকে সদকা করে দেওয়া। ৩. তওবা-ইস্তিগফার করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা।

মাউসটি ফেলে দেওয়ার পরিবর্তে করণীয়:

যেহেতু মাউসটি এখনো ব্যবহারযোগ্য, তাই এটি ফেলে দেওয়া উচিত নয়। বরং এটি কোনো গরিব বা অভাবী ব্যক্তিকে দান করে দিন। এতে আপনার দায়িত্ব শেষ হয়ে যাবে এবং আপনি হারাম মাল থেকে মুক্তি পাবেন। যদি আপনি এটি ফেলে দেন, সেটি আপনার জন্য উচিত হবেনা, কারণ এটি নষ্ট করা সম্পদের অপচয় (ইসরাফ) হবে, যা ইসলামে নিন্দনীয়।

রেফারেন্স:

১. আল-হিদায়াহ (ফিকহুল ইসলাম): বাদ্যযন্ত্র বিক্রি হারাম এবং এর মূল্য গ্রহণ করা বৈধ নয়। (কিতাবুল বুয়ু, ফাসাদুল বাই)

২. রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন) :

وَلَوْ أَخَذَ ثَمَنَ الْخَمْرِ أَوْ الْخِنْزِيرِ أَوْ الْأَوْتَارِ يَجِبُ أَنْ يَتَصَدَّقَ بِهِ عَلَى الْفُقَرَاءِ “যদি কেউ মদ, শূকর বা বাদ্যযন্ত্রের মূল্য গ্রহণ করে, তবে তা গরিবদের সদকা করা ওয়াজিব।” (রদ্দুল মুহতার, ৬/৪২৫)

৩. ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরি) :

مَنْ كَسَبَ مَالًا مِنْ حَرَامٍ ثُمَّ اشْتَرَى بِهِ شَيْئًا فَإِنَّهُ يَجِبُ عَلَيْهِ أَنْ يَتَصَدَّقَ بِقَدْرِ ذَلِكَ الْمَالِ عَلَى الْفُقَرَاءِ “যে ব্যক্তি হারাম উপায়ে অর্থ উপার্জন করে তা দিয়ে কিছু ক্রয় করে, তার ওপর ওই অর্থের পরিমাণ গরিবদের সদকা করা ওয়াজিব।” (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩৫৪)

৪. ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি) : হারাম টাকা দিয়ে কেনা জিনিস নিজে ব্যবহার করা বৈধ নয়; বরং তা গরিবকে দান করে দিতে হবে।

সারসংক্ষেপ:

  • গিটার বিক্রির টাকা হারাম ছিল।
  • সেই হারাম টাকায় কেনা মাউসটি আপনার জন্য ব্যবহার করা বৈধ নয়।
  • মাউসটি ফেলে দেওয়া জরুরি নয়; বরং এটি কোনো গরিব-মিসকিনকে দান করে দিন।
  • কাফফারা দিতে হবে না; বরং তওবা করতে হবে এবং হারাম টাকার পরিমাণ সদকা করতে হবে।
  • ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা জরুরি।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হালাল রিজিকের তাওফিক দিন এবং হারাম থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

জাযাকাল্লাহু খাইরান


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.