দুলহান তেল ব্যবহার করা কি জায়েয

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 4584
Questioner: Nusaiba Jannat Nuha
Question Asked: 28 Aug 2026, 07:43 PM
Reviewed & Published: 28 Aug 2026, 08:42 PM
Views: 35
Tokens: 3,174
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার নিয়ত চুল পড়া কমবে। স্বাস্থ্য ভালো থাকবে
আমার এটা নিয়ত নয় যে চুল কালার করা
আমি যে হেয়ার প্যাক এর কথা বলতেছি এটার নাম দুলহান
আমি জানতে চাচ্ছি এটা নিয়ে কি আমাদের নামাজ ওযু হবে।
এটি ব্যবহার কেউ যদি সাদা চুলে করে তাহলে এটি এটি চুল কালো করে দেয়।
সেক্ষেত্রে আমার নিয়ত তো ভিন্ন
তাহলে কি আমার নামাজ হবে

Answer

চুল কালার করা ও নামাজ-ওযুর বিধান

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ: প্রশ্নকারিণী জানতে চাচ্ছেন যে, "দুলহান" নামক হেয়ার প্যাক ব্যবহার করলে যা চুল কালো করে দেয়, কিন্তু তার নিয়ত চুল পড়া কমানো ও স্বাস্থ্য ভালো রাখা—তাহলে তার নামাজ ও ওযু হবে কি না?


উত্তর

আলহামদুলিল্লাহ, আপনার প্রশ্নের উত্তর নিম্নরূপ:

১. ওযু ও নামাজের ক্ষেত্রে বিধান

ওযু ও নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য চুলে ব্যবহৃত কোনো প্রসাধনী বা রং বাধা সৃষ্টি করে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তা পানিকে চুলের মূল বা ত্বকে পৌঁছাতে বাধা দেয় না। হেয়ার প্যাক বা চুলের রং সাধারণত চুলের উপরিভাগে প্রলেপের মতো থাকে এবং পানিকে চুলের গোড়ায় পৌঁছাতে বাধা দেয় না। তাই আপনার ওযু ও নামাজ শুদ্ধ হবে ইনশাআল্লাহ

২. চুল কালো করা সংক্রান্ত বিধান

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চুল কালো করা সম্পর্কে নিষেধ করেছেন। হাদিসে এসেছে:

عَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه قَالَ: أُتِيَ بِأَبِي قُحَافَةَ يَوْمَ الْفَتْحِ وَرَأْسُهُ وَلِحْيَتُهُ مِثْلُ الثَّغَامَةِ بَيَاضًا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «غَيِّرُوا هَذَا بِشَيْءٍ وَاجْتَنِبُوا السَّوَادَ»

"জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, বিজয় দিবসে আবু কুহাফাকে (আবু বকর রাঃ-এর পিতা) আনা হলো, তার মাথা ও দাড়ি তালগাছের সাদা ফুলের মতো সাদা ছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: 'এটাকে কিছু দিয়ে পরিবর্তন করো, তবে কালো রং ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকো।'" (সহীহ মুসলিম: ২১০২)

এই হাদিসের ভিত্তিতে ফকিহগণ বলেছেন, চুল কালো করা মাকরূহ (অপছন্দনীয়) — বিশেষত যুদ্ধ বা প্রতারণার উদ্দেশ্যে নয় এমন ক্ষেত্রে। তবে যদি কারো নিয়ত চুল কালো করা না হয়, বরং অন্য কোনো বৈধ উদ্দেশ্য থাকে (যেমন চুল পড়া রোধ বা স্বাস্থ্য সুরক্ষা), তাহলে সেটি ভিন্ন বিবেচনা করা হবে।

৩. আপনার নিয়তের গুরুত্ব

আপনি বলেছেন যে, আপনার নিয়ত চুল পড়া কমানো ও স্বাস্থ্য ভালো রাখা—চুল কালো করা নয়। ইসলামে নিয়তের গুরুত্ব অপরিসীম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ

"নিশ্চয়ই সকল কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল।" (সহীহ বুখারী: ১, সহীহ মুসলিম: ১৯০৭)

তাই আপনার নিয়ত যদি চুল পড়া রোধ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা হয়, তাহলে আপনি গুনাহগার হবেন না, ইনশাআল্লাহ। তবে যদি প্যাকটি ব্যবহারের ফলে চুল কালো হয়ে যায় এবং তা দেখতে অন্যরা মনে করে আপনি চুল কালো করেছেন, তাহলে যেহেতু আপনার নিয়ত বৈধ, তাই এটি মাকরূহের আওতায় পড়বে না।

৪. ইমাম আবু হানিফা (রহঃ)-এর মত

ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) সহ হানাফি ফকিহগণ চুল কালো করাকে মাকরূহে তানযিহি (অপছন্দনীয়) বলেছেন, তবে হারাম নয়। যদি কোনো বৈধ উদ্দেশ্যে (যেমন স্বাস্থ্যগত কারণে) ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা জায়েয।

৫. ওযু সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

ওযু শুদ্ধ হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত হলো—পানি শরীরের ঐ সকল অঙ্গে পৌঁছানো যা ধোয়া ফরজ। চুলের রং বা প্যাক যদি এমন কিছু হয় যা পানির পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করে (যেমন: নখের পলিশ, আঠালো কিছু), তাহলে সেটি ওযুর ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করবে। কিন্তু সাধারণ হেয়ার প্যাক বা রং চুলের উপরিভাগে থাকে এবং পানিকে চুলের গোড়া ও মাথার ত্বকে পৌঁছাতে বাধা দেয় না। তাই আপনার ওযু শুদ্ধ হবে


সংক্ষিপ্ত উত্তর

| বিষয় | বিধান | |-------|--------| | ওযু | শুদ্ধ হবে (যেহেতু পানি চুলের গোড়ায় পৌঁছায়) | | নামাজ | শুদ্ধ হবে | | চুল কালো করা (নিয়ত না থাকলে) | মাকরূহ নয়, কারণ নিয়ত বৈধ | | চুল কালো করা (শুধু সৌন্দর্যের জন্য) | মাকরূহে তানযিহি (অপছন্দনীয়) |


উপসংহার

আপনার নিয়ত যেহেতু চুল পড়া কমানো ও স্বাস্থ্য ভালো রাখা—চুল কালো করা নয়, তাই আপনার নামাজ ও ওযু শুদ্ধ হবে এবং আপনি গুনাহগার হবেন না, ইনশাআল্লাহ। তবে যদি সম্ভব হয়, এমন প্যাক ব্যবহার করার চেষ্টা করুন যা চুল কালো করে না, অথবা চুল কালো করার বিষয়টি এড়িয়ে চলুন।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


সূত্র: সহীহ মুসলিম: ২১০২; সহীহ বুখারী: ১; রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), ৬তম খণ্ড, ৩৬৪-৩৬৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫ম খণ্ড, ৩৫৮; বাহিশ্তি জেওয়ার (আশরাফ আলী থানভী), ১ম খণ্ড, ৪২-৪৩


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.