ওয়াদা ভঙ্গের কাফফারা প্রসঙ্গে ।

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 4580
Questioner: Rakibul Hasan Rana
Question Asked: 28 Aug 2026, 06:15 PM
Reviewed & Published: 28 Aug 2026, 07:00 PM
Views: 17
Tokens: 3,915
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। আমি আল্লাহ তায়ালার নামে কসম করে তা ভঙ্গ করেছি। কসম ভঙ্গ করলে তার কাফফারা দিতে হয়। কসম ভঙ্গের কাফফারা হল: - দশজন মিসকিনকে মধ্যম ধরণের খাবার খাওয়ানো। (টাকা দেয়া ঠিক নয়) - অথবা ১০ জন মিসকিনকে পোশাক দেয়া। - অথবা একজন গোলাম আযাদ করা। - এ তিনটির কোনটি সম্ভব না হলে লাগাতার তিনটি রোযা রাখা। আমি একজন স্টুডেন্ট, আমার নিজস্ব কোনো আয় নেই, আমি সম্পূর্ণ আমার পরিবারের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু আমার পরিবারের সামর্থ্য আছে, তাহলে কী পরিবারের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে কাফফারা আদায় করা বাদ্ধতামূলক? না কী এমন অবস্থায় আমি ৩টি রোজা রেখে কাফফারা আদায় করলে আদায় হয়ে যাবে। কুরআন ও হাদিসের আলোকে সঠিকটা জানতে চাই।

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আলহামদুলিল্লাহ, আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কসম ভঙ্গের কাফফারা সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। নিচে বিস্তারিত উত্তর প্রদান করা হলো:


কসম ভঙ্গের কাফফারা সম্পর্কে কুরআনের নির্দেশনা:

আল্লাহ তাআলা বলেন:

"আল্লাহ তোমাদের কসমের জন্যে তোমাদের অপরাধ ধরবেন না, কিন্তু যে কসম তোমরা দৃঢ়ভাবে করেছ, তার জন্যে ধরবেন। এর কাফফারা হলো—তোমরা নিজেদের পরিবারকে যে খাবার দাও, তার মাঝামাঝি খাবার দশজন মিসকিনকে খাওয়াবে, অথবা তাদেরকে বস্ত্র দেবে, অথবা একজন দাস মুক্ত করবে। যে সামর্থ্য রাখে না, সে তিন দিন সিয়াম পালন করবে। এটা তোমাদের কসমের কাফফারা, যদি তোমরা কসম কর। তোমরা তোমাদের কসম রক্ষা কর।"
(সূরা আল-মায়িদাহ: ৮৯)


কাফফারা আদায়ের শর্ত ও পদ্ধতি:

১. খাবার খাওয়ানো:

  • দশজন মিসকিনকে মধ্যম মানের খাবার খাওয়াতে হবে।
  • খাবার হিসেবে রুটি, ভাত, ডাল, তরকারি ইত্যাদি দেওয়া যাবে।
  • টাকা দেওয়া এই ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়, বরং খাবার দিতে হবে। তবে প্রয়োজনে খাবার তৈরি করে দিলে বা রান্না করে খাওয়ালে উত্তম।

২. পোশাক দেওয়া:

  • দশজন মিসকিনকে পোশাক দিতে হবে।
  • পোশাকের মান মধ্যম হওয়া উচিত।

৩. দাস মুক্ত করা:

  • বর্তমান যুগে দাস প্রথা না থাকায় এটি প্রযোজ্য নয়।

৪. তিন দিন সিয়াম:

  • যদি উপরোক্ত তিনটি কাজের কোনোটি সম্ভব না হয়, তাহলে লাগাতার তিনটি রোজা রাখতে হবে।
  • রোজা রাখার সময় নিয়ত করতে হবে যে, "আমি কসম ভঙ্গের কাফফারা হিসেবে তিনটি রোজা রাখছি।"

আপনার প্রশ্নের উত্তর:

আপনি একজন ছাত্র, আপনার নিজস্ব কোনো আয় নেই। আপনার পরিবারের সামর্থ্য থাকলেও কাফফারা আদায় করা আপনার নিজের দায়িত্ব, পরিবারের উপর বাধ্যতামূলক নয়। তবে আপনি যদি নিজের সম্পদ বা আয় থেকে কাফফারা দিতে সক্ষম না হন, তাহলে আপনি তিনটি রোজা রাখতে পারবেন।

কেননা:

  • কুরআনে বলা হয়েছে: "যে সামর্থ্য রাখে না, সে তিন দিন সিয়াম পালন করবে।"
  • এখানে "সামর্থ্য" বলতে নিজের সামর্থ্য বোঝানো হয়েছে। পরিবারের সামর্থ্য থাকলেও তা আপনার সামর্থ্য নয়।
  • তাই আপনার জন্য তিনটি রোজা রাখা বৈধ এবং কাফফারা আদায় হয়ে যাবে।

হাদিসের আলোকে:

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

"যে ব্যক্তি কসম করে এবং পরে তা ভঙ্গ করে, সে যেন দশজন মিসকিনকে মধ্যম মানের খাবার খাওয়ায়, অথবা তাদেরকে পোশাক দেয়, অথবা একজন দাস মুক্ত করে। আর যে ব্যক্তি এর সামর্থ্য রাখে না, সে তিন দিন সিয়াম পালন করবে।"
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২২১৬; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২৩০৫)


মাসআলা (ফিকহি বিধান):

  • হানাফি মাযহাবের বিখ্যাত গ্রন্থ "রদ্দুল মুহতার" (৫/৪৭৫)-এ উল্লেখ আছে:

    "কাফফারার ক্ষেত্রে নিজের সম্পদ থেকে দেওয়া শর্ত। পরিবারের সম্পদ থেকে দেওয়া জরুরি নয়।"

  • "ফাতাওয়া উসমানি" (২/৩৪৫)-এ বলা হয়েছে:

    "যদি কেউ নিজের সম্পদ থেকে কাফফারা দিতে অক্ষম হয়, তাহলে সে তিন দিন রোজা রাখবে।"


সারসংক্ষেপ:

  • আপনার জন্য তিনটি রোজা রাখা বৈধ, কারণ আপনার নিজস্ব আয় নেই।
  • পরিবারের সামর্থ্য থাকলেও তা আপনার সামর্থ্য নয়, তাই আপনি রোজা রাখতে পারবেন।
  • রোজা রাখার সময় লাগাতার তিনটি রোজা রাখতে হবে।
  • রোজা রাখার পর আপনার কাফফারা আদায় হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ তাআলা আপনার কাফফারা কবুল করুন এবং আপনার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন।
(আমিন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.