বীর্য বের হওয়ার পর গোসল করে নামাযে দাড়ালে লজ্জাস্থানে তরল পদার্থ বের হওয়ার অনুভব হলে, এবং নামায পরবর্তী কাপড়ে আটালো কিছু দেখতে পেলে করণীয় কি?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 4572
Questioner: Shohan Sheikh
Question Asked: 28 Aug 2026, 02:16 PM
Reviewed & Published: 28 Aug 2026, 02:34 PM
Views: 26
Tokens: 3,889
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম,
আমি একজন তলবে ইলম। আমাকে আমার এলাকার একজন ভাই প্রশ্ন করছে যে, আজ জুম্মার নামাযের আগে কারণবশত তার যৌণ উত্তেজনার কারণে লজ্জাস্থান থেকে বীর্জ বের হয়েছে। তার জন্য সে ফরজ গোসলেও করছে। তারপর সে যখন নামাযে দাঁড়িয়েছে তখন সে অনুভব করল যে তার লজ্জাস্থন থেকে তরল পদার্থ বের হচ্ছে। সে মনে করলে হয়ত এটি শয়তানের ওয়াস-ওয়াসা। কিন্ত নামায শেষ করে বাসায় গিয়ে চেক করে দেখল যে আসলেই তার লজ্জাস্থানের মাথায় সামান্য আঠালো মতো তরল পদার্থ লেগে আছে এবং প্যান্টেও তা সামান্য লেগে আছে। এখন প্রশ্ন হল ১. এক্ষেত্রে কি তার নামায হবে নামায হবে? ২.তার কি আবার ফরজ গোসল করতে হবে? ৩. যদি নামায না হয় তার এখন করনীয় কি যেহেতু এটি জুম্মার নামায ছিল?

Answer

উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

১ ও ২. নামাযের শুদ্ধতা এবং পুনরায় গোসল করার বিধান

আপনার বর্ণিত অবস্থায় ওই ব্যক্তির নামায সহীহ হয়নি এবং তার ওপর পুনরায় গোসল করা ফরয

শরয়ী কারণ ও বিশ্লেষণ: হানাফী মাযহাবের নির্ভরযোগ্য ও মুতামাদ (সর্বসম্মত) ফয়সালা অনুযায়ী, যদি যৌন উত্তেজনার কারণে বীর্য (মানি) বের হয় এবং ব্যক্তি প্রস্রাব না করে, বা না ঘুমিয়ে অথবা দীর্ঘ সময় পথ না চলেই গোসল করে ফেলে, অতঃপর গোসলের পর বীর্যের অবশিষ্টাংশ বের হয়; তবে উক্ত ব্যক্তিকে পুনরায় গোসল করতে হবে

যেহেতু ওই ব্যক্তি নামাযের পর বীর্যের আঠালো পদার্থ বের হতে দেখেছেন, যা পূর্ববর্তী উত্তেজনারই অবশিষ্টাংশ, তাই তার গোসল ভেঙ্গে গেছে এবং তিনি অপবিত্র (জুনুবী) অবস্থায় নামায পড়েছেন । আর অপবিত্র অবস্থায় নামায আদায় করলে তা বাতিল হয়ে যায় এবং পুনরায় পড়া ওয়াজিব।

  • কিতাব ও পৃষ্ঠা নম্বর:
    • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ৬৬ (গোসল ফরয হওয়ার বিবরণ) এবং পৃষ্ঠা ৬৭।
    • ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ১০২ (গোসলের পর বীর্য বের হওয়ার হুকুম)।
    • নূরুল ঈযাহ: পৃষ্ঠা ৩৩-৩৪ (যে সকল কারণে গোসল ফরয হয়)।

৩. জুম্মার নামাযের পরিবর্তে করণীয়

যেহেতু ওই ব্যক্তির জুম্মার নামায বাতিল হয়ে গেছে এবং বর্তমানে জুম্মার জামা'আত শেষ হয়ে গেছে, তাই তার করণীয় হলো:

  • যোহরের নামায আদায় করা: জুম্মার নামায জামা'আত ব্যতীত একা একা পড়া যায় না। যদি কারো জুম্মার নামায কোনো কারণে ফাসেদ (নষ্ট) হয়ে যায় অথবা জামা'আত ছুটে যায়, তবে তাকে ওই সময়ের ফরয হিসেবে ৪ রাকা'আত যোহরের নামায আদায় করতে হবে

  • তাওবা করা: নামাযের ভেতরে অপবিত্রতা অনুভব করার পর সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও নামায না ভেঙে শেষ করা এবং পরে অপবিত্রতা নিশ্চিত হওয়া একটি ভুল পদ্ধতি। এজন্য আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার করা উচিত।

  • কিতাব ও পৃষ্ঠা নম্বর:

    • দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ১৩৩ (মুসাফিরের নামায ও জুম্মা পরিচ্ছেদ)।
    • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ৩৫৫ (জুম্মার নামাযের শর্তাবলী)।

ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতা:

গোসল ফরয হওয়ার পর বীর্যের অবশিষ্টাংশ নালী থেকে বের করে দেওয়ার জন্য গোসলের আগে প্রস্রাব করা, ঘুমানো অথবা অন্তত ৪০ কদম হাঁটা জরুরি। যদি এই তিনটির কোনো একটিও না করে গোসল করা হয় এবং পরে বীর্য বের হয়, তবে পুনরায় গোসল করতে হবে। যদি প্রস্রাব করার পর গোসল করা হয় এবং পরে বীর্য বের হয়, তবে পুনরায় গোসল করতে হবে না, শুধু অযু করলেই চলবে।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.